Nepal
Bengal Liberty: নেপালের তিব্বত সীমান্তবর্তী রাসুয়া জেলায় ভয়াবহ হড়পা বানে বিপর্যস্ত বিস্তীর্ণ এলাকা। ভোতে কোশী নদীর জলস্তর আচমকা বেড়ে যাওয়ায় একাধিক গ্রাম ও পরিকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে আশঙ্কায় নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ ও উঁচু এলাকায় সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, রাসুয়া জেলার সিয়াপ্রুবেসি এবং তিমুরে হড়পা বানের প্রভাব সবচেয়ে বেশি। নদীর জলস্তরের উপর নিয়মিত নজরদারি চালানো হচ্ছে। উদ্ধার ও ত্রাণকাজে নামানো হয়েছে নেপাল পুলিশ ও সেনাবাহিনী। নদীর নিম্নবর্তী এলাকায় থাকা বাসিন্দাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।

রাসুয়ায় ভয়াবহ হড়পা বান (Nepal Flood)
রাসুয়ার জেলা প্রশাসক নরেন্দ্র পারিয়ার জানিয়েছেন, বেশ কয়েকটি গ্রাম এবং পরিকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের এলাকা ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। তবে এখনও পর্যন্ত হতাহতের সংখ্যা বা ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ হিসাব মেলেনি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তিনি বড় ধরনের প্রাণহানি বা সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেননি। নেপালের প্রধানমন্ত্রী বালেন্দ্র শাহ জানিয়েছেন, উদ্ধার ও ত্রাণকাজে প্রয়োজনীয় দল পাঠানো হয়েছে। প্রশাসনের তরফে স্থানীয় বাসিন্দাদের নদীর কাছাকাছি না যাওয়ার পাশাপাশি পরিস্থিতির উপর নজর রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভোতে কোশী নদীর উৎস তিব্বত অঞ্চলে। নেপালের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে এটি ত্রিশূলী নদীর জলপ্রবাহ ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। সেই জলপ্রবাহ পরে ভারতের দিকে এসে গণ্ডক নদী ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়। ফলে নেপালে নদীর জলস্তর ও বন্যা পরিস্থিতির প্রভাব ভারতের বিহার ও উত্তরপ্রদেশের নদী অববাহিকাতেও পড়তে পারে। এই কারণে সংশ্লিষ্ট এলাকাগুলিতে সতর্কতা বাড়ানো হয়েছে।

বাড়ছে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা (Nepal Flood)
এর আগেও ভোতে কোশী নদীতে ভয়াবহ বন্যার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের বন্যায় ন’জনের মৃত্যু এবং ২৪ জনের নিখোঁজ হওয়ার খবর পাওয়া গিয়েছিল। ভেসে গিয়েছিল নেপাল-চিন যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ ‘ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ’। এর জেরে দীর্ঘ সময় পরিবহণ ও বাণিজ্য ব্যাহত হয়েছিল। ওই বন্যার সঙ্গে তিব্বত অঞ্চলের একটি হিমবাহ-উপরিস্থ হ্রদের জল বেরিয়ে যাওয়ার যোগ থাকার সম্ভাবনার কথাও জানিয়েছিলেন আঞ্চলিক জলবায়ু পর্যবেক্ষকরা। নতুন করে হড়পা বানের ঘটনায় তাই নেপালের পাশাপাশি নদীর নিম্ন অববাহিকা অঞ্চলেও বাড়ছে উদ্বেগ। পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
আরও পড়ুনঃ
Islamabad Hospital Fire: ইসলামাবাদের হাসপাতালে ভয়াবহ আগুন, এসি ফেটে মৃত ১৫টি সদ্যোজাত শিশু

