Bengal Liberty:
সংস্কৃত ভাষার প্রতি ছাত্রছাত্রীদের আগ্রহ বাড়াতে এবার রাজ্যের সমস্ত সরকারি ও সরকারপোষিত স্কুলে পালন করা হবে ‘সংস্কৃত দিবস’। স্কুলশিক্ষা দফতরের নির্দেশ অনুযায়ী, অগস্টের শেষ সপ্তাহে অর্থাৎ ৩১ অগস্টের মধ্যে যে কোনও একদিন প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের স্কুলগুলিতে এই বিশেষ কর্মসূচি পালন করতে হবে (School Education Department)। মূল লক্ষ্য, পড়ুয়াদের প্রাচীন এই ধ্রুপদী ভাষা, তার ইতিহাস এবং ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে আরও পরিচিত করে তোলা।

সংস্কৃতিতে সংস্কৃত(School Education Department)
স্কুলশিক্ষা দফতরের নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, সংস্কৃত দিবসে প্রার্থনা সভায় অর্থ-সহ সংস্কৃত মন্ত্রপাঠের আয়োজন করতে হবে। পাশাপাশি সংস্কৃত কবিতা আবৃত্তি, গান, গল্প বলা এবং নাটকের মতো সাংস্কৃতিক কর্মসূচিও রাখতে হবে। এর ফলে পড়ুয়ারা শুধু সংস্কৃত ভাষা পড়বে না, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে ভাষাটিকে জানার এবং চর্চা করার সুযোগও পাবে।
সাধারণত স্কুলে সপ্তম ও অষ্টম শ্রেণিতে সংস্কৃত পড়ানো হয়। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতেও অনেক পড়ুয়া নিজেদের পছন্দ অনুযায়ী বিষয় হিসেবে সংস্কৃত বেছে নেয়। এবার প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক স্তরের সমস্ত পড়ুয়াকে একই কর্মসূচির সঙ্গে যুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

দিলীপ ঘোষের মন্তব্য (School Education Department)
এ প্রসঙ্গে রাজ্যের পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়ন মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ বলেন, “পশ্চিমবঙ্গ থেকে সংস্কৃত ভাষাকে উৎখাত করে দেওয়া হয়েছিল। অসংস্কারি লোকেরা ঘুরে বেড়াচ্ছিল এতদিন, সংস্কৃত এলে সংস্কার হবে। ভারতীয় সংস্কৃতির পরম্পরা, ইতিহাস জানা যাবে এই ভাষার মধ্য দিয়ে। পশ্চিমবঙ্গকে বাংলাদেশ বানানোর চেষ্টা হচ্ছিল, তারই প্রক্রিয়া চলছিল এতদিন। এবার পরিবর্তন হওয়া উচিত, সংস্কৃত ভাষা প্রতিষ্ঠা হলে পরবর্তী প্রজন্মের মধ্যে সংস্কৃতি ফিরবে।”
শিক্ষা দফতরের মতে, একটি ভাষার সঙ্গে পরিচিত হওয়ার অর্থ শুধু সেই ভাষা শেখা নয়। তার ইতিহাস, সাহিত্য, সংস্কৃতি এবং ঐতিহ্য সম্পর্কেও জানার সুযোগ তৈরি হয়। সংস্কৃত দিবসের মাধ্যমে পড়ুয়াদের মধ্যে ভাষা শেখার আগ্রহ, আবৃত্তি, সৃজনশীলতা এবং সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে।
বিশেষ পরিকল্পনা (School Education Department)
স্বাধীনতার পর রাজ্যে প্রথমবার সরকারি উদ্যোগে এইভাবে সংস্কৃত দিবস পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে। ফলে একদিনের এই কর্মসূচির পর ভবিষ্যতে সংস্কৃত ভাষার প্রসারে স্কুলশিক্ষা দফতরের আরও কোনও পরিকল্পনা আসে কি না, এখন সেদিকেই নজর।

আরও পড়ুনঃ এজেন্সি প্রথার অবসানের দাবিতে NSQF শিক্ষকদের আন্দোলনের ডাক

