Makhonlal Sarkar
Bengal liberty desk, 9 মে, কলকাতা:
আজ ব্রিগেডের তপ্ত রোদে যখন গেরুয়া আবির উড়ছে, যখন হাজার হাজার মানুষের ‘জয় শ্রীরাম’ ধ্বনিতে কেঁপে উঠছে কলকাতা, ঠিক তখনই এক শান্ত, সুন্দর এবং অত্যন্ত আবেগঘন দৃশ্যের সাক্ষী থাকল গোটা দেশ। বাংলার প্রথম বিজেপি সরকারের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি জনসমক্ষে পা ছুঁয়ে প্রণাম করলেন ৯৮ বছরের এক বৃদ্ধকে। কে এই মানুষটি? যাঁর আশীর্বাদ নিয়ে এক নতুন রাজনৈতিক ভোরের সূচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী! Makhonlal Sarkar

কে এই মাখন লাল সরকার? Makhonlal Sarkar
শিলিগুড়ির বাসিন্দা, বর্তমানে ৯৮ বছর বয়সী মাখন লাল সরকার হলেন বাংলার বিজেপির সেই আদি ও অকৃত্রিম মুখ, যিনি জনসঙ্ঘের প্রতিষ্ঠাতা ডঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ব্যক্তিগত সহযোগী ছিলেন। ১৯৫২ সালে যখন কাশ্মীরে তেরঙা উত্তোলনের আন্দোলনে উত্তাল দেশ, তখন শ্যামাপ্রসাদবাবুর ছায়াসঙ্গী হিসেবে কারাবরণ করেছিলেন এই মাখন লাল।

বিচারপতির এজলাসে দেশাত্মবোধক গান:
এদিন রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য মাখন লাল বাবুর জীবনের এক রোমাঞ্চকর কাহিনী শুনিয়েছেন। দিল্লির রাজপথে একদা দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য তাঁকে গ্রেপ্তার করেছিল তৎকালীন কংগ্রেস সরকারের পুলিশ। আদালতে বিচারপতি তাঁকে ক্ষমা চাইতে বললে তিনি সরাসরি না করে দেন এবং গর্বের সাথে জানান যে দেশাত্মবোধক গান গাওয়া কোনো অপরাধ নয়। এরপর বিচারপতির অনুরোধে ভরা আদালতে তিনি ফের সেই গানটি গেয়ে শোনান। মুগ্ধ হয়ে বিচারপতি তাঁকে সসম্মানে মুক্তি দেওয়ার নির্দেশ দেন এবং বাড়ির ফেরার জন্য প্রথম শ্রেণীর টিকিট ও হাতখরচ হিসেবে ১০০ টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করেন।

ব্রিগেডের মঞ্চে যখন দুই প্রজন্মের মিলন:
আজকের অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী মোদি যখন মঞ্চে ওঠেন, তখন তিনি নবতিপর এই বৃদ্ধকে কেবল সংবর্ধনাই দেননি, বরং পরম মমতায় জড়িয়ে ধরেন এবং তাঁর পা ছুঁয়ে আশীর্বাদ নেন। এই দৃশ্য দেখে উপস্থিত হাজার হাজার মানুষের চোখে জল এসে যায়। মাখন লাল বাবুও আদরের সাথে প্রধানমন্ত্রীর মাথায় হাত রেখে আশীর্বাদ করেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, এই প্রণাম আসলে কেবল একজন ব্যক্তির প্রতি নয়, বরং দলের দীর্ঘদিনের ত্যাগের রাজনীতির প্রতি মোদির বিনম্র শ্রদ্ধা।
এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা:
মাখন লাল সরকারের আশীর্বাদ নিয়েই আজ বাংলার মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। সঙ্গে শপথ নিলেন দিলীপ ঘোষ, অগ্নিমিত্রা পাল, নিশীথ প্রামাণিকদের মতো নেতৃত্বরাও। ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০৭টি আসন নিয়ে বাংলার ক্ষমতায় আসা বিজেপি আজ বুঝিয়ে দিল, নবীন ও প্রবীণের এই মেলবন্ধনই তাঁদের আগামী দিনের পথচলার চালিকাশক্তি।
আজকের ব্রিগেড কেবল ক্ষমতার হাতবদল দেখল না, দেখল এক প্রবীণ কর্মীর দীর্ঘ সংগ্রামের স্বীকৃতি। মাখন লাল সরকারের লাঠিতে ভর দিয়ে চলা ক্লান্ত শরীর আজ যেন প্রাণ ফিরে পেল প্রধানমন্ত্রীর এই সামান্য অথচ গভীর শ্রদ্ধার স্পর্শে। বাংলার রাজনীতিতে আজ সত্যিই এক মানবিক ভোরের অভিষেক হলো।
