CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty, ৯ মে :
রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু হয় না। আজ যিনি উপেক্ষিত, কাল তিনিই হয়তো সিংহাসনের দাবিদার (CM Suvendu Adhikari)। ২০১১ সালের এক ব্রিগেড সমাবেশ। পরিবর্তনের প্রবল জোয়ারে ভাসছে গোটা বাংলা। মঞ্চের এক কোণে কার্যত নীরব দর্শক হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন সেই তরুণ নেতা, যিনি জঙ্গলমহল আর পূর্ব মেদিনীপুরে বামেদের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন। সেদিন তাঁর হাতে মাইক ছিল না, ছিল এক বোঝা। কে জানত, সেই মানুষটির হাতেই ১৫ বছর পর লেখা হবে বাংলার নতুন ইতিহাস? ২০২৬ সালের মে মাসে খোদ ভবানীপুরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৫ হাজার ভোটে হারিয়ে বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন সেই উপেক্ষিত সেনাপতি-শুভেন্দু অধিকারী (CM Suvendu Adhikari)।

অবহেলার কাঁটায় কি ছিল দলবদলের নেপথ্যকাহিনি? (CM Suvendu Adhikari)
তৃণমূলের অন্দরে ক্ষমতার লড়াই এর গুঞ্জন প্রায় শোনা যেত। মুকুল রায় বনাম অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্নায়ুযুদ্ধের পাশাপাশি, নিজের প্রাপ্য সম্মান না পেয়ে ভিতরে ভিতরে হয়তো ফুঁসছিলেন শুভেন্দুও। মুকুলের দলত্যাগের পর তৃণমূলের রাশ যখন পুরোপুরি অভিষেকের হাতে, তখন যুব সংগঠনের শীর্ষপদেও আসে রদবদল। দিঘার বিশাল রাজ্য সম্মেলনের মূল কারিগর হয়েও ব্রাত্য থেকে যান তিনি। তার কাছে ক্রমশ স্পষ্ট হয়ে যায়, তাঁর জন্য দলে ‘নাম্বার টু’ হওয়ার রাস্তা চিরতরে বন্ধ। সেই বীজই মহীরুহ হয়ে ওঠে ২০২০ সালের ১৯ ডিসেম্বর, যেদিন অমিত শাহের হাত ধরে আনুষ্ঠানিকভাবে পদ্ম-শিবিরে যোগ দেন অধিকারী পরিবারের মেজো ছেলে।

হিন্দুত্বের নতুন মুখ ও বিরোধী দলের প্রধান কাণ্ডারী শুভেন্দু (CM Suvendu Adhikari)
বিজেপিতে তাঁর যোগদান নিছক কোনো রাজনৈতিক দলবদল ছিল না, বরং তা ছিল এক আদর্শগত পরিবর্তন। একুশের বিধানসভা নির্বাচনে খোদ দলনেত্রী মমতাকে তাঁরই বেছে নেওয়া রণাঙ্গন নন্দীগ্রামে পরাস্ত করে শুভেন্দু বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, তিনি হারার জন্য মাঠে নামেননি। এরপর বিধানসভায় তিনি হয়ে ওঠেন শাসকদলের বিপক্ষে বিরোধী দলনেতা। প্রায় ৩০০টি ফৌজদারি মামলার খাড়া ঝুললেও (যার মধ্যে ১৫টি হাইকোর্ট বাতিল করেছে), এক মুহূর্তের জন্য পিছু হঠেননি তিনি। অন্যদিকে, আরএসএস-এর ‘গণবেশ’ গায়ে চাপিয়ে হিন্দুত্বের স্রোতে নিজেকে মিশিয়ে দিয়েছেন সম্পূর্ণভাবে। মোদি-শাহের চোখে তিনি হয়ে উঠেছিলেন বাংলার সবচেয়ে জোরালো ও বিশ্বস্ত মুখ।

ছাব্বিশের মেরুকরণ (CM Suvendu Adhikari)
২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে মেরুকরণ, অনুপ্রবেশ এবং বাংলাদেশ ইস্যুতে তাঁর কড়া অবস্থান প্রমাণ করে দেয় যে বঙ্গ বিজেপিতে তাঁর কোনো বিকল্প নেই। তিনিই অবিসংবাদিত মুখ। তবে কড়া রাজনীতিকের এই কঠিন আবরণের আড়ালে লুকিয়ে আছে এক অন্য মানুষ। যিনি স্বামী বিবেকানন্দের একনিষ্ঠ ভক্ত, আবার খেলাধুলোতেও সমান আগ্রহী। ফুটবল ও ক্রিকেটের প্রতি তাঁর অমোঘ টান। এমনকী ব্যক্তিগত জীবনেও তিনি অন্যরকম; সাংসদ হিসেবে দিল্লিতে থাকাকালীন কলকাতা থেকে আনানো সামুদ্রিক মাছ দিয়ে অতিথি আপ্যায়নে তাঁর দারুণ আগ্রহ ছিল।
Suvendu Adhikari: শপথ নিলেন বাংলার নতুন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী | Bengal Liberty@SuvenduWB @BJP4Bengal #SuvenduAdhikari #RNRavi #suvenduadhikaribjp #WestBengalCM #BJPGovernment #BengalLiberty pic.twitter.com/BYsC43SRvU
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) May 9, 2026
রাজনীতি আসলে এক বিশাল দাবাখেলা, যেখানে কখন কে কিস্তিমাত করবে, তা আগে থেকে বলা অসম্ভব। এককালের সেই সেনাপতি আজ সেই নেত্রীর দেড় দশকের অজেয় সাম্রাজ্যকে ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছেন। শনিবার সেই ঐতিহাসিক ব্রিগেডের মাঠেই শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। তবে এবার আর মাইকের পিছনে দাঁড়িয়ে থাকা কোনো উপেক্ষিত দর্শক হিসেবে নয়, বরং মঞ্চের একেবারে মধ্যমণি হয়ে, রাজ্যের শাসক হিসেবে। বাংলার রাজনীতির ক্যানভাসে এর চেয়ে বড় উত্থানের গল্প হয়তো আর দ্বিতীয়টি নেই!
