celebrity at brigade
Bengal Liberty, 9 মে :
বাংলার আকাশে আজ বিজয়ের আবির। পনেরো বছরের ‘পারিবারিক তন্ত্র’ আর ঘাসফুলের একচ্ছত্র আধিপত্যের অবসান ঘটিয়ে আজ বিগ্রেডের ময়দানে উদিত হলো পদ্ম-সূর্য।২০৭ আসনের বিপুল ম্যান্ডেট নিয়ে আজ শপথ নিলেন শুভেন্দু অধিকারী। আজ সেই অনুষ্ঠানে রাজনীতির মহারথীদের পাশাপাশি লাইমলাইট কেড়ে নিল টলিপাড়ার নক্ষত্র সমাবেশ। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় থেকে মমতা শঙ্কর, যিশু সেনগুপ্ত থেকে পায়েল সরকার পিসি-ভাইপোর জমানার ভয় কাটিয়ে আজ মুক্ত মঞ্চে ধরা দিলেন টলিপাড়ার একঝাঁক নক্ষত্র। celebrity at brigade

বিগ্রেডে ‘বস’ আর ‘ইন্ডাস্ট্রি’র রাজকীয় এন্ট্রি ! celebrity at brigade
টলিউডের ‘বস’ জিৎ, যিনি সচরাচর কোনও রাজনৈতিক মিছিলে হাঁটেন না বা কোনও দলের ঝাণ্ডা হাতে প্রচারের ময়দানে নামেন না, তাঁর আজকের উপস্থিতি ছিল সবথেকে বড় চমক। সাদা পাঞ্জাবিতে সজ্জিত জিতের এই উপস্থিতি প্রমাণ করে দিল যে, বাংলার উন্নয়ন ও অগ্রগতির স্বার্থে তিনি এবার এক নতুন ভোরের সঙ্গী হতে প্রস্তুত। অন্যদিকে, স্বয়ং ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়-এর মঞ্চে আগমন ছিল এক শক্তিশালী বার্তা। যে বুম্বাদাকে কিছুদিন আগে রুদ্রনীল ঘোষের সাথে সৌজন্যমূলক আলাপের জন্য ‘কালীঘাটের রক্তচক্ষু’র ভয় দেখানো হয়েছিল, আজ তিনি সেই সব ভ্রুকুটি উপেক্ষা করে সগর্বে হাজির হলেন শুভেন্দু অধিকারীর রাজ্যাভিষেকে।
টলিপাড়ার এই দুই স্তম্ভের এক মঞ্চে উপস্থিতি আসলে বুঝিয়ে দিল বাংলার বিনোদন জগত আজ থেকে আর কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়, বরং তাঁরা এখন এক মুক্ত ও স্বাধীন পরিবেশে কাজ করার ছাড়পত্র পেলেন।

মঞ্চে মমতা শঙ্কর ও অজয় চক্রবর্তী: সংস্কৃতির জয়গান
রাজনীতির মঞ্চে যাঁদের এর আগে খুব একটা দেখা যায়নি, সেই প্রবাদপ্রতিম ধ্রুপদী সংগীতশিল্পী পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তী এবং কিংবদন্তি নৃত্যশিল্পী ও অভিনেত্রী মমতা শঙ্করকে আজ বিগ্রেডে দেখে আপ্লুত জনতা। তাঁদের উপস্থিতি প্রমাণ করে দিল যে, বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতি জগত আজ নতুন সরকারের ওপর কতটা আস্থাশীল। এদিন এই সমাবেশে বাকিদের সঙ্গে ছিলেন টলিপাড়ার অন্যতম জনপ্রিয় মুখ যীশু সেনগুপ্তও।

গ্ল্যামার আর ছোটপর্দার একঝাঁক মুখ
বিজেপির জয়ে টলিপাড়ার একাংশ যে কতটা উচ্ছ্বসিত, তা ধরা পড়ল তারকাদের ভিড়ে। কমলা শাড়ি আর রোদচশমায় নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী পায়েল সরকার। এ ছাড়াও ছোটপর্দায় জনপ্রিয় অভিনেতা ঋষি কৌশিক, কৌশিক চক্রবর্তী, কৌশিক রায়, অনুষ্কা চক্রবর্তী এবং অনুভব কাঞ্জিলালকে একসারিতে দেখা গেল। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন জয়ী তারকারাও রুদ্রনীল ঘোষ, শর্বরী মুখোপাধ্যায়, পাপিয়া অধিকারী, রূপা গঙ্গোপাধ্যায় এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়।

শৃঙ্খলমুক্ত টলিপাড়া?
বিজেপি সরকার গঠনের সাথেই টলিপাড়ার শিল্পীরা কি তবে শৃঙ্খলমুক্ত হলেন? গত এক দশকের অভিযোগ ছিল যে, নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দাসত্ব না করলে কাজ পাওয়া কঠিন। আজ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সামনে শুভেন্দু অধিকারীর শপথের দিনে টলিপাড়ার এই বিশাল উপস্থিতি যেন সেই পুরনো ‘রঙের রাজনীতির’ পতনকেই ঘোষণা করল। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে আজ থেকে বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতি জগতেও এক স্বচ্ছ এবং নিরপেক্ষ জমানা শুরু হতে চলেছে। বিগ্রেডে আজ শুধু রাজনীতির জয়গান নয়, সংস্কৃতির মিলন মেলাও বসল সগৌরবে।
