Dilip Ghosh
বেঙ্গল লিবার্টি, ৯ মে :
৯ মে ২০২৬ ! রাজনীতির ইতিহাসে স্বর্ণাক্ষরে রচিত এক বিশেষ দিন। দীর্ঘ ব্যর্থতা , অপবাদ কাটিয়ে যোগ্য সিংহাসনে বসলেন দিলীপ ঘোষ। যাকে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে বিজেপির একনিষ্ঠ কান্ডারি বলা যায় । একসময় দলের সমস্ত পদ হারিয়েও, শুধুমাত্র নিজের হার না মানা মানসিকতা এবং দলকে ভালোবেসে পড়ে থাকা। আজ, ব্রিগেডের মেগা মঞ্চে শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিলেন খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর ঠিক পরেই তাঁর শপথ গ্রহণ আজ বুঝিয়ে দিলো বঙ্গ বিজেপিতে দিলীপ ঘোষের ওজন আজও কতটা। Dilip Ghosh

সঙ্ঘের মাটি থেকে শুরু Dilip Ghosh
১৯৬৪ সালে ঝাড়গ্রামের এক সাধারণ পরিবারে জন্ম। ১৯৮৪ সালে RSS হাত ধরে সমাজসেবায় হাতেখড়ি। দীর্ঘ সময় আন্দামানের প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সঙ্ঘের প্রচারক হিসেবে কাজ করেছেন তিনি। ২০১৫ সালে যখন তিনি বঙ্গ বিজেপির সভাপতির দায়িত্ব পান, তখন এ রাজ্যে বিজেপির অস্তিত্ব ছিল নগণ্য। কিন্তু তাঁর ‘ঠোঁটকাটা’ স্বভাব আর গ্রাম-গঞ্জে ঘুরে সংগঠন তৈরির জেদ ২০১৯-এর লোকসভায় বিজেপিকে ১৮টি আসন এনে দেয়।

মেদিনীপুর থেকে বর্ধমান-দুর্গাপুর
২০২১-এর বিধানসভা ভোটে প্রত্যাশা অনুযায়ী ফল না হওয়ায় দিলীপ ঘোষকে সভাপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এমনকি ২০২৪-এর লোকসভা নির্বাচনে নিজের জেতা আসন মেদিনীপুর ছেড়ে তাঁকে লড়তে পাঠানো হয় বর্ধমান-দুর্গাপুরে। সেখান থেকে ফের হার এবং কেন্দ্রীয় কমিটির পদ চলে যাওয়া। অনেকেই মনে করেছিলেন ‘দিলীপ-অধ্যায়’ বুঝি শেষ। কিন্তু ‘লড়াকু’ দিলীপ হার মানেননি। পদহীন অবস্থাতেও মেদিনীপুর আর খড়্গপুরের মাটি কামড়ে পড়েছিলেন তিনি।
শমীকের জমানায় প্রত্যাবর্তন
পুরনো চাল যে ভাতে বাড়ে, তা আবারও প্রমাণিত হয় ২০২৫ সালে শমীক ভট্টাচার্য রাজ্য সভাপতির দায়িত্ব নেওয়ার পর। দলের পুরনো সেনাপতিদের গুরুত্ব দিতে শুরু করে শমীক-শুভেন্দু জুটি। বিধানসভা নির্বাচনে ফের খড়্গপুর সদর থেকে ৩০ হাজারের বেশি ভোটে জয়ী হয়ে ফেরেন দিলীপ। আর আজ, ৯ মে, সেই লড়াইয়ের পূর্ণতা পেল। প্রমান করলেন, ধৈর্যই আসল শক্তি।
বিজেপি মন্ত্রিসভা বিচক্ষণতার সাথে ফোর্সের মতো সংগঠন সামলানোর ক্ষমতা দিয়েছেন দিলীপ ঘোষকে। আসলে, মন্ত্রী সভায় তার মতো শক্ত হাতে রশি টেনে ধরার ক্ষমতা এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার মতো লোক কম আছে। নতুন মন্ত্রিসভা গঠন, শপথ অনুষ্ঠানে নিজেকে প্রদর্শন এবং হালকা মাপের খিলাড়ি যে দিলীপ ঘোষ নয়, তা আবার প্রমাণ হলো।
