Bengal Liberty, ৯ মে:
নবান্ন থেকে পিসি-ভাইপোর বিদায় হয়েছে ঠিকই, কিন্তু স্টুডিও পাড়ার অন্দরে এখনও রয়ে গিয়েছে সেই পুরনো ‘একগুঁয়েমি’ (Updates of EIMPA)। ইস্টার্ন ইন্ডিয়া মোশন পিকচার্স অ্যাসোসিয়েশন বা ইম্পা (EIMPA)-র অন্দরে এখন কার্যত যুদ্ধকালীন পরিস্থিতি। ছাব্বিশের বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির ঐতিহাসিক জয়ের পর যখন চারদিকে পরিবর্তনের হাওয়া, তখন ইম্পার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত কিছুতেই নিজের কুর্সি ছাড়তে রাজি নন। বিরোধীদের দাবি, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রীর মতোই ‘গদি’ আঁকড়ে থাকার এক অদ্ভুত নেশা পেয়েছেন তিনি।

‘প্রাক্তন’ হতে পিয়ারও ঘোর আপত্তি! (Updates of EIMPA)
শুক্রবার ইম্পার দপ্তরে এক রুদ্ধশ্বাস বৈঠকে বসেছিলেন টলিউডের প্রযোজক ও হল-মালিকরা। অরিজিৎ দত্ত, শতদীপ সাহা, রতন সাহা ও পীযূষ সাহাদের মতো ব্যক্তিত্বরা যখন পিয়াকে সসম্মানে পদত্যাগের অনুরোধ জানান, তখন পিয়া সেনগুপ্ত পাল্টা আদালতের হুঁশিয়ারি দেন। তাঁর সাফ কথা, “আদালত আমাকে অবৈধ ঘোষণা করলেই তবে পদত্যাগ করব।” রাজনৈতিক মহলের মতে, ঠিক যেমন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজয় মেনে নিতে না পেরে টালবাহানা করছেন, পিয়াও সেই পথেই হাঁটছেন।

ইম্পায় কি চলত ‘কাটমানি’ রাজ? (Updates of EIMPA)
পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমিয়েছে বিরোধী পক্ষ। শতদীপ সাহাদের দাবি, ‘বিশ্বাস ব্রাদার্স’ অর্থাৎ অরূপ ও স্বরূপ বিশ্বাসের ছত্রছায়ায় ইম্পাকে কার্যত তৃণমূলের পার্টি অফিসে পরিণত করেছিলেন পিয়া। অভিযোগের তালিকায় রয়েছে:
• বহিরাগত ভোটার: তৃণমূলী কায়দায় বহিরাগত ভোটার ঢুকিয়ে ইম্পার নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছে।
• আর্থিক লেনদেন: ছবি মুক্তির নাম করে অবৈধ লেনদেন এবং কাটমানি খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে পিয়া সেনগুপ্তের বিরুদ্ধে।
• স্বজনপোষণ: নিজের ছেলে বনি সেনগুপ্তকে সুবিধা পাইয়ে দিতে প্রযোজকদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং আইনক্স হল পাইয়ে দেওয়ার টোপ।

পিয়া সেনগুপ্তকে ‘দ্বিতীয় মমতা’ বলে আখ্যা (Updates of EIMPA)
বৈঠক শেষে ক্ষুব্ধ পরিবেশক ও হল-মালিক শতদীপ সাহা সরাসরি তোপ দেগে প্রশ্ন তোলেন, “পরিবর্তন সর্বত্রই কাম্য। তাহলে ইম্পাতেও সেটা হবে না কেন? কিসের টানে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতো কিছুতেই ‘গদি’ ছাড়তে চাইছেন না পিয়াদি?” শতদীপের অভিযোগ, পিয়া সেনগুপ্ত স্রেফ নিজের দাপট বজায় রাখতে প্রকৃত প্রযোজকদের একঘরে করে রেখেছেন। এমনকি নিজের সিনেমা হল খোলার অনুমতি পর্যন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে আটকে রাখা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
পাশে নেই শ্রীকান্ত-রানেরাও (Updates of EIMPA)
মজার বিষয় হলো, শ্রীকান্ত মোহতা, নিসপাল সিং রানে কিংবা শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের মতো হেভিওয়েট প্রযোজকরা ইম্পার অফিসে আসা বন্ধ করে দিয়েছেন। শতদীপ সাহার দাবি, এই নামী প্রযোজকরাও তলে তলে বিরোধী পক্ষের পাশেই আছেন এবং তাঁরাও টলিপাড়াকে দুর্নীতি ও রাজনৈতিক দাসত্ব থেকে মুক্ত করতে চান।
পিয়া সেনগুপ্ত ২০২৭ সাল পর্যন্ত সভাপতি থাকার যে দাবি করছেন, তা স্রেফ সময়ের অপেক্ষা বলেই মনে করছে রাজনৈতিক ও বিনোদন মহল। জনতা যেমন নবান্ন সাফ করেছে, তেমনই এবার ইম্পাকেও ‘পরিবারতন্ত্র’ ও ‘তৃণমূলী ছায়া’ মুক্ত করার ডাক দিয়েছেন টলিপাড়ার প্রকৃত কারিগররা।
আরও পড়ুন:
বিগ্রেডে টলিউডের ‘মহা-মেইলবন্ধন’! পিসি-ভাইপোর ভয় কাটিয়ে মুক্ত মঞ্চে বুম্বাদা-জিৎ! দেখেনিন এক নজরে কে কে এলেন ব্রিগেড ময়দানে?
