Topsia fire incident
Bengal liberty desk, 12 মে ,কলকাতা:
মঙ্গলবার দুপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সাক্ষী থাকল তপসিয়া। জিজে খান রোডের একটি পাঁচতলা বহুতলে আগুন লেগে প্রাণ হারালেন দুজন। এই ঘটনায় মোট ৭ জন গুরুতর অগ্নিদগ্ধ হয়েছিলেন, যাঁদের দ্রুত উদ্ধার করে চিত্তরঞ্জন ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকেরা রাজেশ (৩৫) এবং মহম্মদ হাসনুর জামাল নামে দুজনকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। বাকি ৫ জন এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। (Topsia fire incident)

ঠিক কী ঘটেছিল?
দমকল সূত্রে খবর, এদিন দুপুর পৌনে ২টো নাগাদ ৫০/১ জিজে খান রোডের ওই আবাসনের দোতলায় প্রথম আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে কালো ধোঁয়ায় ঢেকে যায় গোটা এলাকা। দোতলা থেকে আগুন দ্রুত ওপরের তলাগুলিতে ছড়িয়ে পড়ায় ভেতরে থাকা বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। আগুনের তীব্রতা এবং ধোঁয়ার কারণে সাতজন বেরোতে না পেরে ভেতরেই আটকে পড়েছিলেন। তাঁরাই মারাত্মকভাবে অগ্নিদগ্ধ হন। বর্তমানে চিকিৎসাধীন বাকি ৫ জনের শরীরেরও অনেকটা অংশ পুড়ে গিয়েছে, ফলে মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা করছে প্রশাসন।

উদ্ধারের তৎপরতা ও আগুনের কারণ:
খবর পেয়েই ঘটনাস্থলে পৌঁছায় দমকলের চারটি ইঞ্জিন। স্থানীয় বাসিন্দারাও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে উদ্ধারকাজে হাত লাগান। দমকলকর্মীরা মই ব্যবহার করে আটকে পড়া বাসিন্দাদের উদ্ধার করেন। প্রাথমিক তদন্তে দমকলের অনুমান, শর্ট সার্কিট থেকেই এই বিধ্বংসী আগুনের সূত্রপাত। আগুন লাগার আগে স্থানীয়রা একটি বিকট শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন বলেও দাবি করেছেন।
এলাকায় শোকের ছায়া:
তপসিয়ার এই ঘিঞ্জি এলাকায় আগুন লাগার ঘটনায় জনমনে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়েছে। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় দমকলের কাজ করতেও যথেষ্ট বেগ পেতে হয়। বহুতলটিতে অগ্নি-সুরক্ষার পর্যাপ্ত ব্যবস্থা ছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ও দমকল বাহিনী। এই মর্মান্তিক ঘটনায় গোটা এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
