Enayetullah Arrested
Bengal Liberty, 15 may:
মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে পুরনো খুনের মামলায় তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি মহম্মদ এনায়েতুল্লাহর গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে জেলা রাজনীতিতে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। শুক্রবার মুর্শিদাবাদ জেলা পুলিশের বিশেষ দল তাঁকে গ্রেফতার করে। আজ ধৃত নেতাকে জেলা আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় ঘটে যাওয়া রক্তক্ষয়ী রাজনৈতিক সংঘর্ষের তদন্তে এই গ্রেফতারিকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। (Enayetullah Arrested)

পঞ্চায়েত ভোটের পুরনো ফাইল খুলতেই বিপত্তি Enayetullah Arrested
পুলিশ সূত্রে খবর, ২০২৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনের সময় নবগ্রাম ব্লকের বিভিন্ন এলাকায় রাজনৈতিক হিংসা ছড়িয়ে পড়ে। অভিযোগ, সেই সময় এক খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে যুক্ত থাকার অভিযোগ ওঠে এনায়েতুল্লাহর বিরুদ্ধে। ঘটনার পর থেকেই তদন্ত শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ সময় ধরে বিভিন্ন তথ্যপ্রমাণ সংগ্রহ, প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান রেকর্ড এবং একাধিক নথি খতিয়ে দেখার পর তদন্তকারী আধিকারিকরা গ্রেফতারির সিদ্ধান্ত নেন বলে জানা গিয়েছে।
জেলা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, তদন্ত এখনও চলমান থাকায় মামলার সব তথ্য এই মুহূর্তে প্রকাশ করা সম্ভব নয়। তবে ধৃতকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশি হেফাজতের আবেদন জানানো হতে পারে। আদালতের নির্দেশের ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছেন তদন্তকারীরা। পুলিশের দাবি, মামলার তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সূত্র মিলেছে, যার ভিত্তিতেই এই গ্রেফতারি।

পুলিশের বিশেষ অভিযানে জালে দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা
এই ঘটনায় নবগ্রাম ও সংলগ্ন এলাকায় চাপা উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। প্রশাসনের তরফে কোনও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ রাস্তার মোড়, বাজার এলাকা এবং রাজনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর জায়গাগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের একাংশের দাবি, পঞ্চায়েত ভোটের সময় এলাকায় আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সেই সময়কার হিংসার তদন্তে পুলিশের সক্রিয় ভূমিকা সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
রাজনৈতিক মহলেও এই গ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে জোর চর্চা শুরু হয়েছে। বিরোধী দলগুলির বক্তব্য, আইন সবার জন্য সমান হওয়া উচিত এবং রাজনৈতিক পরিচয় দেখে নয়, নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমেই দোষীদের চিহ্নিত করা প্রয়োজন। তাদের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তদন্তকে প্রভাবিত করার চেষ্টা হয়েছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা উচিত। যদিও জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও প্রতিক্রিয়া দেয়নি। দলের অন্দরে বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি তৈরি হয়েছে বলেই রাজনৈতিক মহলের অনুমান। কারণ, একজন ব্লক সভাপতির গ্রেফতারি স্থানীয় সংগঠনের উপর সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।
বিশেষ করে আগামী রাজনৈতিক কর্মসূচি ও সাংগঠনিক প্রস্তুতিতে এই ঘটনার প্রভাব পড়বে কি না, তা নিয়েও জল্পনা শুরু হয়েছে। বর্তমানে গোটা জেলার নজর আদালতের দিকে। পুলিশি হেফাজত নাকি জেল হেফাজত— আদালতের সিদ্ধান্তই ঠিক করবে মামলার পরবর্তী গতিপথ। একইসঙ্গে তদন্তে আরও নতুন কোনও তথ্য সামনে আসে কি না, সেদিকেও কৌতূহল বাড়ছে। রাজনৈতিক সংঘর্ষ, নির্বাচনী হিংসা এবং প্রশাসনিক পদক্ষেপ— সব মিলিয়ে নবগ্রামের এই ঘটনা এখন মুর্শিদাবাদের অন্যতম আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে।
