TMC Damage Control
Bengal Liberty, ১৫ মে :
বিধানসভা নির্বাচনে শোচনীয় পরাজয়ের ধাক্কা সামলে সংগঠনকে চাঙ্গা করতে নতুন কৌশল নিতে শুরু করেছে তৃণমূল কংগ্রেস (TMC Damage Control)। ভোটের ফল প্রকাশের পর থেকেই দলের অন্দরে হতাশা, কর্মীদের একাংশের নিষ্ক্রিয়তা এবং বহু এলাকায় সংগঠনের ভাঙনের ছবি সামনে এসেছে। এই পরিস্থিতিতে দলীয় কর্মীদের মনোবল ফেরাতে সমাজমাধ্যমকে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে চাইছে কালীঘাট শিবির। পাশাপাশি শুক্রবার রাজ্যজুড়ে জেলাভিত্তিক আইনি সেল গঠনের সিদ্ধান্তও নিল তৃণমূল নেতৃত্ব (TMC Damage Control)।

মমতা অভিষেকের বৈঠক (TMC Damage Control)
দলীয় সূত্রের খবর, কয়েকদিন আগেই কালীঘাটের বাসভবনে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় সমাজমাধ্যমের সঙ্গে যুক্ত কর্মীদের নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে পুরনো সোশ্যাল মিডিয়া কমিটিগুলি ভেঙে দিয়ে নতুনভাবে সংগঠন সাজানোর বার্তা দেওয়া হয়। ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব ও এক্স প্ল্যাটফর্মে আরও আক্রমণাত্মক রাজনৈতিক প্রচারের উপর জোর দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।

তৃণমূলের দাবি (TMC Damage Control)
তৃণমূলের দাবি, ভোট-পরবর্তী সময়ে বহু কর্মী-সমর্থক রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হচ্ছেন। বিভিন্ন জেলায় দলীয় কর্মীদের বিরুদ্ধে “মিথ্যা মামলা” দায়ের করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ তুলেছে তারা। সেই কারণেই নতুন আইনি সেল গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি জেলায় আইনজীবীদের নিয়ে পৃথক টিম তৈরি করা হবে, যারা আক্রান্ত কর্মীদের আইনি সহায়তা দেবে। পাশাপাশি যেসব নেতা-কর্মী এলাকা ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন, তাঁদের “ঘরে ফেরানো” নিয়েও কাজ করবে এই সেল।
তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ মনে করছে, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে সংগঠনকে ধরে রাখতে আইনি ও ডিজিটাল— দুই স্তরেই লড়াই চালাতে হবে। রাজ্য স্তর থেকে গোটা বিষয়টি মনিটরিং করা হবে বলেও জানানো হয়েছে। দলের বার্তা, “পার্টি কর্মীদের পাশে আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।”

সমাজমধ্যমকে হাতিয়ার করার পরামর্শ নেতা কর্মীদের (TMC Damage Control)
তবে দলের অন্দরেই এই কৌশল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তৃণমূলের একাংশ নেতার মতে, শুধুমাত্র সমাজমাধ্যমে সক্রিয় থাকলেই মাঠের রাজনীতিতে ঘুরে দাঁড়ানো সম্ভব নয়। তাঁদের বক্তব্য, দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার ফলে মানুষের মধ্যে যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, এবারের নির্বাচনে তারই প্রতিফলন দেখা গিয়েছে। বাংলার মানুষ যেভাবে বিজেপির পক্ষে রায় দিয়েছে, তার পরে আগামী দীর্ঘ সময় রাজ্যের রাজনীতিতে তৃণমূলের পথ কঠিন হয়ে উঠবে বলেই মত রাজনৈতিক মহলের একাংশের।
সব মিলিয়ে বড় পরাজয়ের পর সংগঠনকে পুনর্গঠনের লড়াইয়ে এখন ডিজিটাল প্রচার, আইনি সহায়তা এবং কর্মীদের ধরে রাখাকেই প্রধান অস্ত্র করতে চাইছে কালীঘাট নেতৃত্ব।
