Bengal Liberty, প্রাইমা হোসেন: (বিশিষ্ট সমাজ সেবিকা ও সংগঠক , বিশিষ্ট শিল্পপতি মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আলহাজ্ব হাজী দ্বীন ইসলাম চৌধুরীর কনিষ্ঠ কন্যা)
দেশের এই গভীর ক্রান্তিলগ্নে সমস্ত প্রতিকূলতা ও প্রতিবন্ধকতা ডিঙিয়ে দেশকে রক্ষা করার জন্য বাঙালি জাতি আজও বিশ্বাস করে—শেখ হাসিনার (Value of Sheikh Hasina) নেতৃত্বেই বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের প্রকৃত উন্নয়ন ও পরিবর্তন সম্ভব। তাঁর সুদক্ষ দিকনির্দেশনা ও দূরদর্শিতাই পারে বাঙালি জাতিকে বর্তমানের কঠিন দুর্দশা, অরাজকতা, নৈরাজ্য ও দুঃশাসন থেকে মুক্তি দিতে।
গত দুই বছর (২০২৪-২০২৫) ধরে বাংলাদেশ যে চরম বাস্তবতার মধ্য দিয়ে গেছে, তা কোনোভাবেই অস্বীকার করার উপায় নেই।

রাজনৈতিক অস্থিরতা ও গণতন্ত্রের সংকট (Value of Sheikh Hasina)
২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারির দ্বাদশ জাতীয় নির্বাচনে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি ও অন্যান্য দল অংশ না নেওয়ায় নির্বাচনটি একতরফা রূপ নেয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এটিকে ‘নির্বাচনী গণতন্ত্রের ছায়া’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যেখানে ভোটারদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ, প্রকৃত প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও জবাবদিহিতা প্রায় অনুপস্থিত ছিল।
পরবর্তীতে, ২০২৪ সালের আগস্টে দেশের সরকার পরিবর্তনের পর রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও তীব্র ও অস্থির হয়ে ওঠে। নোবেল বিজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নিলেও, আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থকদের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে এক প্রকার নিষেধাজ্ঞা জারি করায় রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বিভাজন আরও চরম আকার ধারণ করে।

অর্থনীতির ওপর ধাক্কা ও প্রবৃদ্ধির মন্থরতা (Value of Sheikh Hasina)
রাজনৈতিক এই অস্থিরতার সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে দেশের অর্থনীতির ওপর।
প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস হ্রাস: এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (ADB) ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস আগের ৬.৬% থেকে কমিয়ে ৫.১% করেছে।
জনজীবনে টানাপোড়েন: উচ্চ মূল্যস্ফীতি, টাকার ধারাবাহিক অবমূল্যায়ন, এবং জ্বালানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্যের আকাশচুম্বী দাম মধ্যবিত্ত ও নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

বিশ্বব্যাংকের সমীক্ষা: বিশ্বব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৫%-এ নেমে এসেছে। বিনিয়োগকারীদের আস্থা হ্রাস পাওয়ায় দেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে।
আইন-শৃঙ্খলার অবনতি ও সামাজিক নিরাপত্তাহীনতা
এডিবির রিপোর্টে স্পষ্ট বলা হয়েছে যে, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির এই পতনের অন্যতম প্রধান কারণ ভঙ্গুর আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং আর্থিক খাতের প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা। বর্তমানে সাধারণ মানুষের মধ্যে এক ধরনের গভীর নিরাপত্তাহীনতা, ভয় ও ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
সংকটের মাঝেও সম্ভাবনার আলো: আশার জায়গা কোথায়? (Value of Sheikh Hasina)
এই ঘন অন্ধকারের মধ্যেও দেশের রপ্তানি খাত এখনও নিজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। বিশেষ করে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক (RMG) খাতের বৈশ্বিক প্রতিযোগিতামূলক সুবিধা এখনও বজায় রয়েছে। পাশাপাশি দেশের ডিজিটাল অর্থনীতি, ই-কমার্স এবং স্টার্টআপ ইকোসিস্টেম ধীরলয়ে হলেও নিজেদের প্রসার ঘটিয়ে চলেছে।
বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে যদি কাঙ্ক্ষিত রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে আসে, তবে প্রবৃদ্ধি পুনরায় ৫.৪%-এ উন্নীত হতে পারে; সেই সাথে কমবে মূল্যস্ফীতি এবং বাড়বে অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বিনিয়োগ।

মুক্তির পথ ও আমাদের করণীয় (Value of Sheikh Hasina)
বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। একদিকে অরাজকতা আর অর্থনৈতিক তীব্র চাপ, অন্যদিকে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াকু মানুষের আকাশচুম্বী প্রত্যাশা। তবে ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, যেকোনো বড় সংকটে বাঙালি জাতি সবসময় সঠিক ও অভিজ্ঞ নেতৃত্ব খুঁজে নিয়েছে।
দেশের সিংহভাগ মানুষের বিশ্বাস—দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা, শক্তিশালী আন্তর্জাতিক যোগাযোগ এবং মাঠপর্যায় থেকে উঠে আসা আপসহীন নেতৃত্বগুণ ও রাজনৈতিক পথচলার কারণে একমাত্র শেখ হাসিনার নেতৃত্বই পারে এই সকল প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে দেশকে পুনরায় স্থিতিশীলতা, টেকসই উন্নয়ন ও সুসংহত গণতন্ত্রের পথে ফিরিয়ে নিতে।
এখন প্রশ্ন একটাই—জাতি কি অতীত ভুলে আবার ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই সমৃদ্ধির পথে হাঁটবে?
আরও পড়ুন:
বেআইনি দখলদারি বরদাস্ত নয়! অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়ির নিচের পুলিশি ছাউনি ভাঙার নির্দেশ দিল পুরসভা
