Referee Issue
Bengal Liberty, ৯ জুন, ২০২৬ : ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬ একেবারে দোরগোড়ায়। প্রথমবারের মতো যৌথভাবে(Referee Issue) তিনটি আয়োজক দেশ, ৪৮টি দল এবং ১০৪টি রুদ্ধশ্বাস ম্যাচের মহাযজ্ঞ দেখতে মুখিয়ে আছে সারা বিশ্ব। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর সময় যত এগিয়ে আসছে, বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে ততই দানা বাঁধছে একের পর এক বিতর্ক। এবার বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এবং আফ্রিকার অন্যতম সেরা রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতান।
ট্রাম্পের নীতি ও প্রবেশাধিকার প্রত্যাখ্যান (Referee Issue)
আফ্রিকার অন্যতম শীর্ষ রেফারি ওমর আবদুলকাদির আরতানকে আমেরিকায় প্রবেশের অনুমতি দেয়নি মার্কিন প্রশাসন। মায়ামি বিমানবন্দর থেকেই পত্রপাঠ তাঁকে ফেরত (ডিপোর্ট) পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে। ওমরের অপরাধ? তাঁর নাগরিকত্ব। তিনি সোমালিয়ার নাগরিক, আর ট্রাম্প প্রশাসন সোমালিয়ার নাগরিকদের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে রেখেছে।

২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপ থেকেই সফলভাবে রেফারির দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ওমর। আসন্ন বিশ্বকাপের জন্য ফিফার ঘোষিত ৫২ জনের চূড়ান্ত তালিকাতেও তাঁর নাম ছিল। তবে সোমালিয়ার পাসপোর্ট নিয়ে মার্কিন মুলুকে পাড়ি দেওয়া যে সমস্যার হতে পারে, তা প্রথম থেকেই আভাস পাওয়া যাচ্ছিল। দীর্ঘ টালবাহানার পর নাইরোবির সোমালিয়া দূতাবাস এই সমস্যা সমাধানে এগিয়ে আসে এবং ওমরের জন্য একটি কূটনৈতিক (Diplomatic) পাসপোর্টের ব্যবস্থা করে। কারণ মার্কিন অভিবাসন নীতি অনুযায়ী, কূটনৈতিক পাসপোর্ট থাকলে সোমালিয়ার নাগরিকদের ক্ষেত্রে প্রবেশের বিধিনিষেধ কিছুটা শিথিল করা হয়।

বিমানবন্দর থেকে ফেরত ও সোমালিয়ার প্রতিক্রিয়া (Referee Issue)
সেই ভরসাতেই সোমবার মায়ামি বিমানবন্দরে নামেন ওমর। একরাশ স্বপ্ন নিয়ে জীবনের অন্যতম বড় প্রতিযোগিতায় মাঠে নামার জন্য ১০০ শতাংশ প্রস্তুত ছিলেন তিনি। কিন্তু সমস্ত প্রত্যাশায় জল ঢেলে বিমানবন্দর থেকেই তাঁকে ডিপোর্ট করা হয়। কেন বৈধ নথিপত্র থাকা সত্ত্বেও ওমরের মতো একজন আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বকে আমেরিকায় ঢুকতে দেওয়া হলো না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই সোমালিয়ার ফুটবল ফেডারেশন ক্ষোভ উগরে দিয়েছে।

তারা পুরো ঘটনার ব্যাখ্যা চেয়ে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ামক সংস্থা ফিফা (FIFA)-র দ্বারস্থ হয়েছে।
এদিকে বিশ্বকাপের আর মাত্র তিন দিন বাকি থাকলেও, এই গোটা বিষয়টি থেকে কার্যত দায় ঝেড়ে ফেলেছে ফিফা। মাঠের খেলা শুরুর আগেই একের পর এক মাঠের বাইরের বিতর্ক বিশ্বকাপের গায়ে নেতিবাচক দাগ লাগিয়ে দিচ্ছে।

