Constitution 130th Amendment Bill 2025
Bengal Liberty, নয়াদিল্লি: মাত্র ৩০ দিন জেলে থাকলেই পদ হারাতে হবে মুখ্যমন্ত্রী, সাধারণ মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীকেও। সংসদে বুধবার যে ৩টি বিল (Constitution 130th Amendment Bill 2025, The Government of Union Territories (Amendment) Bill 2025, Jammu and Kashmir Reorganisation (Amendment) Bill 2025) পেশ হয়েছে, তা পাশ হলে এই নতুন আইন কার্যকর হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ সংশ্লিষ্ট বিলগুলো পেশ করতেই সংসদের অভ্যন্তরের পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। দফায়-দফায় মুলতুবি হয়ে যায় সংসদ। বিরোধীরা এই ৩টি বিলকে ‘কালা কানুন’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করছে, অ-বেজিপি শাসিত রাজ্যগুলোর মুখ্যমন্ত্রীকে সরাতে এবং নির্বাচিত সরকার ফেলতে উদ্যোগী কেন্দ্র। এই বিরোধীতার সূত্র ধরেই বুধবার সকাল থেকেই ইন্ডিয়া জোটের সদস্যরা নানা প্রতিক্রিয়া দিতে শুরু করেন। এমনকি বক্তব্য রাখার সময় অমিত শাহকে লক্ষ্য করে কাগজ ছুড়ে মারাও হয়।
বিরোধীদের অভিযোগ (Constitution 130th Amendment Bill 2025 were today introduced in the Lok Sabha):
এই আইন ব্যবহার করে কেন্দ্র বিরোধী-শাসিত রাজ্যগুলোর সরকারকে ফেলে দিতে চাইছে কেন্দ্র।
এই প্রসঙ্গে কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক মনু সিংভি এক্স হ্যান্ডেলে লেখেন-
“বিরোধীদের অস্থির করার সেরা উপায় হ’ল পক্ষপাতদুষ্ট কেন্দ্রীয় এজেন্সিকে নামিয়ে মুখ্যমন্ত্রীদের গ্রেফতার করা। ভোটে হারাতে না পারলে জেলে ভরে দিন।”

প্রসঙ্গত, গত বছর তিনি ৬ মাস জেলে ছিলেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল। প্রায় ৬ মাস জেলে ছিলেন তিনি। সংশোধনাগারে বসেই সরকার চালান মাফলার ম্যান। রাজনৈতিক মহলের বক্তব্য, সেই সময় এই আইন থাকলে ৩১ দিনের মাথায় মুখ্যমন্ত্রীর পদ চলে যেত কেজরিওয়ালের।
সংবিধান (১৩০তম সংশোধনী) বিল ২০২৫
প্রধানমন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী বা কোনও মন্ত্রী টানা ৩০ দিন হেফাজতে থাকলে পদ খোয়াবেন।
এক্ষেত্রে শর্ত হ’ল (Constitution 130th Amendment Bill 2025 were today introduced in the Lok Sabha):
- ১) অভিযোগের প্রেক্ষিতে শাস্তি অন্তত ৫ বছর বা তার বেশি হতে হবে।
- ২) জামিনে ছাড়া পেলে রাষ্ট্রপতি বা রাজ্যপালের অনুমোদনে ফের নিয়োগ হতে পারবেন।
এই বিল কেন এনেছে কেন্দ্র? (Constitution 130th Amendment Bill 2025 were today introduced in the Lok Sabha)
- ১) বর্তমানে মন্ত্রীরা গ্রেফতার হলেও পদে থাকার নিয়মে বাধা নেই।
- ২) জনপ্রতিনিধি আইন (Representation of People’s Act) অনুযায়ী, এমপি-এমএলএ দোষী সাব্যস্ত হলে পদ খোয়াতে হবে।
- ৩) কেজরিওয়াল বা তামিলনাড়ুর মন্ত্রী ভি. সেন্টিল বালাজি—দু’জনের ঘটনাতেই কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছিল।
বিল পেশ হওয়ার পর বিরোধীদের আশঙ্কা, ইডি-সিবিআই-এর মতো সংস্থা দিয়ে রাজনৈতিকভাবে গ্রেফতারি বৃদ্ধি পাবে।
নতুন আইন পাস হলে ভারতীয় রাজনীতিতে বিরাট পরিবর্তন আসতে পারে। তবে সঠিকভাবে প্রয়োগ হলে অপরাধী রাজনীতিকদের রুখতে সহায়ক। আর এটির অপব্যবহার হলে বিরোধীদের আশঙ্কা মতো সরকার পতনের হাতিয়ারও হতে পারে।
