Bengal Liberty
মরণোত্তর(Sharadwat Mukherjee)অঙ্গদানকে উৎসাহিত করলেও মরণোত্তর দেহদান না করার পরামর্শ দিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। তাঁর এই মন্তব্য ঘিরেই এবার তীব্র আপত্তি জানাল পশ্চিমবঙ্গ বিজ্ঞান মঞ্চ। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে সাধারণ মানুষের মধ্যে দেহদান ও অঙ্গদান নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হচ্ছে বলে দাবি বিজ্ঞান মঞ্চের।

বিজ্ঞান মঞ্চের দাবি(Sharadwat Mukherjee)
বিজ্ঞান মঞ্চের বক্তব্য, বহু বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গে মরণোত্তর দেহদান ও অঙ্গদান নিয়ে সচেতনতা গড়ে তোলার কাজ চলছে। কুসংস্কার ও মৃত্যুভীতি দূর করে বিজ্ঞানমনস্ক এবং মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে এই আন্দোলনে বহু মানুষ যুক্ত হয়েছেন। ফলে দায়িত্বশীল পদে থাকা কোনও মন্ত্রীর মন্তব্যে যদি দেহদান সম্পর্কে মানুষের মধ্যে অনাগ্রহ তৈরি হয়, তা অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় বলে মনে করছে সংগঠনটি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের যে অংশে মরণোত্তর দেহদানকে নিরুৎসাহিত করা হয়েছে, তারও বিরোধিতা করেছে বিজ্ঞান মঞ্চ। তাদের দাবি, চিকিৎসাবিজ্ঞানের শিক্ষায় মরণোত্তর দেহদানের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। অ্যানাটমির ছাত্রছাত্রীরা মানবদেহের গঠন হাতে-কলমে শেখার সুযোগ পান দান করা দেহের মাধ্যমে। শুধু AI বা থ্রিডি ইমেজিংয়ের মাধ্যমে এই বাস্তব অভিজ্ঞতার বিকল্প তৈরি করা সম্ভব নয় বলেও মত সংগঠনের।
আরও খবর
সচেতনতার বার্তা(Sharadwat Mukherjee)
পাশাপাশি মরণোত্তর অঙ্গদানের গুরুত্বও তুলে ধরেছে বিজ্ঞান মঞ্চ। ব্রেন ডেথের পর হৃদপিণ্ড, ফুসফুস, কিডনি, কর্নিয়া, ত্বক-সহ বিভিন্ন অঙ্গ ও টিস্যু প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে বহু মানুষের জীবন বাঁচানো বা দৃষ্টিশক্তি ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব। তবে অঙ্গদানের ক্ষেত্রে ব্রেন ডেথ ঘোষণার প্রক্রিয়া এবং হাসপাতাল-প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়ের অভাব বড় বাধা বলেও অভিযোগ বিজ্ঞান মঞ্চের। তাই মরণোত্তর দেহদান নিরুৎসাহিত না করে প্রশাসনিক জটিলতা দূর করা, ব্রেন ডেথ ঘোষণার প্রক্রিয়া দ্রুত ও বিকেন্দ্রীকৃত করা এবং হাসপাতালগুলির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলির সমন্বয় বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে তারা। বিজ্ঞান মঞ্চের স্পষ্ট বক্তব্য, ‘‘মরণোত্তর দেহদান ও অঙ্গদান শুধু চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য দান নয়, বিজ্ঞানমনস্কতা ও মানবিক চেতনা গড়ে তোলারও গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক আন্দোলন।’’



