Bengal Liberty, kolkata :
ভারতকে সরাসরি হুমকি ঘিরে নতুন করে উত্তেজনা ছড়াল উপমহাদেশে (India security threat)। পাকিস্তানের প্রাক্তন ভারতীয় হাইকমিশনার আব্দুল বাসিত–এর এক বিস্ফোরক মন্তব্য ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। একটি টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি এমন ইঙ্গিত দিয়েছেন, যা নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং প্ররোচনামূলক।

কী বলেছেন আব্দুল বাসিত India security threat
একটি পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে দেওয়া সাক্ষাৎকারে আব্দুল বাসিত দাবি করেন, যদি কখনও আমেরিকা বা ইসরায়েল পাকিস্তানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালায় এবং পাকিস্তান সরাসরি পাল্টা জবাব দিতে না পারে, তাহলে ভারতই তাদের লক্ষ্য হতে পারে। তাঁর কথায়, পরিস্থিতি চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছলে পাকিস্তান “বিকল্প” হিসেবে ভারতকে আক্রমণ করতে পিছপা হবে না। এই মন্তব্যে সরাসরি উঠে আসে ২০০৮ সালের ভয়াবহ মুম্বই হামলার প্রসঙ্গ, যা আবারও নতুন করে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছে।

আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে উত্তেজনা
এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন মধ্যপ্রাচ্যে আমেরিকা-ইসরায়েল-ইরান ঘিরে সংঘাত ক্রমশ জটিল হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহলে পাকিস্তানের পারমাণবিক নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বিভিন্ন বিশ্লেষকের মতে, এই ধরনের বক্তব্য পাকিস্তানের কৌশলগত অবস্থান এবং ‘প্রক্সি ওয়ারফেয়ার’ মানসিকতার ইঙ্গিত দেয়।
আরও খবর
ভারতের নিরাপত্তা মহলের প্রতিক্রিয়া
ভারতের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত মহলে এই মন্তব্যকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু সরাসরি যুদ্ধের হুমকি নয়, বরং সন্ত্রাসবাদ, সাইবার আক্রমণ কিংবা অন্যান্য ‘হাইব্রিড থ্রেট’-এর সম্ভাবনাও উসকে দেয়। তবে সরকারি স্তরে এখনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া না এলেও, সেনা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলি পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে বলে সূত্রের খবর।
‘ইন্ডিয়া-ফোকাসড’ মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন
বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, এই মন্তব্যে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের ‘ইন্ডিয়া-কেন্দ্রিক’ নীতিরই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে। দূরের কূটনৈতিক সংঘাতের মধ্যেও ভারতের নাম টেনে আনা এটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, বরং একটি গভীর নিরাপত্তা-সংক্রান্ত মানসিকতার ইঙ্গিত।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রতিক্রিয়া
এই মন্তব্য ভাইরাল হতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। বহু ভারতীয় নেটিজেন এই বক্তব্যের কড়া সমালোচনা করেছেন এবং পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।
সব মিলিয়ে, এক প্রাক্তন কূটনীতিকের এই মন্তব্য শুধু রাজনৈতিক বিতর্কই তৈরি করেনি, বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়েও নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বর্তমান আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিতে এই ধরনের বক্তব্য কতটা প্রভাব ফেলবে, সেটাই এখন দেখার।


