Girish Park Clash Kolkata
Bengal Liberty Desk, ১৫ মার্চ, কলকাতা: গতকাল, শনিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ব্রিগেডের দিনই রণক্ষেত্র হয়ে উঠেছিল গিরিশ পার্ক (Girish Park)। রাজ্যের মন্ত্রী শশী পাঁজার বাড়িতে ইট ও পাথরবৃষ্টির অভিযোগ ওঠে। তৃণমূল ও বিজেপি দুপক্ষই একে অপরের দিকে অভিযোগের আঙুল তুলেছে। এবার সেই ঘটনায় মোট গ্রেফতারের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ৯। গতকাল এই ঘটনায় গ্রেফতার করা হয়েছিল ৪ জনকে। আর আজ, রবিবার সকালে আরও পাঁচ জনকে নিজেদের হেফাজতে নেয় পুলিশ। এদিন ধৃতদের ব্যাঙ্কশাল আদালতে পেশ করা হলে আগামী ১৯ মার্চ পর্যন্ত তাদের পুলিশ হেফাজতে পাঠিয়েছে বিচারক (Girish Park Clash Kolkata)।

তৃণমূল-বিজেপি দু’পক্ষের তরফেই থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছিল। মন্ত্রীর বাড়িতে হামলার ঘটনায় তৃণমূলের তরফে অভিযোগ দায়ের করা হয়। দলীয় কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ দায়ের করে বিজেপিও। মন্ত্রী শশী পাঁজার বিরুদ্ধেও অভিযোগ জানিয়েছে বিজেপি। গিরিশ পার্কে ভাঙচুরের ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে পুলিশ। গিরিশ পার্কে সংঘর্ষের ঘটনায় আহত হয়েছিলেন ৮ পুলিশ কর্মী। বিভিন্ন সিসিটিভি ফুটেজ, ভিডিও খতিয়ে দেখে তদন্তে নামে পুলিশ।
নির্বাচন কমিশনে নালিশ বিজেপির (Girish Park Clash Kolkata)

এই ঘটনার প্রেক্ষিতে আজ, রবিবার নির্বাচন কমিশনকে কড়া চিঠি দিয়ে প্রতিবাদ জানাল রাজ্য বিজেপি। বিজেপি নেতা শিশির বাজোরিয়া মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে দেওয়া চিঠিতে অভিযোগ করেছেন যে, শনিবার ব্রিগেডে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনসভায় যাওয়ার পথে গিরিশ পার্ক এলাকায় বিজেপি কর্মীদের বাসে ব্যাপক হামলা চালানো হয়। ইঁটবৃষ্টির জেরে বহু কর্মী আহত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছে। চিঠির সঙ্গে ঘটনার ভিডিও ও ছবিও জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
কলকাতা পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন (Girish Park Clash Kolkata)!
বিজেপির চিঠিতে বিশেষ করে কেন্দ্রীয় বাহিনীর (CAPF) অনুপস্থিতি নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলা হয়েছে। শিশির বাজোরিয়ার অভিযোগ, শহরে বড় সংখ্যায় কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও হামলার সময় ঘটনাস্থলে বা আশেপাশের কোনও এলাকায় তাদের দেখা মেলেনি।
বিজেপির দাবি, কলকাতা পুলিশের কাছে সম্ভাব্য হিংসার বিষয়ে আগাম গোয়েন্দা রিপোর্ট ছিল। পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত থাকলেও তারা ইচ্ছাকৃতভাবে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দূরে সরিয়ে রেখেছিল।
চিঠিতে দাবি করা হয়েছে, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে দিয়ে স্পর্শকাতর এলাকার পরিবর্তে কেবল শান্ত রাজপথ বা হাইওয়েতে ‘রুট মার্চ’ করানো হচ্ছে, যা জনমনে নিরাপত্তা বোধ তৈরিতে কোনও কাজ দিচ্ছে না।
আরও পড়ুন-
West Bengal Two Phase Election: ২৯৪ আসনে দু’দফায় ভোট বঙ্গে, জানিয়ে দিল কমিশন, আপনার জেলায় কবে? জেনে নিন…
WB Assembly Election 2026 Dates: দু’দফায় ভোট বঙ্গে জানিয়ে দিল কমিশন, আজ থেকেই রাজ্যে জারি আদর্শ আচরণবিধি
কমিশনের কাছে আবেদন (Girish Park Clash Kolkata)

বিজেপির পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের কাছে দাবি জানানো হয়েছে কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সঠিকভাবে ব্যবহার না করার পেছনে যারা রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে যেন কঠোরতম ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে এবং ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে বাহিনীকে সঠিক জায়গায় মোতায়েনের আবেদন জানানো হয়েছে। এই চিঠির প্রতিলিপি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিককেও (CEO) পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এই অভিযোগের ভিত্তিতে কোনও বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয় কি না, এখন সেটাই দেখার।
