Mamata Banerjee Letter to EC:
Bengal Liberty Desk, ১৭ মার্চ, কলকাতা: ভোটের ঘণ্টা বাজতেই প্রশাসনের শীর্ষস্তরে ‘সার্জিক্যাল স্ট্রাইক’- আর তাতেই তপ্ত হয়ে উঠল কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের সমীকরণ। নির্বাচন কমিশনের হঠাৎ একের পর এক শীর্ষ আমলা ও পুলিশ কর্তাকে সরানোর সিদ্ধান্তে সরাসরি সংঘাতে নামলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কড়া ভাষার চিঠিতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে কার্যত জবাবদিহির কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে প্রশ্ন তুললেন-এ কি সাংবিধানিক কর্তৃত্বের প্রয়োগ, না কি নির্বাচনের মুখে প্রশাসনের একতরফা হস্তক্ষেপ (Mamata Banerjee Letter to EC)?
একতরফা বদলির অভিযোগ (Mamata Banerjee Letter to EC)

চিঠিতে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট অভিযোগ তুলেছেন, ভোটের দিনক্ষণ ঘোষণার পরপরই রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্র দফতরের শীর্ষ আধিকারিক এবং ডিজি পদে থাকা পুলিশ কর্তার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের একযোগে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। অথচ এই সিদ্ধান্তের আগে রাজ্য সরকারের সঙ্গে কোনও রকম আলোচনা করা হয়নি বলেই মত মুখ্যমন্ত্রীর। মমতার বক্তব্য, এত বড় প্রশাসনিক রদবদল রাতারাতি করে দেওয়ায় রাজ্যের প্রশাসনিক ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা নির্বাচন-পূর্ব পরিস্থিতিতে অত্যন্ত সংবেদনশীল।
কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন মুখ্যমন্ত্রীর (Mamata Banerjee Letter to EC)
মুখ্যমন্ত্রী তাঁর চিঠিতে দীর্ঘদিনের একটি প্রশাসনিক প্রথার প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। সাধারণত, নির্বাচন চলাকালীন গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলির প্রয়োজন হলে কমিশন রাজ্যের কাছে তিনজন আধিকারিকের একটি প্যানেল চায় এবং সেখান থেকেই একজনকে বেছে নেয়। কিন্তু এবারে সেই প্রথা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। কোনও প্যানেল চাওয়া হয়নি, এমনকি সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগও জানানো হয়নি। এই পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্তটিকে তিনি ‘একতরফা ও স্বৈরাচারী’ বলে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছেন।
নিরপেক্ষতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ (Mamata Banerjee Letter to EC)

চিঠির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশে নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, সংবিধানের ৩২৪ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী কমিশনের বিস্তৃত ক্ষমতা থাকলেও, সেই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে কেন্দ্র-রাজ্যের মধ্যে একটি প্রশাসনিক সৌজন্য বজায় রাখা হয়, যা ভারতের সহযোগিতামূলক যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামোর মূল ভিত্তি। মমতার দাবি, এবারের সিদ্ধান্ত সেই ভারসাম্যকে আঘাত করেছে এবং এতে কমিশনের দীর্ঘদিনের নিরপেক্ষ ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ভবিষ্যতে এ ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার আগে রাজ্যের সঙ্গে আলোচনা করার আবেদনও জানিয়েছেন তিনি।
আরও পড়ুন-
Gyanesh Kumar Controversy : দেশে নজির! জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে সংসদের দুই কক্ষেই বিরোধীদের অপসারণ পত্র জমা
Opposition MPs Impeachment Notice : ভোটের আগে বড় সংঘাত! জ্ঞানেশ কুমারকে সরানোর উদ্যোগ! ইমপিচমেন্ট নোটিসে ১৯৩ সাংসদের স্বাক্ষর
প্রসঙ্গত, এসআইআর ইস্যুতে এর আগেও একাধিকবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে এই চিঠিটিকে প্রশাসনিক দিক থেকে অনেক বেশি তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করা হচ্ছে। নবান্ন সূত্রের দাবি, ভোটের মুখে শীর্ষস্তরের এই হঠাৎ রদবদল প্রশাসনিক কাজ, বিশেষ করে আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচন প্রস্তুতিতে প্রভাব ফেলতে পারে। যদিও শাসকদল কমিশনের সিদ্ধান্তের সমালোচনায় সরব, বিরোধীদের দাবি, নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতেই কমিশনের এই পদক্ষেপ সাংবিধানিকভাবে যথার্থ।
