CM Suvendu Adhikari
Bengal Liberty, ৯ মে :
দীর্ঘ কয়েক দশকের বঞ্চনা আর গত ১৫ বছরের অন্ধকার সরিয়ে অবশেষে বাংলায় প্রতিষ্ঠিত হলো ‘রামরাজ্য’। আজ বিগ্রেডের ঐতিহাসিক জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে স্বাধীনতার পর বাংলার প্রথম বিজেপি মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিলেন জননেতা শুভেন্দু অধিকারী। এবং তাঁর সঙ্গেই মন্ত্রিসভার প্রথম সারির যোদ্ধা হিসেবে শপথ নিলেন আরও ৫ জন হেভিওয়েট নেতা। দেখুন কারা কারা আজ শপথ গ্রহণ করলেন? Brigade rally

প্রথম দফার ‘পঞ্চরত্ন’: কাদের কাঁধে গুরুদায়িত্ব? Brigade rally
আজকের শপথে শুভেন্দু অধিকারীর পাশাপাশি মন্ত্রিসভায় জায়গা পেয়েছেন এমন পাঁচজন, যাঁরা লড়াইয়ের ময়দানে পরীক্ষিত। তাঁরা হলেন—
১. দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর): বাংলায় বিজেপির উত্থানের আসল কাণ্ডারি। ৩ থেকে ৭৭ যাঁর হাত ধরে দল আজ ক্ষমতায়, সেই আরএসএস (RSS) প্রচারক তথা ‘দাবাং’ নেতাকে যোগ্য সম্মান দিল দল। দিলীপ ঘোষের অন্তর্ভুক্তি কর্মীদের মধ্যে বাড়তি উদ্দীপনা জুগিয়েছে।
২. অগ্নিমিত্রা পাল: আসানসোল দক্ষিণের বিধায়ক তথা লড়াকু মহিলা মুখ। শিল্পাঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে তিনি যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনই প্রশাসনে নারীশক্তির প্রতীক হিসেবে তাঁকে নিয়ে আসা হলো।

৩. নিশীথ প্রামাণিক: উত্তরবঙ্গের দাপুটে নেতা ও অমিত শাহের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। রাজবংশী সমাজের প্রতিনিধি নিশীথকে মন্ত্রী করে উত্তরবঙ্গের উন্নয়নের প্রতি দায়বদ্ধতা প্রকাশ করল বিজেপি। দিল্লি থেকে কলকাতায় ফিরে এবার রাজ্যের গুরুদায়িত্বে তিনি।
৪. অশোক কীর্তনিয়া: মতুয়া গড় বনগাঁ উত্তর থেকে জয়ী অশোককে মন্ত্রী করে মতুয়া ভাই-বোনদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা মেটানোর বার্তা দিল নতুন সরকার।
৫. ক্ষুদিরাম টুডু: জঙ্গলমহলের ভূমিপুত্র। রানিবাঁধের এই বিধায়ক আজ সাঁওতালি ভাষায় শপথ নিয়ে ইতিহাস গড়লেন।

সোমবারে পূর্ণাঙ্গ রূপ
আজকের অনুষ্ঠান ছিল কেবল শুরু। আগামী সোমবার লোকভবনে (সাবেক রাজভবন) বাকি মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ পর্ব সম্পন্ন হবে। সেদিনই নির্ধারিত হবে কে কোন দপ্তরের দায়িত্ব পাচ্ছেন। সূত্রের খবর, সোমবারের প্রথম ক্যাবিনেট মিটেই নিয়োগ দুর্নীতি ও রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় বড় কোনো সিদ্ধান্তের ঘোষণা দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। বুধবার নবনির্বাচিত বিধায়কদের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হবে এই গণতান্ত্রিক মহোৎসব।
তবে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পাঁচ জনের নাম নির্বাচনের মাধ্যমেই বিজেপি বুঝিয়ে দিল তারা বাংলার সব প্রান্তকে স্পর্শ করতে চায়। একদিকে জঙ্গলমহলের আদিবাসী ও কুড়মি সমাজ, অন্যদিকে উত্তরবঙ্গের রাজবংশী এবং দক্ষিণবঙ্গের মতুয়া সকলকেই ক্ষমতার অংশীদার করা হয়েছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের তৃণমূল শাসনের পতনের পর শুভেন্দুর এই ‘টিম’ কতটা সফল হয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।
