Opposition MPs Impeachment Notice
Bengal Liberty, ১৩ মার্চ :
দেশে ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন (SIR) প্রক্রিয়া শুরু হতেই তৃণমূল টার্গেট পয়েন্ট ছিলেন জ্ঞানেশ কুমার (Opposition MPs Impeachment Notice)। এবার মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের উদ্যোগ বিজেপি বিরোধী দলগুলির। ভোটার তালিকা সংশোধনের নামে সাধারণ মানুষের ভোটাধিকার খর্ব করা হচ্ছে, এই অভিযোগ তুলে মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট নোটিস আনার পথে এগিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যেই নোটিসে ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর সংগ্রহ হয়েছে বলে সূত্রের খবর। অতঃপর চাপ বাড়ছে ক্রমশ (Opposition MPs Impeachment Notice)।

মঙ্গলবার কলকাতায় যখন সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন জ্ঞানেশ কুমার, সেই সময়ই নিজের ধরনা মঞ্চে ক্যানভাসে একটি ছবি আঁকেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। যার সারমর্ম ছিল SIR। তবে সেই ছবিতে বড় বড় অক্ষরে লেখা ছিল ‘ভ্যানিশ’। এবার অবশ্য সেই কারণ বুঝতে কারোরই অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। নির্বাচন কমিশনের প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত করেই তৃণমূল এখন সংসদীয় মঞ্চে আরও বড় সংঘাত তৈরির কৌশল নিচ্ছে বলে দাবি বিজেপির।

ইমপিচমেন্ট নোটিসে বাড়ছে স্বাক্ষর (Opposition MPs Impeachment Notice)
মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণের দাবিতে তৈরি করা ইমপিচমেন্ট নোটিসে ইতিমধ্যেই ১৯৩ জন সাংসদের স্বাক্ষর পড়েছে বলে দাবি করেছে তৃণমূল। এর মধ্যে লোকসভার ১৩০ জন এবং রাজ্যসভার ৬৩ জন সাংসদ রয়েছেন। তৃণমূল সূত্রে জানা গেছে আজ, শুক্রবার সংসদে ওই নোটিস জমা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে এবং তার আগে আরও কয়েকজন সাংসদের স্বাক্ষর যোগ হতে পারে। বিজেপি-বিরোধী বিভিন্ন দলের সাংসদরাও এই উদ্যোগে সমর্থন জানিয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। তৃণমূল এই স্বাক্ষর সংগ্রহের দায়িত্ব দিয়েছে লোকসভায় উপদলনেত্রী শতাব্দী রায়কে। অন্যদিকে রাজ্যসভায় সেই দায়িত্ব সামলাচ্ছেন দলের মুখ্য সচেতক নাদিমুল হক।

প্রক্রিয়া জটিল, রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন (Opposition MPs Impeachment Notice)
সংবিধান অনুযায়ী, মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের প্রক্রিয়া অনেকটাই বিচারপতিদের অপসারণের মতোই কঠোর। সংসদে নোটিস জমা দিতে লোকসভায় অন্তত ১০০ জন এবং রাজ্যসভায় ৫০ জন সাংসদের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়, যদিও সেই সংখ্যা ইতিমধ্যেই অতিক্রম করেছে বলে দাবি তৃণমূলের।
তবে নোটিস গৃহীত হলেও তার পরের ধাপগুলি অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ। প্রথমে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন, তারপর রিপোর্ট পেশ, সংসদে আলোচনা এবং শেষে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে প্রস্তাব পাস হতে হবে। এই দীর্ঘ প্রক্রিয়া পার করতে হয়। ফলে বাস্তবে এই উদ্যোগ সফল হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম বলেই রাজনৈতিক মহলের অনেকের মত।
Election News: পোলিং অফিসাররা প্রতি ২ ঘণ্টায় ভোট দানের হার জানাবেন: Gyanesh Kumar | Bengal Liberty#GyaneshKumar #electionnews #WestBengalElections #westbengalelection2026 #GyaneshKumar #BengalLiberty pic.twitter.com/6htT50XEBo
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 11, 2026
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে ঘিরে রাজনৈতিক সংঘাত ক্রমশ তীব্র হচ্ছে। তৃণমূল ইমপিচমেন্ট নোটিসকে গণতন্ত্র রক্ষার লড়াই হিসেবে তুলে ধরলেও বিরোধীরা এই উদ্যোগকে নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক চাপ তৈরির প্রচেষ্টা ছাড়া অন্য কিছু মনে করছেন না। ফলে এই ইস্যু যে আগামী দিনে জাতীয় রাজনীতিতে আরও বড় বিতর্কের জন্ম দেবে, তা বলাই যায়।
