Abbas Siddiqui
Bengal Liberty, ১২ মার্চ :
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একাধিকবার মুসলিম ভোটব্যাঙ্ক প্রসঙ্গ এসেছে। সামনে নির্বাচন, তারই মধ্যে নতুন করে বিতর্ক উসকে দিলেন আব্বাস সিদ্দিকী (Abbas Siddiqui)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাম্প্রতিক মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তীব্র আক্রমণ শানিয়ে তিনি দাবি করেছেন, মুসলিম সমাজকে ব্যবহার করেই রাজনীতি করা হয়েছে, কিন্তু বাস্তবে তাদের উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি পূরণ হয়নি। ফুরফুরা শরীফের এই ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতার বক্তব্যে উঠে এসেছে মুসলিম সমাজের বঞ্চনা, প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ এবং আগামী নির্বাচনে বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনার ইঙ্গিত (Abbas Siddiqui)।

মমতার মন্তব্য ঘিরে তীব্র ধিক্কার আব্বাসের (Abbas Siddiqui)
ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকী অভিযোগ করেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলমানদের সম্পর্কে এমন ধারণা তৈরি করার চেষ্টা করছেন যেন তারা একত্রিত হলেই দাঙ্গা বাঁধাতে পারে। তাঁর কথায়, মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে মুসলিম সমাজের ওপর একটি অন্যায্য ও অপমানজনক ট্যাগ ‘ দাঙ্গাবাজ ‘ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। সিদ্দিকীর মতে, এই মন্তব্য শুধু দুঃখজনকই নয়, অত্যন্ত নিন্দনীয়ও। তিনি বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলমানদের সব কিছু কেড়ে নিয়েছেন। এবার জানটুকু কেড়ে নেওয়ার জন্য মুসলমানদের ঘরে দাঙ্গাবাজদের নামাবার প্ল্যান করছেন।”

“মুসলমানদের সব কিছু কেড়ে নেওয়া হয়েছে” (Abbas Siddiqui)
আব্বাস সিদ্দিকীর অভিযোগ, বর্তমান রাজ্য সরকারের আমলে মুসলিম সমাজের অধিকার ও সুযোগ ক্রমশ সংকুচিত হয়েছে। তার কথায়, শিক্ষা, মাদ্রাসা ব্যবস্থা, ওয়াকফ কিংবা ওবিসি সংক্রান্ত নানা ক্ষেত্রে মুসলমানদের অধিকার খর্ব করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, মুসলিমদের উন্নয়নের নামে নানা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও বাস্তবে তার উল্টো ফল দেখা যাচ্ছে।
তিনি দাবি করেন আসলেই মুখ্যমন্ত্রী যা বলেন হয় ঠিক তার উল্টো, তিনি বলেন, ” ডবল ডবল চাকরি দেব বলেছিল, মানে ধরে নিতে হবে ডবল ডবল চাকরি যাবে।” এছাড়া তাঁর কথা অনুযায়ী, মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা উন্নয়নের বদলে সংকটে পড়েছে, সংখ্যালঘু উন্নয়নের নানা পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হয়নি। তারপরই তিনি বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, ” উনি বলেছেন আসন্ন নির্বাচনে উনি জিতবেন, মানেই উনি হারবেন।”
রাজনীতিতে ‘গোলাম’ হিসেবে ব্যবহারের অভিযোগ (Abbas Siddiqui)
মুসলিম সমাজকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল কেবল নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করেছে বলেও অভিযোগ করেন আব্বাস সিদ্দিকী। তিনি বলেন, রাজনৈতিক নেতারা কেবল তাদের দলের ক্যাডার বা শক্তি হিসেবে মুসলমানদের ব্যবহার করেন। এর ফলে রাজনৈতিক সংঘর্ষে মুসলমানদেরই বদনাম হয় এবং শেষ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্তও হন তারাই। সিদ্দিকীর ভাষায়, “দিনের শেষে মারছে মুসলমান, মরছেও মুসলমান।”

২০২৬ সালের নির্বাচনে পরিবর্তনের দাবি (Abbas Siddiqui)
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে আব্বাস সিদ্দিকী বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।তার মতে, ২০১১ সালে যেমন দীর্ঘদিনের বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটেছিল, তেমনই ২০২৬ সালেও বর্তমান সরকারের পতন ঘটতে পারে। তিনি দাবি করেন, এতদিন মুসলিম ভোটই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ক্ষমতায় রেখেছিল, কিন্তু এখন সেই ভোটব্যাঙ্কের বড় অংশ মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। আব্বাস বলেন, “আমি একাধিক সিট জিতিয়েছি, ১ টা সিট বার করতে পেরেছি।”

বিজেপি ও তৃণমূল নিয়ে মন্তব্য (Abbas Siddiqui)
রাজনৈতিক অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে সিদ্দিকী বলেন, বিজেপি তাদের কাছে প্রকাশ্য রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ। তবে তার অভিযোগ, তৃণমূল কংগ্রেস বন্ধুর মুখোশে শত্রুর মতো আচরণ করছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, মাদ্রাসার নামে বরাদ্দ হওয়া অর্থের সঠিক ব্যবহার হচ্ছে না। তাঁর কথায় মাদ্রাসার নামে আসা টাকা একদল মানুষ লুটে খাচ্ছে। পাশাপাশি তিনি মন্তব্য করেন, কেন্দ্র যদি চায় তাহলেই ২৬ এর নির্বাচনে সরকার পরিবর্তন হবে। নচেত রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর কুর্শি কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না।
এছাড়া ফুরফুরা শরীফের উন্নয়ন নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর একাধিক প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন আব্বাস সিদ্দিকী। তার দাবি, সেই প্রতিশ্রুতিগুলির অনেকটাই বাস্তবে পূরণ হয়নি। প্রতিশ্রুতি দিয়ে তা না রাখা হলে সেটাকে তিনি “বিশ্বাসঘাতকতা” বলেই আখ্যা দেন, বলেন আব্বাস।

মুখ্যমন্ত্রীর সাক্ষাৎ আমন্ত্রণ নিয়ে বিস্ফোরক দাবি (Abbas Siddiqui)
আব্বাস সিদ্দিকী আরও জানা, মুখ্যমন্ত্রী নাকি তার সঙ্গে এবং নওশাদ সিদ্দিকীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চেয়েছিলেন। তবে তিনি দাবি করেন, সেই আমন্ত্রণপত্র তিনি স্পর্শও করেননি। নিজের দল Indian Secular Front (ISF)- এর ভবিষ্যৎ নিয়েও আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন আব্বাস সিদ্দিকী।
তিনি বলেন, যদি প্রকৃত অর্থে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন হয়, তাহলে আইএসএফ উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পাবে এবং রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে সংখ্যালঘু ভোট দীর্ঘদিন ধরেই বড় ফ্যাক্টর। আর সেই বাস্তবতাকেই সামনে রেখে ফের প্রশ্ন উঠছে, আসলে কি সত্যিই সংখ্যালঘু সমাজের উন্নয়ন হয়েছে, নাকি তাদের শুধু নির্বাচনী সমীকরণের একটি অপরিহার্য উপাদান হিসেবেই ব্যবহার করা হয়েছে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার বারবার সংখ্যালঘু উন্নয়নের কথা বললেও বিরোধী মহলের দাবি, বাস্তবে সেই প্রতিশ্রুতির বড় অংশই কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ। ফুরফুরা শরীফের পীরজাদা আব্বাস সিদ্দিকীর বক্তব্য সেই বিতর্ককেই নতুন করে ঘি ঢালল। তার অভিযোগ, মুসলিম সমাজকে কখনও আবেগে, কখনও ভয় দেখিয়ে, আবার কখনও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটব্যাঙ্ক হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। আর নির্বাচনের সময় ঘনিয়ে এলেই সেই ভোটব্যাঙ্ককে ঘিরে নতুন করে রাজনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়।
👉 https://t.co/GuSEhxYT8m
Abbas Siddiqui: খারাপ নজরে দেখছে সবাই মুসলমানদের | ISF | West Bengal Election 2026#abbassiddiqui #ISF #indiansecularfront #election2026 #westbengalelection2026 #BengalLiberty pic.twitter.com/ZGMH5WKBJq— Bengal Liberty (@bengalliberty1) March 12, 2026
প্রশ্নটা তাই আরও জোরালো, যদি সত্যিই উন্নয়নই লক্ষ্য হয়, তবে কেন বারবার বঞ্চনার অভিযোগ উঠছে? সামনে নির্বাচন। তাই এখন দেখার, সংখ্যালঘু সমাজের এক বড় অংশ আদৌ আগের মতোই শাসকদলের পাশে থাকবে, নাকি এই অসন্তোষই ভবিষ্যতের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করবে।
