Kissing health risks
Bengal liberty desk, ১৮ মার্চ :
ভালোবাসা বা স্নেহ প্রকাশের অন্যতম মাধ্যম হলো চুম্বন(Kissing health risks)। কিন্তু এই সাধারণ মুহূর্তই ডেকে আনতে পারে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি। চিকিৎসকদের মতে, আমাদের মুখের ভেতরে কয়েকশো ধরণের ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস বাস করে। চুম্বনের সময় লালার মাধ্যমে এই অণুজীবগুলো অনায়াসেই একজনের শরীর থেকে অন্যজনের শরীরে প্রবেশ করে নানা সংক্রামক রোগ ছড়াতে পারে।

চুম্বনের মাধ্যমে কী কী রোগ ছড়াতে পারে?
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডঃ আন্তোনিয়া নিয়া-র মতে, সাধারণ সর্দি-কাশি থেকে শুরু করে বেশ কিছু গুরুতর রোগ চুম্বনের মাধ্যমে ছড়াতে পারে:
ওরাল হার্পিস ও ঠোঁটের ঘা: ‘হার্পিস সিমপ্লেক্স’ ভাইরাসের কারণে ঠোঁটে বা মুখে ছোট ছোট ফোস্কার মতো ঘা হয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে এলে এটি দ্রুত অন্যকে সংক্রমিত করে।
কিসিং ডিজিজ (Infectious Mononucleosis): এপস্টাইন-বার ভাইরাসের (EBV) কারণে এই রোগ হয়। এর ফলে প্রচণ্ড জ্বর, গলা ব্যথা এবং লিম্ফ গ্ল্যান্ড ফুলে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
সিফিলিস ও যৌন রোগ: সিফিলিসের মতো ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ সাধারণত যৌন সংসর্গে ছড়ালেও, আক্রান্ত ব্যক্তির মুখে ঘা থাকলে চুম্বনের মাধ্যমেও তা ছড়াতে পারে।
হেপাটাইটিস বি ও মেনিনজাইটিস: যদি মুখে কোনো ক্ষত বা রক্তপাত থাকে, তবে চুম্বনের মাধ্যমে হেপাটাইটিস বি-এর মতো যকৃতের সংক্রমণ ছড়ানোর ঝুঁকি থাকে। এমনকি মস্তিষ্কের আবরণে প্রদাহ সৃষ্টিকারী ‘মেনিনজাইটিস’ ব্যাকটেরিয়াও লালার মাধ্যমে পরিবাহিত হতে পারে।
দাঁত ও মাড়ির সমস্যা: মাড়ির রোগ বা ক্যাভিটি সৃষ্টিকারী ব্যাকটেরিয়াও চুম্বনের মাধ্যমে স্থানান্তরিত হয়, যা দন্তক্ষয়ের কারণ হতে পারে।
ফ্লু ও মাম্পস: সাধারণ ইনফ্লুয়েঞ্জা বা মাম্পসের মতো ভাইরাসজনিত রোগ লালার ক্ষুদ্র কণার মাধ্যমে সহজেই ছড়িয়ে পড়ে।

সুরক্ষায় কী করবেন?
১. নিজের বা সঙ্গীর মুখে কোনো কাটাছেঁড়া, ঘা কিংবা ফোস্কা থাকলে চুম্বন এড়িয়ে চলুন।
২. শ্বাসকষ্ট, জ্বর বা সংক্রামক ব্যাধির লক্ষণ থাকলে অন্তরঙ্গ হওয়া থেকে বিরত থাকুন।
৩. মুখের স্বাস্থ্য বা ‘ওরাল হাইজিন’ বজায় রাখুন এবং নিয়মিত মুখ পরিষ্কার রাখুন।
৪. কোনো অস্বাভাবিক লক্ষণ দেখা দিলে লোকলজ্জা কাটিয়ে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
