Suvendu Adhikari Tarakeswar
Bengal Liberty,২ জুন ,তারকেশ্বর: তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদ ভেঙে সেখানে সরকারি প্রশাসক নিয়োগ করতে চলেছে রাজ্য সরকার। আজ, মঙ্গলবার তারকেশ্বর মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর দলীয় বিধায়ক ও জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের নিয়ে এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক শেষে এই বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে ধর্মতলায় প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না আন্দোলনকে তীব্র কটাক্ষ করে তিনি দাবি করেন, তৃণমূল দলটার অবস্থা এখন ‘ফলতা’র মতো হয়ে গিয়েছে।
টিডিএ-র আর্থিক সহায়তা বন্ধ, নতুন প্রশাসক অনুজ প্রতাপ সিং (Suvendu Adhikari Tarakeswar)
২০১৭ সালের ১ জুন পূর্বতন তৃণমূল সরকার তারকেশ্বর উন্নয়ন পর্ষদ বা টিডিএ গঠন করে এর চেয়ারম্যান করেছিল ফিরহাদ হাকিমকে, যা নিয়ে সেসময় বিস্তর সমালোচনা হয়েছিল। আজ মুখ্যমন্ত্রী জানান, গত ১০ বছরে টিডিএ কিছু কাজ করলেও পরিকল্পনা অনুযায়ী অনেক কাজই শেষ করতে পারেনি। তাই এই ট্রাস্টি বোর্ডের আর্থিক সহায়তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। আজই মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল এবং প্রধান সচিবকে এই বিষয়ে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী। পর্ষদ ভেঙে এডিএম অনুজ প্রতাপ সিংকে তারকেশ্বরের নতুন প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে।

দুধপুকুর পাড়ের রঙ বদল ও শ্রাবণী মেলার বড় প্রস্তুতি (Suvendu Adhikari Tarakeswar)
সামনেই পবিত্র শ্রাবণ মাস। শ্রাবণী মেলাকে কেন্দ্র করে বাবা তারকনাথের পুণ্যভূমিতে আগত পুণ্যার্থীদের জন্য এবার রাজ্য সরকার বড়সড় ব্যবস্থার পরিকল্পনা করছে। মুখ্যমন্ত্রী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পবিত্র দুধপুকুর পাড়ে কী সব রঙ করে রেখেছে! এই রঙ পরিবর্তন আগে করা দরকার। আমাদের আধ্যাত্মিক সত্য ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানানসই রঙ করা হবে।” পাশাপাশি তিনি মনে করিয়ে দেন, ১৯৪৭ সালের ২০ জুন বাংলার ভারতভুক্তির রেজুলেশন হয়েছিল এই তারকেশ্বরেই। আগামী ২০ জুন সেই ঐতিহাসিক দিনটিকে কেন্দ্র করে সরকারের কিছু পরিকল্পনা রয়েছে। তবে আগামীকাল ক্যাবিনেট (মন্ত্রিসভা) বৈঠক থাকায় আজই সব ঘোষণা না করে, কাল নবান্ন থেকে বিস্তারিত জানাবেন বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।

“দেরশো লোকও হয়নি, দলটা ফলতা হয়ে গেছে” (Suvendu Adhikari Tarakeswar)
ধর্মতলায় হাতে সংবিধান নিয়ে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ধর্না আন্দোলন প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী তীব্র উপহাস করে বলেন, “আমাকে একজন ছবি পাঠিয়েছিল, দেখলাম এত দুরবস্থা যে দেরশোটা লোকও আসেনি! অথচ সাংবাদিক গেছে ২০০ জন। সাংবাদিকরা না থাকলে আরও করুণ অবস্থা হতো।”
তিনি আরও যোগ করেন, “শুনলাম রাজ্যসভা ও লোকসভা মিলিয়ে এত সাংসদ-বিধায়কের মধ্যে মাত্র ৩ জন এমপি আর ৬ জন এমএলএ গেছে। ও দলটার অবস্থা এখন ফলতার মতো হয়ে গেছে।” অন্যদিকে, সই জালিয়াতি কাণ্ডের মাঝে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় বিধায়কদের বারবার ফোন করছেন শুনে মুখ্যমন্ত্রী কটাক্ষের সুরে বলেন, “উনি তো অসুস্থ শুনেছিলাম। অসুস্থ হলে ফোন করা যায় নাকি? স্যালাইন ট্যালাইন কী সব চলছে না কি!”
নিজের আবেগ স্মরণ করে মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “আমি একসময় এই তারকেশ্বরে রাম মন্দির মাথায় নিয়ে খালি পায়ে হেঁটেছিলাম।” ফলে তারকেশ্বরের সার্বিক উন্নয়ন ও ধর্মীয় ভাবাবেগ রক্ষায় তাঁর সরকার যে এবার বড় পদক্ষেপ করতে চলেছে, তা আজ স্পষ্ট করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী।

