Operation Sindoor
Bengal Liberty: পহেলগাঁও জঙ্গি হামলার জবাবে পরিচালিত ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ শহিদ হওয়া ৬ ভারতীয় সেনাকর্মীর পরিচয় অবশেষে সরকারিভাবে প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়াল এবং সরকারি ওয়েবসাইটে তাঁদের নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর আগের বক্তব্য ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
সংসদে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর পুরনো বক্তব্য নিয়ে বিতর্ক (Operation Sindoor)
বিতর্কের সূত্রপাত ২০২৫ সালের ২৮ জুলাই সংসদের অধিবেশনে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ কোনো ভারতীয় জওয়ান শহিদ হয়েছেন কি না, সেই প্রশ্নে বিরোধীদের মুখোমুখি হয় কেন্দ্র। জবাবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছিলেন, “আপনাদের প্রশ্ন করার থাকলে এই প্রশ্ন করুন যে, এই অপারেশনে আমাদের জওয়ানদের কোনো ক্ষতি হয়েছে কি না? তার উত্তর হলো—না।” তাঁর এই বক্তব্যের পর শাসক দলের সদস্যরা টেবিল চাপড়ে সমর্থন জানান।
কিন্তু এবার সরকারিভাবেই ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ ৬ জন সেনাকর্মীর শহিদ হওয়ার তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ফলে প্রতিরক্ষা মন্ত্রীর সেই বক্তব্যের সঙ্গে বর্তমান সরকারি তথ্যের অসঙ্গতি তুলে ধরে বিরোধীরা কেন্দ্রের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে।

প্রকাশ্যে শহিদ জওয়ানদের নাম (Operation Sindoor)
‘অপারেশন সিঁদুর’-এর বর্ষপূর্তির পর শহিদ সেনাকর্মীদের প্রতি মরণোত্তর সম্মান জানিয়ে তাঁদের নাম প্রকাশ করেছে কেন্দ্র। ন্যাশনাল ওয়ার মেমোরিয়ালের ‘রোল অব অনার’-এর ২০২৫ সালের ৩ডি ওয়ালে তাঁদের নাম সংযোজন করা হয়েছে।
শহিদ সেনাকর্মীরা হলেন—
* সুবেদার মেজর পবন কুমার
* রাইফেলম্যান সুনীল কুমার (বীর চক্র)
* ল্যান্স নায়েক দীনেশ কুমার
* অগ্নিবীর মুড মুরালি নায়েক
* হাবিলদার সুনীল কুমার সিং
* ভারতীয় বায়ুসেনার সার্জেন্ট সুরেন্দ্র কুমার

অপারেশন সিঁদুরের প্রেক্ষাপট (Operation Sindoor)
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলায় ২৬ জন নিরস্ত্র সাধারণ নাগরিক নিহত হওয়ার পর ভারত ‘অপারেশন সিঁদুর’ শুরু করে। ৭ মে ভোরে শুরু হওয়া এই অভিযানে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের একাধিক জঙ্গিঘাঁটিতে হামলা চালানো হয়।
সরকারি সূত্রের দাবি, এই অভিযানে পাকিস্তানের একাধিক সামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু জঙ্গি ও পাকিস্তানি সেনা নিহত হয়। পরবর্তীতে সংঘর্ষবিরতিতে সম্মত হয় দুই দেশ। এতদিন পর্যন্ত এই অভিযানে শহিদ ভারতীয় সেনাকর্মীদের পরিচয় সরকারিভাবে প্রকাশ করা হয়নি। এবার তাঁদের নাম ‘রোল অব অনার’-এ অন্তর্ভুক্ত করার মাধ্যমে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে সেই তথ্য প্রকাশ করল।


