Blast in Balochistan
Bengal Liberty, ২৪ মে ২০২৬ :
ফের ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় কেঁপে উঠল পাকিস্তান(Blast in Balochistan) । রবিবার সকালে বালোচিস্তান প্রদেশের কোয়েটা শহরের চমন ফাটকের কাছে একটি ট্রেনে আত্মঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২৩ জনের মৃত্যুর খবর মিলেছে। আহত হয়েছেন বহু যাত্রী ও নিরাপত্তারক্ষী। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে স্থানীয় প্রশাসন। বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের একাধিক কামরা দুমড়ে-মুচড়ে যায় এবং ঘটনাস্থলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গিয়েছে, (Blast in Balochistan)
কোয়েটা ক্যান্টনমেন্ট এলাকা থেকে সেনাকর্মীদের নিয়ে একটি ট্রেন যাচ্ছিল। সেই ট্রেনকেই নিশানা করে হামলা চালানো হয় বলে প্রাথমিক তদন্তে অনুমান। বিস্ফোরণের পর ট্রেনের কয়েকটি বগিতে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলের ভয়াবহতায় বহু যাত্রী কামরার ভিতরে আটকে পড়েন বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় পাক সেনা, পুলিশ এবং উদ্ধারকারী দল। আহতদের উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, (Blast in Balochistan)
রেললাইনের ধারে শক্তিশালী বিস্ফোরক রাখা হয়েছিল। বিস্ফোরণের অভিঘাতে শুধু ট্রেনই নয়, আশপাশের বাড়ি ও গাড়িও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোয়েটা পুলিশের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, একটি বগি সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে এবং বেশ কয়েকটি কামরা আগুনে পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

এই হামলার কিছুক্ষণের মধ্যেই দায় স্বীকার করেছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি বা বিএলএ-র মজিদ ব্রিগেড। সংগঠনের তরফে দাবি করা হয়েছে, দীর্ঘদিনের স্বাধীনতা আন্দোলনের অংশ হিসেবেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তাদের অভিযোগ, পাকিস্তান সেনাবাহিনী বালোচিস্তানে দমনমূলক নীতি চালাচ্ছে, আর সেই কারণেই সেনাদের বহনকারী ট্রেনকে নিশানা করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, (Blast in Balochistan)
অতীতেও বহুবার ট্রেন হামলার লক্ষ্য হয়েছে পাকিস্তানে। বিশেষ করে জাফর এক্সপ্রেসকে একাধিকবার নিশানা করেছে জঙ্গিরা। কোয়েটা থেকে পেশোয়ারের মধ্যে চলাচলকারী এই ট্রেনটি সেনা ও সাধারণ যাত্রীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম হিসেবে পরিচিত। গত বছরের অক্টোবর মাসে সিন্ধ প্রদেশে জাফর এক্সপ্রেসে বিস্ফোরণের ঘটনায় একাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছিলেন। পরে নভেম্বরে আরও একটি হামলায় বহু সেনাকর্মীর মৃত্যুর খবর প্রকাশ্যে আসে।
বারবার একই ধরনের জঙ্গি হামলার ঘটনায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বাড়ছে। নিরীহ মানুষের প্রাণহানি এবং লাগাতার হিংসার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মানবিক বিপর্যয়ের এই আবহে সাধারণ মানুষের একটাই প্রশ্ন— কবে থামবে এই রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসের রাজনীতি?
আরও পড়ুন:
১৪ বছর পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিদেশসচিবের কলকাতায় আগমন!

