Vocational Teachers
Bengal Liberty: দীর্ঘ ২২ বছর ধরে একই পদে কাজ করেও আর্থিক ও পরিষেবা সংক্রান্ত কোনো উন্নতি না হওয়ার অভিযোগ তুললেন রাজ্যের হাজার হাজার বৃত্তিমূলক শিক্ষক-শিক্ষিকা। একাধিকবার দাবি জানিয়েও সমাধান না হওয়ায়, এবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর কাছে খোলা চিঠি পাঠিয়েছে বৃত্তিমূলক শিক্ষক সংগঠন। চিঠিতে তাঁদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা তুলে ধরে দ্রুত পদক্ষেপের আবেদন জানানো হয়েছে।
শিক্ষকদের অভিযোগ, পূর্বতন সরকারের আমলেও একাধিকবার আবেদন-নিবেদন করা হলেও কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার পর শিক্ষা খাতে বরাদ্দ বাড়লেও, চলতি বাজেটে বৃত্তিমূলক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য আলাদা কোনো উন্নয়নমূলক প্রতিশ্রুতি বা সুবিধার উল্লেখ নেই। ফলে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই দিন কাটছে তাঁদের।
সরকারি বাজেটের তথ্য তুলে ধরে সংগঠনের দাবি, ‘Grant-in-Aid Salaries’ খাতে ২০২৫-২৬ অর্থবর্ষে যেখানে বরাদ্দ ছিল ৮.৭৫ কোটি টাকা, সেখানে ২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেট বরাদ্দে (বাজেট এস্টিমেট) তা বেড়ে প্রায় ১৯০ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। এত বড় অঙ্কের বরাদ্দ সত্ত্বেও বৃত্তিমূলক শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বেতন বা পরিষেবাগত সুবিধায় কোনো পরিবর্তন না হওয়ায় তাঁরা ক্ষোভ ও প্রশ্ন প্রকাশ করেছেন।

তাঁদের অভিযোগ, এই বরাদ্দের অর্থ কোথায় ব্যয় হচ্ছে, সে বিষয়ে সরকারের কোনো স্পষ্ট ব্যাখ্যা নেই। একই সঙ্গে তাঁরা জানান, অধিকাংশ বৃত্তিমূলক শিক্ষক-শিক্ষিকাই স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী; অথচ দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে তাঁরা নামমাত্র বেতনে কাজ করে চলেছেন।

সংগঠনের দাবি, বৃত্তিমূলক শিক্ষা বিভাগকে সাধারণ শিক্ষা বিভাগের সঙ্গে একীভূত করতে হবে অথবা অবিলম্বে বেতন কাঠামো সংশোধন করে উপযুক্ত বেতন বৃদ্ধি নিশ্চিত করতে হবে। মুখ্যমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপেই এই দীর্ঘদিনের সমস্যার স্থায়ী সমাধান হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আন্দোলনরত বৃত্তিমূলক শিক্ষক-শিক্ষিকারা।

