Mamata Banerjee
Bengal Liberty : তৃনমূলের অস্তিত্ব বিলীনের পথে। জুনের প্রথম দিকে একটা জল্পনা শুরু হয়েছিল, কংগ্রেসে ফিরতে পারেন মমতা এবং তাঁর ভাইপো অভিষেক (Mamata Banerjee)। মমতা কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হতে চলেছেন। পাশাপশি কংগ্রেসের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রস্তাব পেয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। অতঃপর সমস্ত জল্পনায় জল পড়েছে। রাহুল কিংবা সোনিয়া কেউই দলে নিচ্ছেন না মমতা ও তাঁর ভাইপোকে। সূত্রের খবর, তিনি নতুন দল বানাতে চলেছেন। মমতা বুঝে গিয়েছেন দলের প্রতীক, নাম এবং তহবিল-সবটাই হাতছাড়া হতে চলেছে। তাই যেমন ভাবে কংগ্রেসের বুক চিঁড়ে তৃণমূল বানিয়েছিলেন, ঠিক একই ভাবে তৃণমূল ছেড়ে নিজের দল বানাতে চলেছেন মমতা। সেই দল নেতা নেত্রী হবে অভিষেক এবং মমতা নিজে। লড়াই করবেন বিজেপির বিরুদ্ধে (Mamata Banerjee)।

কংগ্রেসের ঠাঁই মেলেনি মমতা-অভিষেকের (Mamata Banerjee)
ঠিক ২৮ বছর আগে কংগ্রেসের বুক চিঁড়ে তৃণমূল কংগ্রেস বানিয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফের কংগ্রেসে ফেরার জল্পনা শুরু হয়। জুনের প্রথম দিকে সোনিয়া গান্ধির সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একান্ত বৈঠকের পরই তাঁকে কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় বলে জানা জয়। অপরদিকে রাহুল গান্ধী দলের সাধারণ সম্পাদক পদের প্রস্তাব অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দেন বলেও শোনা যায়। কিন্তু এই প্রসঙ্গে বিমানবন্দরে কোনও জবাব দেননি মমতা। তবে সূত্রের খবর, কংগ্রেসও ঠাঁই মিলবে না মমতা অভিষেকের। দুই নেতৃত্বকে কংগ্রেসে নিলে ক্ষুব্ধ হতে পারেন পশ্চিমবঙ্গের পুরনো হাতের নেতা কর্মীরা। তাই দলে নিতে নারাজ কংগ্রেস নেতৃত্ব, এমনটাই জানা যাচ্ছে।

তৃণমূলের নেতা কর্মীরাও বিচ্ছিন্ন (Mamata Banerjee)
ফল ঘোষণা হওয়ার পর থেকেই তৃণমূল ভাঙতে শুরু করে। প্রথমে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর দলে প্রায় ৬০ জন বিধায়ককে টেনে নেন। পরে ফিরহাদ হাকিন, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য আস্তে আস্তে যোগ দেন। যোগ দেন অনুব্রত মন্ডলও। শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়ও অদ্ভুত ভাবে নিশ্চুপ। অপরদিকে তৃণমূল সাংসদরাও মমতার পাশ থেকে সরে এসেছেন। প্রায় ২০ জন সাংসদ যোগ দিয়েছেন এনসিপিআইতে। রাজ্যসভার ৩ জন সাংসদ ইতিমধ্যেই ইস্তফা দিয়ে যোগ দিয়েছেন বিজেপিতে। অপরদিকে তৃণমূলের নিচু তলার কর্মী থেকে শুরু করে কাউন্সিলররা ক্রমশ কংগ্রেস, আম জনতা উন্নয়ন পার্টিতে ভিড়ে যাচ্ছে। মমতার হাত প্রায় শূন্য।
অপরদিকে তৃণমূলের নাম, প্রতীক এবং তহবিল নিয়ে আলাদা আলাদা নির্বাচন কমিশনারের কাছে সাওয়াল করেছেন ঋতব্রত তৃণমূল ও কালীঘাট তৃণমূল। তারপরই কালীঘাট তৃণমূল বুঝতে পেরেছে ঋতব্রত তৃণমূলের দিকেই পাল্লা ভারী। এইরকম পরিস্থিতিতে মমতা পুনরায় নতুন দল বানিয়ে বিজেপির বিরোধিতা করার পরিকল্পনা করছেন। তাঁর এই ঢাল নেই তরোয়াল নেই নিধিরাম সর্দার হওয়ার চিন্তা কতদূর গড়ায় সেটাই দেখার।

আরও পড়ুন :

