TMC vs BJP Bengal politics
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে নন্দীগ্রাম এবং ভবানীপুর—এই দুটি কেন্দ্রই গত কয়েক বছরে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে TMC vs BJP Bengal politics। এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের খাসতালুক ভবানীপুর থেকে নির্বাচনে লড়ছেন শুভেন্দু অধিকারী। প্রচারের ময়দানে তিনি বারবার মনে করিয়ে দিচ্ছেন যে, ২০২১ সালে নন্দীগ্রামে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ১৯৫৬ ভোটে হারিয়েছিলেন।
বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব, দাবি করছেন যে নন্দীগ্রামের মতোই এবার ভবানীপুরেও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পরাজিত হবেন।

ফের মুখোমুখি রাজনৈতিক লড়াই
সম্প্রতি ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ নাম বাদ যাওয়া নিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরব হয়েছেন। এর পাল্টা হিসেবে বিজেপি নেতারা কটাক্ষ করে বলছেন, নন্দীগ্রামের হারের ভয় থেকেই তিনি এখন ভোটার তালিকা বা কমিশনের ওপর দোষ চাপাচ্ছেন। বিজেপির আক্রমণ হলো— নন্দীগ্রামের সেই হার মুখ্যমন্ত্রীকে এখনো মানসিকভাবে ‘তাড়া করে বেড়ায়’।
পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখনও নন্দীগ্রামের পরাজয়ের ধাক্কা কাটিয়ে উঠতে পারেননি—এমনই রাজনৈতিক কটাক্ষে সরব বিরোধীরা। বুধবার ভবানীপুর কেন্দ্রে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গিয়েও নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ ঘিরে আবারও রাজ্য রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সূচনা হয়েছে।
.
মাননীয়া কে এখনও নন্দীগ্রামে পরাজয়ের আতঙ্ক তাড়া করে বেড়ায় !
ভবানীপুর কেন্দ্রে মনোনয়নপত্র দাখিল করতে গিয়েও অবচেতন মনে নন্দীগ্রাম।
মাননীয়া কে নন্দীগ্রামের ভোটার ভদ্রমণ্ডলী যে ফলাফল দিয়েছিলেন, ভবানীপুরের জনগণ একইরকম ফলাফল দেবেন।
আগামী ৪ঠা মে তৃণমূল ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের… pic.twitter.com/CaLn9TZAYY— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) April 8, 2026
মমতার প্রশ্নেই জল্পনা
মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় এক ছোট্ট কথোপকথন ঘিরে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে উপস্থিত প্রেসাইডিং অফিসারের সঙ্গে আলাপচারিতার সময় হঠাৎ প্রশ্ন করেন— “আপনি কি নন্দীগ্রাম থেকে এসেছেন?” নন্দীগ্রামের পরাজয় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।
এবার ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দিতে গিয়ে নন্দীগ্রামের প্রসঙ্গ উঠতেই বিরোধীরা দাবি করছে, ওই পরাজয়ের স্মৃতি এখনও তাড়া করে বেড়াচ্ছে মুখ্যমন্ত্রীকে। তাদের মতে, নন্দীগ্রামের ফলাফল রাজ্যের রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় এনে দিয়েছিল, যার প্রভাব এখনও পুরোপুরি কাটেনি।

মমতার প্রশ্নেই জল্পনা
নন্দীগ্রামের হার তৃণমূল ও মমতা দুই পক্ষের জন্যই বড় রাজনৈতিক ধাক্কা ছিল, কারণ নন্দীগ্রাম আন্দোলন করেই ২০১১ সালে তিনি ক্ষমতায় আসেন। ভবানীপুরে মনোনয়ন জমা দেওয়ার সময় সাংবাদিকদের অনেকে প্রশ্ন তুলেছিলেন যে নন্দীগ্রামের ফলাফল মাথায় রেখেই কি এবার “নিরাপদ” কেন্দ্র বাছা হল। মমতা নিজে তখন বলেছিলেন, “ভবানীপুর আমার ঘর”।
রাজনৈতিক মহলের মতে, নন্দীগ্রাম শুধু একটি নির্বাচনী কেন্দ্র নয়, বরং পশ্চিমবঙ্গের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। সেই কারণেই প্রতিবার নির্বাচনের সময় এই কেন্দ্রকে ঘিরে রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে ওঠে।
