ED Raids
Bengal Liberty, ২৬ এপ্রিল :
রাজ্যে বিধানসভা ভোটের উত্তাপ চরমে, আর সেই আবহেই নতুন করে তৎপর হয়ে উঠছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (ED Raids)। শনিবারের পর আজ, রবিবার ভোরেও একাধিক জায়গায় হানা দিল ইডি আধিকারিকরা। আর্থিক দুর্নীতির সূত্র খুঁজতে এবার আরও গভীরে নামছে তদন্ত। আজ, রবিবার কলকাতার আনন্দপুর থেকে আলিপুরে একযোগে তল্লাশি চালাচ্ছে ইডি। সূত্রের খবর, সম্ভাব্য অর্থলগ্নি ও কালো টাকার জটিল চক্রের ইঙ্গিত পেয়েই এই অভিযান চালাচ্ছে ইডি আধিকারিকরা (ED Raids)।

সোনা পাপ্পু যোগ (ED Raids)
তদন্তের কেন্দ্রে রয়েছে বহুল আলোচিত ‘সোনা পাপ্পু’ কাণ্ড। এই মামলার অন্যতম অভিযুক্ত সোনা পাপ্পু এখনও অধরা। তবে তার ঘনিষ্ঠ ব্যবসায়ী জয় কামদারকে গ্রেপ্তার করার পর তদন্তে গতি পেয়েছে ইডি। জয় কামদারের মোবাইল থেকে উদ্ধার হওয়া তথ্য ঘেঁটে একাধিক সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেনের হদিস মিলেছে বলে দাবি তদন্তকারীদের। সেই সূত্র ধরেই এদিন আনন্দপুর ও আলিপুরের দুই ব্যবসায়ীর বাড়িতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। ইডির অনুমান, সোনা পাপ্পুর বেআইনি অর্থ এই ব্যবসায়ীদের মাধ্যমে বিনিয়োগ বা পাচার করা হয়ে থাকতে পারে। এর আগে এই মামলায় কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার শান্তনু সিংহ বিশ্বাসের বাসভবনেও তল্লাশি চালানো হয়েছিল।

ভোটের আগে তল্লাশি ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর (ED Raids)
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোটের ঠিক আগে এই অভিযান ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক তরজা। শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস এই তল্লাশিকে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, নির্বাচনের মুখে বিরোধীদের চাপে রাখতে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে ব্যবহার করা হচ্ছে। অন্যদিকে বিজেপি এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে জানিয়েছে, ইডি একটি স্বাধীন সংস্থা হিসেবে আইন মেনেই কাজ করছে, এবং তদন্তের সঙ্গে রাজনীতির কোনও সম্পর্ক নেই। এদিকে একই দিনে উত্তর কলকাতায় নরেন্দ্র মোদির রোড শো থাকায় ঘটনাপ্রবাহ আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে প্রশাসনিক পদক্ষেপ, রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া এবং ভোটের সমীকরণ, সব মিলিয়ে রাজ্যের পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংবেদনশীল বলা চলে।
