Ramakrishna Koyal
Bengal Liberty, Kolkata :
পুলিশের ইউনিফর্ম পরে ফেসবুক লাইভে সরকার বিরোধী বিস্ফোরক মন্তব্য! পরিণাম হাতেনাতে। তৃণমূল সরকারের বিরুদ্ধে ‘ইসলামীকরণ’-এর অভিযোগ তুলে সরকার পরিবর্তনের ডাক দিয়েছিলেন যে পুলিশকর্মী, সেই রামকৃষ্ণ কয়ালকে এবার সাসপেন্ড করল কলকাতা পুলিশ। Ramakrishna Koyal
ফেসবুক লাইভে কী বলেছিলেন রামকৃষ্ণ? Ramakrishna Koyal
গতকালই উর্দিতে পড়ে ফেসবুক লাইভে বোমা ফাটিয়েছিলেন। আর তার ঠিক ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই কড়া মাসুল গুনতে হলো কলকাতা পুলিশের কনস্টেবল রামকৃষ্ণ কয়ালকে। তিনি লাইভে এসে সরাসরি সরকার বিরোধী কিছু কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন “আমি রামকৃষ্ণ কয়াল। দীর্ঘ 23 বছর আমার কর্মজীবন অতিবাহিত। আরও 17 বছর কাজ করব। এর মধ্যে 15টা বছর আমি তৃণমূল সরকারকে দিয়েছি। আমি দেখেছি ডিপার্টমেন্টে কীভাবে ইসলামীকরণ হচ্ছে। প্রশাসনিকভাবে একজন হিন্দুকে, বাঙালিকে মুসলিম হওয়ার জন্য উৎসাহিত করা হচ্ছে।”

এছাড়াও পুলিশকর্মীর বক্তব্য, “প্রথম দফার নির্বাচন হয়ে গিয়েছে। সেকেন্ড ফেজের নির্বাচনে এই দক্ষিণবঙ্গের সমস্ত বাঙালির কাছে আমার আবেদন, আপনাদের ভাষায় তথাকথিত চটিচাটা, দলদাস একজন পুলিশের আবেদন, আপনারা এমনভাবে ভোট করুন, ভোট দিন যাতে সরকারের পরিবর্তন হয়। হ্যাঁ, আমি একজন দলদাস, পুলিশ এই কথাটা বলছি কারণ আমি দেখেছি কী দ্রুততার সাথে এই ডিপার্টমেন্টে ইসলামীকরণ করা হচ্ছে।” তিনি আরও বলেন “তৃণমূলের জিতে যাওয়া মানে মুসলমানের জিতে যাওয়া! জিহাদী শক্তির জিতে যাওয়া। আর মুসলমানদের জিতে যাওয়া মানে হচ্ছে আমাদের মট মন্দির ধ্বংস করা। এতে হিন্দুদের ক্ষতি।” নিজেকে দললস হিসেবে পরিচয় দেওয়া ওই পুলিশ কর্মী এদিন কার্যত বুক ফুলিয়ে এথাও বললেন, “তৃণমূল জিতে গেলে মুসলিম শক্তি জিতে যাবে। আর মুসলিম শক্তি জিতলে মা-বোনেদের ইজ্জত যাবে। রাস্তায় মা-বোনেদের ধর্ষিতা হতে হবে!” উল্লেখ্য এই ভিডিওতে সরকারি দপ্তরের আসল কঙ্কালটা সবার সামনে এনে দিয়েছেন এই পুলিশকর্মী।
প্রশাসনের তৎপরতা
ভিডিওটি ভাইরাল হতেই নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সূত্রের খবর, পুলিশের চাকরিতে থেকে এভাবে সরাসরি রাজনৈতিক প্রচার এবং সাম্প্রদায়িক উস্কানিমূলক মন্তব্য করা সার্ভিস রুল বা চাকুরির বিধির চরম লঙ্ঘন। আর সেই কারণেই তড়িঘড়ি ওই কনস্টেবলকে সাসপেন্ড করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন ওপর মহল।
মতপ্রকাশ
তবে এই বিষয়ে একাংশের দাবি, তিনি যা বলেছেন তা ‘তেতো সত্যি’। সিস্টেমের পচন ধরতেই তিনি নিজের ক্যারিয়ার বাজি রেখে সাধারণ মানুষের চোখ খোলার চেষ্টা করেছেন। তাঁদের প্রশ্ন “সত্যি বললে কি এভাবেই মুখ বন্ধ করা হবে?” অন্যদিকে, প্রশাসনের পাল্টা যুক্তি, পুলিশ কোনো ধর্মের বা কোনো দলের নয়, তারা নিরপেক্ষ। একজন সরকারি কর্মী হিসেবে রামকৃষ্ণ যে ভাষায় আক্রমণ চালিয়েছেন, তা কেবল শৃঙ্খলাভঙ্গ নয়, বরং সমাজে বিভেদ তৈরির এক বিপজ্জনক চেষ্টা।
আগামী ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট। তার আগে এই ধরণের ভিডিও এবং তার পরবর্তী অ্যাকশন যে ভোটের ময়দানে প্রভাব ফেলবে, তা বলাই বাহুল্য
