Prashant Chandila
Bengal Liberty, ১ মে :
কলকাতায় তৃণমূলের ভোটকুশলী সংস্থা আইপ্যাকের অফিস এবং কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়িতে তল্লাশি অভিযানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার স্বীকৃতি পেলেন ইডি আধিকারিক প্রশান্ত চান্ডিলা (Prashant Chandila)। তাঁর ‘ব্যতিক্রমী পেশাদারী সাহসিকতা’ ও দক্ষ তদন্তের স্বীকৃতি হিসেবে এই পুরস্কার দেওয়া হয়েছে। শুক্রবার দিল্লিতে ইডির ৭০তম প্রতিষ্ঠা দিবসের অনুষ্ঠানে অ্যাসিস্ট্যান্ট ডিরেক্টর প্রশান্ত চান্ডিলাকে ‘ ইডি স্পেশাল আওয়ার্ড (ED Special Award)’ দিয়ে সম্মানিত করা হয়। তদন্ত চলাকালীন তাঁর তৈরি করা গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রই পরে সুপ্রিম কোর্টে ইডির মামলার অন্যতম প্রধান হাতিয়ার হয়ে ওঠে, যা এই সম্মান পাওয়ার অন্যতম কারণ (Prashant Chandila)।

আইপ্যাক তল্লাশি অভিযান (Prashant Chandila)
গত জানুয়ারিতে কয়লা পাচার মামলার তদন্তে কলকাতার লাউডন স্ট্রিটে প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং সল্টলেকে আইপ্যাকের দপ্তরে একযোগে হানা দেয় ইডি। তল্লাশি চলাকালীন সেখানে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপস্থিত হওয়ায় পরিস্থিতি অভূতপূর্ব মোড় নেয়। অভিযোগ ওঠে, মুখ্যমন্ত্রী ইডি আধিকারিকদের সামনেই কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি নিয়ে বেরিয়ে যান। ইডির দাবি, এতে তল্লাশিতে বাধা সৃষ্টি হয়েছে এবং ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছে। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়, পুরো ঘটনাই রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত এবং নথি চুরির পরিকল্পনা করেছিল বিজেপি।

সাহসিকতার স্বীকৃতি (Prashant Chandila)
শুক্রবার পুরস্কার প্রদানের সময় সঞ্চালক জানান, কলকাতার সেই অভিযানে প্রশান্ত চান্ডিল অত্যন্ত বুদ্ধিদীপ্তভাবে একটি নিখুঁত ‘পঞ্চনামা’ প্রস্তুত করেছিলেন। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও তাঁর তৈরি সেই নথিই পরে সুপ্রিম কোর্টে ইডির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। তাঁর পাশাপাশি ওই অভিযানে যুক্ত আরও দুই আধিকারিক- বিক্রম অহলওয়াট এবং বিনেশ চান্দেলকে গ্রেফতারির সঙ্গে যুক্ত এক কর্তাকেও একই অনুষ্ঠানে সম্মান জানানো হয়েছে। তবে পুরস্কার ঘোষণার সময় আইপ্যাকের নাম উল্লেখ করা হয়নি।
প্রসঙ্গত, ইডি ফাউন্ডেশন ডে উপলক্ষে প্রতি বছরই ইডির কৃতি আধিকারিকদের সম্মান জানায়। তবে এবারের পুরস্কার আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। কারণ, রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত সংবেদনশীল একটি মামলার মাঝখানে, খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতেও নিজের দায়িত্ব সামলে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য স্বীকৃতি পেলেন প্রশান্ত চান্ডিল। তদন্ত চলাকালীন তাঁর দেওয়া বয়ান ও সেই ভিত্তিতে তৈরি ইডির বিবৃতিই পরে সুপ্রিম কোর্টে আইনি লড়াইয়ে সংস্থার বড় শক্তি হয়ে দাঁড়ায় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশ।
