writers building
বেঙ্গল লিবার্টি, কলকাতা:
দীর্ঘ এক যুগের প্রতীক্ষার অবসান। ১৩ বছর পর গঙ্গার পাড় থেকে শাসনভার ফিরছে লালদিঘির পাড়ে। ‘নবান্ন’ নয়, বাংলার প্রশাসনিক ক্ষমতার অলিন্দ হিসেবে ফের ডালহৌসির সেই চিরচেনা ‘লালবাড়ি’ অর্থাৎ মহাকরণ। ব্রিটিশ আমলের এই ঐতিহ্যবাহী লালবাড়িতেই বসতে চলেছেন বাংলার নবম মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। (writers bulding construction)

অবহেলার ধুলো ঝেড়ে জেগে উঠছে মহাকরণ (writers bulding construction)
২০১৩ সালে সংস্কারের নাম করে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার মহাকরণ ছেড়ে নবান্নে স্থানান্তরিত হয়েছিল। কথা ছিল পাঁচ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করে ফেরার, কিন্তু সেই কাজ শেষ হয়নি দীর্ঘ ১৩ বছরেও। শ্লথ গতির সংস্কার আর রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে কার্যত খাঁ-খাঁ করত এই বিশাল ভবন। তবে ৮ই মে এর পর ছবিটা আমূল বদলে গিয়েছে। গত কয়েক বছরের ঝিমিয়ে পড়া ভাব উধাও হয়ে এক লহমায় জেগে উঠেছে লাল ইটের এই স্থাপত্য।
বিজেপি তাদের নির্বাচনী ইস্তাহারে কথা দিয়েছিল, ক্ষমতায় এলে মহাকরণই হবে রাজ্যের প্রধান সচিবালয়। সেই কথা রাখতেই ৪ঠা মে ফলাফল ঘোষণার পরদিন থেকেই মহাকরণ মেরামতের জোর প্রস্তুতি শুরু হয়।
মূল ব্লক সংস্কার: পূর্ত দফতরের ইঞ্জিনিয়ারদের দল ইতিমধ্যেই মূল এলাকাগুলি পরিদর্শন করেছেন। বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে দ্বিতীয় তলে, যেখানে বসবেন মুখ্যমন্ত্রী, মুখ্যসচিব ও স্বরাষ্ট্রসচিব।
বিদ্যুৎ ও নিরাপত্তা: পুরনো পরিকাঠামো বদলে বিদ্যুতের পৃথক লাইন টানার কাজ শুরু হয়েছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক সদরের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে ঢেলে সাজানো হচ্ছে নজরদারি ব্যবস্থা।
দফতর প্রত্যাবর্তন: আগে যেখানে ৩৪টি দফতরের প্রায় ৬ হাজার কর্মী কাজ করতেন, তাঁদের ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া শুরু করার প্রাথমিক প্রস্তুতি চলছে।

ফিরছে পুরনো ব্যস্ততা
মহাকরণের দ্বিতীয় এবং তৃতীয় তলে এক সময় সার দিয়ে বসতেন মন্ত্রী ও উচ্চপদস্থ আমলারা। বর্তমানে সেই পুরনো ঘরগুলি ধুয়ে-মুছে সাফ করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের আনাগোনা বেড়েছে, পুলিশকর্মীদের তৎপরতাও চোখে পড়ার মতো। আপাতত একটি ব্লককে কেন্দ্র করে বিদ্যুৎ ও নির্মাণ পরিকল্পনার কাজ শুরু হয়েছে, যাতে মুখ্যমন্ত্রী দ্রুত তাঁর কার্যভার সেখান থেকে পরিচালনা করতে পারেন।
১৩ বছরের ‘নির্বাসন’ কাটিয়ে মহাকরণ আবার তার হারানো গরিমা ফিরে পাচ্ছে। বাংলার ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় সাক্ষী হতে চলেছে এই প্রাচীন লালবাড়ি।
