Dilip ghosh
Bengal Liberty, ১১ মে :
নবান্নে শপথ গ্রহণের রেশ কাটতে না কাটতেই সোজা ময়দানে নেমে পড়লেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর মন্ত্রিসভার অন্যতম সেনাপতি নবনিযুক্ত মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ (Dilip ghosh)। আজ সোমবার শপথ গ্রহণের পর সোজাসুজি পৌঁছে গেলেন সল্টলেকের ‘মৃত্তিকা ভবন’-এ। কৃষি, কৃষি বিপণন এবং পঞ্চায়েত ও গ্রামোন্নয়নের মতো তিনটি হেভিওয়েট দপ্তরের দায়িত্ব কাঁধে নিয়েই আজ আধিকারিকদের সঙ্গে ম্যারাথন বৈঠক সারলেন তিনি।

তৃণমূল জমানার ‘নিয়োগ-খরা’ কাটাতে মরিয়া দিলীপ Dilip ghosh
এদিন মৃত্তিকা ভবনে দীর্ঘক্ষণ বৈঠক করার পর দিলীপ ঘোষ পঞ্চায়েত স্তরের বেহাল দশা নিয়ে সরব হন। তিনি স্পষ্ট জানান, বিগত তৃণমূল সরকারের আমলে পঞ্চায়েত দপ্তরকে পঙ্গু করে রাখা হয়েছিল। বছরের পর বছর কোনো নতুন নিয়োগ হয়নি, যার ফলে গ্রামোন্নয়নের কাজ থমকে রয়েছে। দক্ষ অফিসারের অভাবে গ্রামীণ প্রশাসন কার্যত দিশেহারা। নতুন মন্ত্রীর সাফ কথা, অবিলম্বে ‘ম্যান পাওয়ার’ বা জনশক্তি বাড়াতে হবে; অন্যথায় গ্রামের সামগ্রিক বিকাশ অসম্ভব।

আবাস যোজনার ফান্ড ও স্বচ্ছতার বার্তা Dilip ghosh
তৃণমূল জমানায় চুরির অভিযোগে বন্ধ হয়ে যাওয়া কেন্দ্রীয় প্রকল্পের টাকা ফেরানোই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এদিন দিলীপ ঘোষ আশ্বাস দিয়েছেন, খুব শীঘ্রই রাজ্যে ‘আবাস যোজনা’-র টাকা আসবে। তবে সেই টাকা যাতে কোনোভাবেই ‘তৃণমূলী সিন্ডিকেট’ বা দুর্নীতির পকেটে না যায়, তা সুনিশ্চিত করতে কড়া নজরদারি চালানো হবে। সাধারণ ও যোগ্য মানুষ যাতে মাথার ওপর ছাদ পায়, সেটাই এখন নতুন সরকারের প্রধান লক্ষ্য।
প্রশাসনিক কাজে গতি আনার কড়া দাওয়াই Dilip ghosh
বৈঠক শেষে দিলীপ ঘোষ সাংবাদিকদের জানান, সরকারি কাজে অলসতা বা ফাইল আটকে রাখার সংস্কৃতি আর বরদাস্ত করা হবে না। তিনি আধিকারিকদের নির্দেশ দিয়েছেন পঞ্চায়েত ও কৃষি দপ্তরের কাজে গতি ফেরাতে হবে। গ্রামোন্নয়নের প্রতিটি প্রকল্পে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে হবে। এবং ফিল্ড পর্যায়ের কাজের তদারকি বাড়াতে হবে যাতে সাধারণ মানুষ সরাসরি পরিষেবা পায়।
সবমিলিয়ে তৃণমূলের ফেলে যাওয়া ‘ফাঁকা পঞ্চায়েত’ আর ‘উন্নয়নহীন গ্রাম’ পুনর্গঠনে দিলীপ ঘোষের এই তৎপরতা সাধারণ মানুষের মনে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে।
