Sujit Bose
Bengal Liberty, ১২ মে :
সোমবার দিনভর জেরার পর অবশেষে শ্রীঘরে ঠাঁই হয়েছে প্রাক্তন মন্ত্রী সুজিত বসুর (Sujit Bose)। আজ সকালে জোকা ইএসআই হাসপাতালে মেডিক্যাল টেস্ট করিয়ে বিধাননগরের ‘পরাজিত’ বিধায়ককে সরাসরি বিশেষ আদালতে পেশ করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)। তবে গ্রেফতারির ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই সামনে এসেছে এক বিস্ফোরক তথ্য! ইডি-র দাবি, রেস্তোরাঁ ব্যবসার আড়ালে আসলে চলত কোটি কোটি টাকার ‘মানি লন্ডারিং’। গত ৭ বছরে সুজিত ও তাঁর পরিবারের রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা!

চাইনিজ রেস্তোরাঁর আড়ালে কোটি কোটি টাকার ‘লন্ডারিং’! Sujit Bose
রেস্তোরাঁর আড়ালে কি তবে দুর্নীতির ‘ব্ল্যাক মানি’ সাদা করার কারখানা খুলেছিলেন সুজিত বসু? পুর-নিয়োগ মামলায় ধৃত প্রাক্তন মন্ত্রীর ডায়েরি আর ব্যাঙ্ক স্টেটমেন্ট ঘাটতেই চক্ষু চড়কগাছ ইডি-র গোয়েন্দাদের। গত ৭ বছরে সুজিত ও তাঁর পরিবারের রেস্তোরাঁর অ্যাকাউন্টে জমা পড়েছে প্রায় ৮ কোটি টাকা! চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, যখন লকডাউনে গোটা দেশের ব্যবসা লাটে উঠেছিল, ঠিক সেই সময়েই সুজিতের চাইনিজ রেস্তোরাঁয় উপচে পড়েছিল কোটি কোটি টাকা।
আজ আলিপুর আদালতে সুজিতকে পেশ করে এই পাহাড় প্রমাণ দুর্নীতির খতিয়ান তুলে ধরল কেন্দ্রীয় এজেন্সি। ইডির কড়া সন্দেহ পুর-নিয়োগ দুর্নীতির মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থীদের থেকে লুঠ করা কালো টাকাই এই ব্যবসার আড়ালে ‘সাদা’ করা হয়েছে।

ছেলের অ্যাকাউন্টেও দুর্নীতির ভাগ!
উল্লেখ্য তদন্তের জাল কেবল সুজিতের ওপর নয়, ছড়িয়েছে তাঁর পরিবারের ওপরও। ইডি সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য, মন্ত্রী-পুত্র সমুদ্র বসুর রেস্তোরাঁ থেকেও মোটা অঙ্কের নগদ টাকা উদ্ধার করেছেন তদন্তকারীরা। এবং লেকটাউনের ব্যবসায়ী বিবেক ঢনঢনিয়ার অফিস থেকে উদ্ধার হওয়া ৩ কোটি টাকার সাথে সুজিত-পরিবারের সরাসরি যোগসূত্র মিলেছে। তদন্তে দেখা গিয়েছে, ওই ব্যবসায়ীর সংস্থা থেকে নিয়মিত টাকা যেত সুজিতের ছেলে ও মেয়ের ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে। কেন এই উপঢৌকন? কেন প্রতি মাসে মন্ত্রীর সন্তানদের অ্যাকাউন্টে টাকা পাঠাতেন ওই ব্যবসায়ী? সেই রহস্যভেদ করতে এই মুহূর্তে মরিয়া কেন্দ্রীয় এজেন্সি।
জেরায় নিরুত্তর সুজিত
আদালতে ইডির আইনজীবীরা জানিয়েছেন, জেরার সময় সুজিত বসুর জবাবে বারবার অসঙ্গতি ধরা পড়েছে। একাধিক ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট এবং বিপুল সম্পত্তির উৎস নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি তিনি। ধূর্ত নেতার মতো বারবার এড়িয়ে গিয়েছেন অস্বস্তিকর প্রশ্ন। আর সেই কারণেই দুর্নীতির শিকড়ে পৌঁছাতে সুজিতকে মুখোমুখি বসিয়ে জেরা করতে চায় ইডি। ১০ দিনের হেফাজতে পেলে আরও বড় কোনো ‘রাঘববোয়ালের’ নাম সামনে আসবে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
