Vande Mataram
Bengal Liberty, ১৪ মে :
দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান! বাংলার শিক্ষাঙ্গনে এবার ধ্বনিত হবে ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের সেই অমর মন্ত্র (Vande mataram)। রাজ্যের প্রতিটি বিদ্যালয়ে ক্লাস শুরুর আগে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি গাওয়া বাধ্যতামূলক করতে চলেছে নবনির্বাচিত বিজেপি সরকার। আজই এই সংক্রান্ত চূড়ান্ত নির্দেশিকা জারি করবেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তোষণ আর বিকৃত ইতিহাসের দিন শেষ করে বাংলার কৃষ্টি ও জাতীয়তাবোধকে ছাত্রছাত্রীদের মনে গেঁথে দিতেই এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপ বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
বিদ্যালয়ে বাধ্যতামূলক ‘বন্দে মাতরম’, কী থাকছে নির্দেশিকায়? Vande mataram
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নির্দেশে আজ যে নির্দেশিকাটি শিক্ষা দফতর জারি করতে চলেছে, তাতে স্পষ্ট জানানো হবে
প্রাত্যহিক আবশ্যিকতা: প্রতিদিন পঠন-পাঠন শুরু হওয়ার আগে সমবেত কণ্ঠে ‘বন্দে মাতরম’ গাইতে হবে ছাত্রছাত্রী ও শিক্ষক-শিক্ষিকা উভয়কেই।
শ্রদ্ধা প্রদর্শন: গান চলাকালীন প্রতিটি বিদ্যালয়ের চত্বরে সর্বোচ্চ শৃঙ্খলা ও শ্রদ্ধা বজায় রাখতে হবে।
সংস্কৃতির প্রসার: এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলার বিপ্লবী ইতিহাস ও দেশাত্মবোধের বার্তা পৌঁছে দেওয়াই সরকারের মূল লক্ষ্য।

কেন্দ্রের নির্দেশ মেনে এবার ৬টি স্তবকেই সুর বাঁধবে বাংলা
চলতি বছরের জানুয়ারিতেই কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের নেতৃত্বাধীন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক ‘বন্দে মাতরম’ নিয়ে একটি যুগান্তকারী গাইডলাইন জারি করেছিল। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সেই পথেই হাঁটছেন। কেন্দ্রীয় নির্দেশিকা অনুযায়ী:
পূর্ণাঙ্গ গান: এবার থেকে ‘বন্দে মাতরম’ গানের আংশিক নয়, বরং সম্পূর্ণ ৬টি স্তবকই গাইতে হবে।
দাঁড়িয়ে সম্মান: গানটি গাওয়ার বা বাজার সময় শ্রোতাদের উঠে দাঁড়িয়ে যথাযথ সম্মান প্রদর্শন করা বাধ্যতামূলক।
দেশপ্রেমের নয়া জোয়ার না কি রাজনীতির চাল?
তৃণমূল জমানায় যে ‘বন্দে মাতরম’ গানটি ব্রাত্য হয়ে পড়েছিল বলে অভিযোগ উঠত, শুভেন্দু অধিকারীর এই সিদ্ধান্ত সেই বিতর্কে দাঁড়ি টানল। বিজেপি শিবিরের মতে, এটি কেবল একটি গান নয়, এটি বাঙালির অস্তিত্বের প্রতীক। প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছে, বিদ্যালয়ে এই নিয়ম চালু করার মাধ্যমে বাংলার শিক্ষাব্যবস্থায় যে ‘জাতীয়তাবাদী সংস্কারের’ প্রতিশ্রুতি মুখ্যমন্ত্রী দিয়েছিলেন, তারই প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে।
যে গান গেয়ে বাঙালি বিপ্লবীরা ফাঁসির মঞ্চে প্রাণ দিয়েছিলেন, সেই গান গাইতে কেন এত দ্বিধা ছিল বিগত সরকারের? শুভেন্দু অধিকারী আজ প্রমাণ করে দিলেন যে, বাংলার মাটিতে দাঁড়িয়ে ‘বন্দে মাতরম’ বলতে আর কোনো বাধা নেই।
