Employment Fair 2026 India
Bengal Liberty, ২৩ মে ২০২৬: ২৩ মে ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত ১৯তম রোজগার মেলায় কলকাতায় ২৭১ জনের হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেওয়া হয় (Employment Fair 2026 India)। কেন্দ্রীয় জাহাজ প্রতিমন্ত্রী শান্তনু ঠাকুর কলকাতায় এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এবং স্বরাষ্ট্র, ডাক, উচ্চশিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থ-সহ বিভিন্ন সরকারি দফতরে নবনিযুক্তদের নিয়োগপত্র প্রদান করেন। ১৯তম রোজগার মেলায় ৫১ হাজারেরও বেশি যুবক-যুবতীর হাতে নিয়োগপত্র তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।
দেশে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির জন্যই কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে প্রতি বছর রোজগার মেলার আয়োজন করা হয়। এর আগে পর্যন্ত ১৮টি রোজগার মেলায় মোট ১২ লক্ষ নিয়োগপত্র বিলি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁর পাঁচ রাষ্ট্রের বিদেশ সফরে দেশের কর্মসংস্থান ও দেশের অগ্রগতিতে কী ভাবে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, তা নিয়ে বক্তব্য রাখেন।

মোদির রোজগার নিয়ে বার্তা (Employment Fair 2026 India)
” পাঁচ দেশের সফর করে এলাম। প্রায় এক ডজন দেশের বড় সংস্থার নেতাদের সঙ্গে কথা হয়েছে। সব ক্ষেত্রেই বুঝেছি, বাকি দুনিয়া ভারতের যুবসমাজ ও প্রযুক্তি নিয়ে উৎসাহিত। তারাও ভারতের বিকাশযাত্রার অংশীদার হতে চায়।” কোন দেশের সঙ্গে কী নিয়ে সমঝোতা হয়েছে, তাতে ভারত কতটা লাভবান হবে, সে কথাও জানিয়েছেন মোদি। তিনি জানান, নেদারল্যান্ডসের সঙ্গে সেমিকন্ডাক্টর, জল, কৃষি ও আধুনিক প্রযুক্তি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সুইডেনের সঙ্গে এআই (কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা) নিয়ে কথা হয়েছে। ডিজিটাল ইনোভেশন নিয়েও আলোচনা হয়েছে। নরওয়ের সঙ্গে সবুজ প্রযুক্তি ও মেরিটাইম কো-অপারেশন নিয়ে কথা হয়েছে। আরব আমিরশাহির সঙ্গে কৌশলগত শক্তি নিয়ে সমঝোতা হয়েছে। ইতালির সঙ্গে প্রতিরক্ষা, খনিজ ও বিজ্ঞান-প্রযুক্তি নিয়ে কথা হয়েছে। সেই দেশের সঙ্গে অংশীদারিত্ব নিয়েও চুক্তি হয়েছে। মোদির কথায়, “এই সবের লাভ এ দেশের যুবসমাজ পাবে।”
TMC Councilor: তোলাবাজির অভিযোগে বেহালার তৃণমূল নেতা সুদীপ পোল্লে গ্রেফতার | Bengal Liberty@AITCofficial #TMCNews #TMCWestBengal #Behala #WestBengalNews #BengalLiberty pic.twitter.com/G4ObfaVU7C
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) May 23, 2026

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী (Employment Fair 2026 India)
” পৃথিবী জুড়ে ক্ষুদ্র শিল্পের ধারা যেই ভাবে সমস্ত রাষ্ট্রগুলিকে প্রগতিশীলতার দিকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে, তা ভারতের জন্যও বিশেষ কার্যকরী ভূমিকা গ্রহণ করবে। এরই সঙ্গে ভারতের গ্লোবাল গ্রোথে দেশের যুবক-যুবতীরা শৃঙ্খলের ভরসাযোগ্য অংশীদার হচ্ছে। সুইডেনের সঙ্গে প্রযুক্তি ও এআই নিয়ে সমঝোতা, আরব আমিরশাহির সঙ্গে কৌশলগত শক্তি নিয়ে সমঝোতা দেশের প্রযুক্তিকে মজবুত করবে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, নতুন অংশীদারির পরে বাকি দুনিয়ার সঙ্গে এ দেশের যুবসমাজের যোগ আরও বাড়বে। দুনিয়া সেই সব দেশকে সম্মান করে, যারা উদ্ভাবন করে, নির্মাণ করে এবং বড় স্তরে কাজ সরবরাহ করে। মোদি জানান, ভারত তিনটি বিষয়েই এগিয়ে চলেছে। জাহাজ নির্মাণ ও মেরামতিতে বড় বিনিয়োগের কথাও তুলে ধরেছেন মোদি। তিনি জানান, এর ফলে কর্মসংস্থান বাড়বে।
শহর কিংবা গ্রামের মধ্যে কোনও পার্থক্য থাকবে না, সমস্ত প্রতিভাবান প্রার্থীরাই এর বিশেষ সুবিধা গ্রহণ করবে।”
স্বচ্ছ নিয়োগের জন্য বিধানসভায় আনা হচ্ছে নতুন আইন
একদিকে যখন প্রধানমন্ত্রী প্রগতিশীল ভারত গড়ার ডাক দিলেন, অন্য দিকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী শিয়ালদহের রোজগার মেলা থেকে স্বচ্ছ নিয়োগের জন্য বিধানসভায় নতুন আইনের ঘোষণা করলেন।

মুখ্যমন্ত্রীর নয়া ঘোষণা (Employment Fair 2026 India)
শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি, পুর নিয়োগ দুর্নীতি, হাই কোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ, ২৬ হাজার শিক্ষক-শিক্ষিকা-শিক্ষাকর্মীর চাকরি বাতিল— ইতিমধ্যেই পশ্চিমবঙ্গের বদনাম হয়েছে। বিগত দিনে পশ্চিমবঙ্গে নিয়োগ সংক্রান্ত বিষয়ে যে অভিজ্ঞতা হয়েছে, তাতে শিক্ষা, সংস্কৃতি ও আধ্যাত্মিক চেতনার অন্যতম রাজধানী কলকাতা তথা পশ্চিমবঙ্গের অনেকটাই ক্ষতি হয়েছে। রাজ্যের সেই ভাবমূর্তি বদলাতে এ বার নিয়োগে স্বচ্ছতা অভিযান শুরু করছে বিজেপি সরকার।
পরীক্ষাকেন্দ্রগুলিও কলুষিত হয়েছে। সে সব খোলনলচে বদলে স্বচ্ছতার নিরিখে নিয়োগই নতুন সরকারের একমাত্র লক্ষ্য। শুভেন্দু অধিকারীর কথায়, “আগামী দিনে সরকারি স্তরে বা সরকার-পোষিত বিভিন্ন সংস্থায় নিয়োগের ক্ষেত্রে আমরা চিন্তাভাবনা করছি।
আরো পড়ুন:- CM Suvendu Adhikari : শূন্যপদে নজর মুখ্যমন্ত্রীর, ৩ জুনের মধ্যে সব দপ্তরকে রিপোর্ট জমার নির্দেশ
তিনি আরও জানান (Employment Fair 2026 India)
” রেলওয়ে রিক্রুটমেন্ট বোর্ড, আধাসামরিক বাহিনীতে নিয়োগ-সহ কেন্দ্রের নানা সংস্থার নিয়োগের ক্ষেত্রে ভারত সরকার যে ধরনের উদ্যোগ নিয়েছে, কেন্দ্রের দেখানো পথেই হাঁটবে পশ্চিমবঙ্গের ডাবল ইঞ্জিন সরকার।” মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “ডাবল ইঞ্জিনের হাইস্পিডে আমরা ছুটব। এখানে কেন্দ্র ও রাজ্য একসঙ্গে কাজ করবে।”
খুব শীঘ্রই নয়া আইন বিধানসভায় পাস হবে বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।

আগের জমানায় রোজগার মেলা (Employment Fair 2026 India)
রাজ্যের কর্মসংস্থান ও শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে বেশি ক্ষতি পূর্ব সরকারের আমলে হয়েছে। এ বারের রোজগার মেলা অনেক বেশি গঠনমূলক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে সম্পূর্ণ হয়েছে। কয়েকটি বিষয়কে কেন্দ্র করে বাড়তি নজর দেওয়া হয়েছে, যেমন কৃষি, মৎস্য, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প। কিন্তু পূর্ব সরকারের আমলে শুধুমাত্র নামেই রোজগার মেলার ঘোষণা করা হতো। যত রোজগার মেলা হয়েছে, ততই তৈরি হয়েছে হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ, উঠেছে চাঁদা, বেড়েছে সিন্ডিকেট ও কাটমানির রাজত্ব।
পরিকল্পনা তো দূরের কথা, ১৫ বছরের শাসনব্যবস্থায় ১৫ মিনিটের জন্যও রাজ্যের বেহাল কর্মসংস্থানের দশা নিয়ে কোনও আলোচনা হয়নি। কেউ যদি আলোচনা করতে গিয়েছে, তাকেও ধমক দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়া হয়েছে।
আগের সরকারের আমলে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বারংবার দাবি জানিয়েছিলেন যে রাজ্যে দু’কোটি চাকরি হয়েছে, কিন্তু পরিসংখ্যান অন্য কথা বলছে।

বেকার বৃদ্ধি (Employment Fair 2026 India)
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর ৩৫ শতাংশ কারখানা বন্ধ হয়েছে। এরই সঙ্গে ৪০ লক্ষ যুবক অন্য রাজ্যে কর্মসংস্থানের জন্য পাড়ি দিয়েছেন। পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষা ব্যবস্থায় দুর্নীতির কথাও উঠে এসেছে।
রাজ্যে পালাবদলের পর একের পর এক ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে শক্তিশালী, প্রগতিশীল সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বদ্ধপরিকর বিজেপি সরকার। এর পরে আর কী কী নতুন চমক অপেক্ষা করে আছে, সেটাই এখন দেখার। রাজ্য কি ঘুরে দাঁড়াবে কর্মসংস্থানের দিক দিয়ে?

