IPAC Case Hearing
Bengal Liberty , kolkata:
বুধবার সুপ্রিম কোর্টে আইপ্যাক সংক্রান্ত মামলার শুনানি শুরু হতেই কেন্দ্র ও রাজ্যের আইনজীবীদের মধ্যে তীব্র বাদানুবাদ তৈরি হয়(IPAC Case Hearing)। শুনানির শুরুতেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আইনজীবীরা পাল্টা হলফনামা জমা দেওয়ার জন্য অতিরিক্ত সময় চান। এই আবেদনের তীব্র বিরোধিতা করেন কেন্দ্রের অতিরিক্ত সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা। এই টানাপোড়েনের মধ্যেই ইডির মামলা করার মৌলিক অধিকার ও আইনি যৌক্তিকতা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে রাজ্য পক্ষ। চার ঘণ্টার দীর্ঘ শুনানির পর আগামী মঙ্গলবার পরবর্তী শুনানির দিন নির্ধারিত হয়েছে।

শুনানির সূচনাতেই বাদানুবাদ IPAC Case Hearing
বিচারপতি প্রশান্ত কুমার মিশ্র ও বিচারপতি এন. ভি. অঞ্জারিয়ার বেঞ্চে এদিন শুনানি চলাকালীন রাজ্যের পক্ষে সিনিয়র আইনজীবী শ্যাম দিভান সময় চেয়ে আবেদন জানান। তাঁর বক্তব্য, ইডি যে ‘রিজয়েন্ডার অ্যাফিডেভিট’ জমা দিয়েছে, তাতে নতুন অভিযোগ ও তথ্য যুক্ত হয়েছে। সেগুলির জবাব প্রস্তুত করতে সময় প্রয়োজন।

আদালতের পর্যবেক্ষণে অসন্তোষের সুর
শুনানির শুরুতেই সময় প্রার্থনা নিয়ে আদালত উষ্মা প্রকাশ করে বিচারপতিরা প্রশ্ন তোলেন, চার সপ্তাহ সময় দেওয়ার পরও কেন জবাব প্রস্তুত হয়নি? বেঞ্চ স্পষ্ট জানায়, আপাতত রেকর্ড অনুযায়ী শুনানি চলবে, তবে প্রয়োজনে পরে সময় বিবেচনা করা হতে পারে। অন্যদিকে, তুষার মেহতার অভিযোগ- তদন্তে হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে এবং অযথা শুনানি পিছিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে।
ইডির আইনি ক্ষমতা নিয়ে রাজ্যের প্রশ্ন
রাজ্যের পক্ষে শ্যাম দিভান এবং মেনকা গুরুস্বামী মামলার গ্রহণযোগ্যতা নিয়েই মূল প্রশ্ন তোলেন।
শ্যাম দিওয়ানের যুক্তি, ইডি কোনও কর্পোরেট সংস্থা বা ব্যক্তি নয় যে মৌলিক অধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলে সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী মামলা করতে পারে। তাঁর বক্তব্য, “ইডি কেন্দ্রীয় সরকারের একটি অংশ মাত্র। সংবিধান অনুযায়ী এক সরকারি বিভাগ অন্য বিভাগের বিরুদ্ধে এভাবে মামলা করতে পারে না। এতে কেন্দ্র-রাজ্য বা রাজ্য-রাজ্যের মধ্যে আইনি বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে।”
সংবিধান বেঞ্চ গঠনের দাবি
রাজ্যের আইনজীবীরা এই মামলাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক প্রশ্ন হিসেবে তুলে ধরেন। তাঁদের দাবি, সংবিধানের ১৪৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিষয়টি বিচার করতে অন্তত পাঁচ বিচারপতির ডিভিশন বেঞ্চ বা সংবিধান বেঞ্চ গঠন করা প্রয়োজন।
পিএমএলএ আইনে ইডিকে তদন্তের ক্ষমতা দেওয়া হলেও, সরাসরি এভাবে মামলা করার অধিকার রয়েছে কি না, এই আইনি প্রশ্ন ঘিরেই এখন দেশের শীর্ষ আদালতে তুমুল বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
