Kaliachak violence Malda
Bengal Liberty, Kolkata:
মালদার কালিয়াচক কাণ্ডে গ্রেফতার করা হয়েছে আইনজীবী মোফাক্কেরুল ইসলামকে Kaliachak violence Malda। অভিযোগ, মোথাবাড়ি এলাকায় ঘটে যাওয়া অশান্তির ঘটনায় তিনিই অন্যতম উস্কানিদাতা। ইতিমধ্যেই তাঁকে ঘিরে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।এই আবহেই নতুন করে বিতর্ক উসকে দিল বিজেপির একটি সোশ্যাল মিডিয়া পোস্ট। সেখানে একটি ছবি শেয়ার করা হয়েছে, যেখানে দেখা যাচ্ছে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) ভাষণ দিচ্ছেন, আর তাঁর পিছনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন মোফাক্কেরুল ইসলাম।এই ছবি সামনে এনে বিজেপির দাবি—ঘটনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি আদতে শাসকদলের ঘনিষ্ঠ বলয়ের অংশ।

কী দাবি বিরোধীদের? Kaliachak violence Malda
বিরোধীদের অভিযোগ, এত বড় হামলার ঘটনায় যাঁর নাম সামনে এসেছে, তাঁর সঙ্গে যদি শাসকদলের সরাসরি যোগাযোগ থাকে, তবে এই ঘটনাকে “বিচ্ছিন্ন” বলে দেখানোর কোনও সুযোগ নেই। বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক চক্রান্তের দিকেই ইঙ্গিত করছে। তবে এখানেই শেষ নয় বিজেপির আরও দাবি, ঘটনার পর অভিযুক্তকে আড়াল করতে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। কখনও তাঁকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত দেখানো, কখনও বাইরের রাজ্যের বলে প্রচার এসবই ‘ড্যামেজ কন্ট্রোল’-এর কৌশল বলেই মনে করছে বিরোধী শিবির। যদিও তৃণমূলের পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে, তবে প্রশ্ন উঠছে যদি কোনও সম্পর্ক না-ই থাকে, তাহলে একই মঞ্চে উপস্থিতির ব্যাখ্যা কী?
.
বিষয়টা জলের মতো স্পষ্ট – মালদহ জেলায় জুডিশিয়াল অফিসার তথা সম্মানীয় বিচারপতিদের (মহিলা বিচারপতি সহ) ওপর যে ঘৃণ্য প্রাণঘাতী আক্রমণ এক শ্রেণীর মানুষ করেছে, তার মূল চক্রান্ত মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দ্বারা রচিত।
পশ্চিমবঙ্গে এই প্রথম বিচারপতিদের হেনস্থা হতে হলো তা তো নয়, বারংবার… pic.twitter.com/uw1DNA9HSS
— Suvendu Adhikari (@SuvenduWB) April 3, 2026
প্রশ্ন তুললেন শুভেন্দু অধিকারী
সরব হলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)। নিজের সোশ্যাল মিডিয়ায় করা এক পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, “বিষয়টা জলের মতো স্পষ্ট” মালদহে বিচারপতি, এমনকি মহিলা বিচারপতিদের ওপর হওয়া হামলা কোনও আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং তা একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত। শুভেন্দুর অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গে বিচারব্যবস্থাকে বারবার নিশানা করা হয়েছে। কখনও আদালতে ঢুকতে বাধা, কখনও এজলাসে স্লোগান তুলে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি, কখনও বিচারকদের উদ্দেশে কুরুচিকর মন্তব্য এমনকি বাড়ির সামনে পোস্টার লাগানো ও হুমকির ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি তাঁর। এছাড়াও, মোফাক্কেরুল ইসলামকে ঘিরে ‘ভুল তথ্য’ ছড়ানোর অভিযোগও তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, অভিযুক্তকে বিজেপির সঙ্গে যুক্ত দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, এমনকি বাইরের রাজ্যের বলে প্রচার করা হচ্ছে। অথচ বাস্তবে ওই ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরেই তৃণমূলের ঘনিষ্ঠ বৃত্তে যাতায়াত করেছেন এবং রাজনৈতিক মঞ্চেও উপস্থিত ছিলেন বলে দাবি বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর।
সব মিলিয়ে, কালিয়াচক কাণ্ড আর শুধুই একটি অশান্তির ঘটনা নয়। এটি রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা ও শাসকদলের ভূমিকা নিয়ে এক গভীর প্রশ্নচিহ্ন তুলে দিয়েছে। এখন নজর, সত্যিই কি পুরো চক্রান্তের পর্দাফাঁস হবে, নাকি সব চাপা পড়ে যাবে রাজনৈতিক প্রভাবের আড়ালে।
