judicial officers hostage
Bengal Liberty Desk, Kolkata:
মালদার মোথাবাড়ি এলাকায় বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের ঘেরাও করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে আদালত, নির্বাচন কমিশন এবং প্রশাসনের মধ্যে তীব্র তৎপরতা শুরু হয়েছে Mothabari Malda violence। বিষয়টি নিয়ে কলকাতা হাইকোর্টে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা ও প্রশাসনিক বৈঠক হয়েছে বলে সূত্রের খবর। আজ শুক্রবার প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল এর সভাপতিত্বে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের মুখ্য সচিব দুষ্মন্ত নারিয়ালা ও স্বরাষ্ট্র সচিব সংঘমিত্রা ঘোষ । সূত্রের খবর, বৈঠকে এই হিংসা এবং তার পরবর্তী পরিস্থিতি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়েছে।

কী ঘটেছিল মোথাবাড়িতে Mothabari Malda violence
ঘটনাটি ঘটে মালদা জেলার কালিয়াচক-২ ব্লকের একটি সরকারি দফতরে। সেখানে ভোটার তালিকা সংশোধনের কাজ (SIR) চলছিল। এই কাজের জন্য সাতজন বিচার বিভাগীয় আধিকারিক সেখানে দায়িত্বে ছিলেন।অভিযোগ, ভোটার তালিকা থেকে বহু মানুষের নাম বাদ পড়েছে—এই অভিযোগে ক্ষুব্ধ একদল মানুষ অফিস ঘেরাও করে বিক্ষোভ শুরু করে। প্রথমে তারা বিচারকদের সঙ্গে দেখা করার দাবি জানায়। কিন্তু অনুমতি না পাওয়ায় বিক্ষোভ আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে এবং অফিস ঘিরে ফেলা হয়। বিক্ষোভকারীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে অফিসের ভেতরে বিচার বিভাগীয় আধিকারিকদের আটকে রাখে। তাঁদের মধ্যে তিনজন মহিলা আধিকারিকও ছিলেন। এই অবরোধ প্রায় ৮-১০ ঘণ্টা চলেছিল বলে জানা গেছে।
রাতের অভিযানে উদ্ধার
পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হওয়ায় জেলা প্রশাসন ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পরে কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের সাহায্যে গভীর রাতে আধিকারিকদের উদ্ধার করা হয়। তবে উদ্ধার করার সময় গাড়ির উপর ইট-পাটকেল ছোড়ার ঘটনাও ঘটে বলে অভিযোগ।
আদালতের কড়া অবস্থান
ঘটনাটি সামনে আসতেই সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুতর বলে মন্তব্য করে। আদালত জানায়, বিচার বিভাগের কর্মকর্তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের দায়িত্ব এবং এই ঘটনাকে “গুরুতর আইনশৃঙ্খলার ব্যর্থতা” হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া রাজ্যের মুখ্যসচিব, ডিরেক্টর জেনারেল অব পুলিশ সহ শীর্ষ প্রশাসনিক কর্তাদের কাছে ব্যাখ্যা তলব করা হয়েছে।
তদন্তে নেমেছে কেন্দ্রীয় সংস্থা
ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে NIA কে। পাশাপাশি জাতীয় নির্বাচন কমিশন পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছে । কমিশন ইতিমধ্যেই জড়িতদের বিরুদ্ধে এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছে।
পুলিশ ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে। ঘটনার জেরে রাজনৈতিক মহলেও তীব্র চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিভিন্ন দল একে প্রশাসনিক ব্যর্থতা বা রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র বলে দাবি করছে।
উদ্ধারের পর বিচার বিভাগীয় আধিকারিকরা অন্য নিরাপদ জায়গায় কাজ শুরু করেছেন এবং সেখানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর নিরাপত্তা মোতায়েন করা হয়েছে। মোথাবাড়ির ঘটনাকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা ও নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন উঠেছে। আদালত, নির্বাচন কমিশন এবং তদন্তকারী সংস্থার নজরে এখন পুরো ঘটনাটি। তদন্তের রিপোর্টের ওপরই নির্ভর করবে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ।
