re-poll
Bengal Liberty, ১ মে:
ভোটগ্রহণ পর্ব মিটতেই রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসে (re-poll)। কোথাও ওয়েব কাস্টিং কিছু সময়ের জন্য বন্ধ হয়ে যাওয়ার দাবি, কোথাও আবার অভিযোগ— তৃণমূল ছাড়া অন্য কাউকে ভোট দেওয়া যাচ্ছিল না। এমনকি কিছু বুথে ইভিএমের বিরোধী প্রার্থীর বোতামে টেপ লাগানো ছিল বলেও অভিযোগ ওঠে। এই সমস্ত অভিযোগের প্রেক্ষিতে গণনার আগেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন। কমিশন সূত্রে খবর, রাজ্যের ২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন করা হবে।

আগামীকাল ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচন re-poll
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, ২টি বিধানসভা কেন্দ্রের মোট ১৫টি বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তার মধ্যে দক্ষিণ ২৪ পরগনার মগরাহাট পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের ১১টি বুথ এবং ডায়মন্ড হারবার বিধানসভা কেন্দ্রের ৪টি বুথ রয়েছে। মগরাহাট পশ্চিমের ৪৬, ১২৬, ১২৭, ১২৮, ১৪২, ২১৪, ২১৫, ২১৬, ২৩০, ২৩১ এবং ২৩২ নম্বর বুথে ও ডায়মন্ড হারবারের ১১৭, ১৭৯, ১৯৪ এবং ২৪৩ নম্বর বুথে পুনর্নির্বাচনের নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন।ইতিমধ্যেই সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আগামীকালই এই বুথগুলিতে পুনর্নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে। এদিকে ফলতা বিধানসভা কেন্দ্র ঘিরেও বিতর্ক তুঙ্গে।
প্রায় ৩০টি বুথে পুনর্নির্বাচনের দাবি জানিয়ে কমিশনের কাছে রিপোর্ট জমা পড়েছে। তবে ওই কেন্দ্রের ক্ষেত্রে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি। কমিশন সূত্রে ইঙ্গিত, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন হলে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

প্রাপ্ত অভিযোগ ও স্ক্রুটিনির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, প্রাপ্ত অভিযোগ ও স্ক্রুটিনির ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, কিছু বুথে সিসিটিভি ক্যামেরা বন্ধ রেখে ভোটগ্রহণ করা হয়েছে। আবার কয়েকটি বুথে অস্বাভাবিকভাবে ১০০ শতাংশ ভোট পড়ার ঘটনাও নজরে আসে। কোথাও ভোটের শতাংশের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এই সমস্ত বিষয় খতিয়ে দেখেই পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে কমিশন সূত্রে দাবি। ইতিমধ্যেই প্রশাসনকে প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে আগামীকালের ভোটগ্রহণ নির্বিঘ্নে সম্পন্ন করা যায়। রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়াল জানিয়েছেন, প্রাপ্ত অভিযোগ ও রিপোর্টের ভিত্তিতে স্ক্রুটিনি করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনে আরও বুথে পুনর্নির্বাচনের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হয়নি।
এটাই কি ‘ডায়মন্ড হারবার মডেল’!!
এই পুনর্নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। একাংশ রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও বিরোধীদের দাবি, এই ঘটনাই কি তথাকথিত “ডায়মন্ড হারবার মডেল”-এর প্রতিফলন? তারা প্রশ্ন তুলছেন, এভাবেই কি দীর্ঘদিন ধরে নির্বাচন প্রক্রিয়ায় প্রভাব খাটিয়ে জয়ের ব্যবধান বাড়ানো হয়েছে? তাঁদের দাবি, অতীতের নির্বাচনগুলিতেও কি একইভাবে চাপ সৃষ্টি, ছাপ্পা ভোট ও ভয় দেখানোর মাধ্যমে একতরফা ফল তৈরি করা হয়েছে।
ভোটগ্রহণ শেষ হলেও রাজ্যের রাজনৈতিক উত্তাপ কমার কোনও লক্ষণ নেই। পুনর্নির্বাচনের সিদ্ধান্তে সেই উত্তাপ আরও বাড়ল বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক মহলের একাংশ। এখন সব নজর গণনার দিনের দিকে।
