voter threat
Bengal liberty, 2 মে :
নির্বাচন ঘিরে যখন গোটা রাজ্য উত্তপ্ত, ঠিক তখনই দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফলতা এলাকা থেকে উঠে এল এক হাড়হিম করা অভিযোগ। (voter threat) অভিযোগের তির স্থানীয় তৃণমূল নেতা জাহাঙ্গীর খানের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ইসরাফিল চকদারের দিকে। সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া একটি ভিডিও ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক। অভিযোগ, সাধারণ মানুষকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া থেকে শুরু করে নারী নির্যাতনের চরম হুমকি—সবই শোনা গিয়েছে তাঁর মুখে।

কে এই ইসরাফিল চকদার? voter threat
স্থানীয় সূত্রে খবর, ইসরাফিল চকদার ফলতার দু’বারের পঞ্চায়েত প্রধান। একসময় সিপিএম আশ্রিত দুষ্কৃতি হিসেবে এলাকায় পরিচিত থাকলেও, বর্তমানে তিনি তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি। জাহাঙ্গীর খানের ‘ডান হাত’ হিসেবে পরিচিত। গত আট বছরে এলাকায় তাঁর প্রভাব ও প্রতিপত্তি উল্কার গতিতে বেড়েছে বলে দাবি স্থানীয়দের।

কী অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে?
ভাইরাল হওয়া ভিডিও এবং স্থানীয়দের বয়ান অনুযায়ী, ইসরাফিলের বিরুদ্ধে একগুচ্ছ গুরুতর অভিযোগ সামনে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, তিনি বিরোধী শিবিরের হিন্দু মা-বোনদের ঘরে ঢুকে ‘ধর্ষণ’ করার হুমকি দিয়েছেন। তৃণমূলকে ভোট না দিলে বাড়ির শিশুদের কুপিয়ে মারা এবং আস্ত বাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়ার মতো ভয়ানক কথা বলতে শোনা গিয়েছে তাঁকে।
এলাকার টোটো চালক বা দোকানদারদের হুমকি দেওয়া হয়েছে যে, তৃণমূলকে ভোট না দিলে তাঁদের রুটিরুজি বন্ধ করে দেওয়া হবে। এমনকি টোটো খালের জলে ফেলে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন:
২০২৬-এর নির্বাচনে , নির্বাচন কমিশন এত কড়াকড়ি করলেও, ফলতায় ইসরাফিলের মতো লোকেরা কীভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সাধারণ ভোটাররা। স্থানীয় মহিলাদের দাবি, “ভোট দেওয়া আমাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু যেভাবে বাড়িতে ঢুকে বেইজ্জত করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, তাতে আমরা আতঙ্কিত।”
বিরোধী দলগুলোর দাবি, ইসরাফিল চকদারকে অবিলম্বে গ্রেফতার না করলে ফলতায় কোনোভাবেই ‘নিরপেক্ষ ভোট’ সম্ভব নয়। কারণ, সাধারণ মানুষের রায় দেওয়ার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে তাঁর এই ত্রাস।
কমিশনের নজর:
বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় শোরগোল পড়ে যাওয়ায় নির্বাচন কমিশনের কাছেও অভিযোগ জমা পড়েছে। প্রশাসন সূত্রে খবর, ভাইরাল ভিডিওটির সত্যতা এবং ইসরাফিলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এখন দেখার, ভোটের ময়দান থেকে এই ‘ত্রাস’ সরাতে পুলিশ প্রশাসন কোনো কড়া পদক্ষেপ নেয় কি না।
