Mamata Banerjee
Bengal Liberty, ৮ মে :
বাংলার আকাশে পরিবর্তনের মেঘ ঘনীভূত, কিন্তু সেই বাস্তবকে অস্বীকার করার এক মরিয়া, নজিরবিহীন এবং বলা ভালো অগণতান্ত্রিক জেদ দেখছে রাজ্যবাসী (Mamata Banerjee)। গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব নির্বাচনে মানুষের রায়ই শেষ কথা। কিন্তু সেই রায়কে অসম্মান করে, পরাজয় স্বীকার না করার এক অদ্ভুত খেলায় মেতেছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে সংবিধান তো কারও ব্যক্তিগত ইচ্ছা বা ক্ষমতার মোহকে প্রশ্রয় দেয় না! তাই মধ্যরাতের সাংবিধানিক চাবুকে অবশেষে বাস্তবের মাটিতে আছড়ে পড়লেও তৃণমূল তার ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার চেষ্টায় মরিয়া (Mamata Banerjee)।

পরাজিত নেত্রীর অগণতান্ত্রিক জেদ (Mamata Banerjee)
২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনে বাংলার মানুষ স্পষ্ট জনাদেশ দিয়েছে। ২০৭টি আসনে বিপুল জয়লাভ করে ম্যাজিক ফিগার অনায়াসে পার করেছে বিজেপি। খোদ তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ভবানীপুর এবং নন্দীগ্রাম, দুই কেন্দ্রেই ধরাশায়ী হয়েছেন। কিন্তু এই চূড়ান্ত ভরাডুবির পরও তিনি হারের বাস্তবতা মেনে নিতে নারাজ। হারের দায়ভার নিজের বা দলের কাঁধে না নিয়ে, তিনি যথারীতি ইভিএম কারচুপি এবং ভোট লুঠের তত্ত্ব খাড়া করেছেন। গণতান্ত্রিক রীতি মেনে পদত্যাগ করার ন্যূনতম সৌজন্যটুকুও তাঁর কাছ থেকে মেলেনি।

মধ্যরাতে বিধানসভা ভেঙে দিলেন রাজ্যপাল (Mamata Banerjee)
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের মেয়াদ ফুরিয়েছে গত ৭ মে। নিয়ম অনুযায়ী, তাঁর নিজে থেকেই ইস্তফা দেওয়া উচিত ছিল। কিন্তু তিনি তা না করায় রাজ্যে এক নজিরবিহীন সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়। অবশেষে আসরে নামতে হয় রাজ্যপাল আর এন রবিকে। সংবিধানের ১৭৪ (২)(বি) ধারার ক্ষমতা প্রয়োগ করে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিধানসভা ভেঙে দেওয়ার নির্দেশ জারি করেন তিনি। এর ফলে কারিগরি ও আইনিভাবে তৃণমূলের মন্ত্রিসভা অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। সাংবিধানিক নিয়মের কড়া প্রহারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এখন আর রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন।
প্রসঙ্গত, বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে পালাবদল এই প্রথম নয়। ২০১১ সালে ৩৪ বছরের বামফ্রন্ট সরকারের পতন ঘটিয়ে ক্ষমতায় এসেছিলেন এই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ই। সেদিন তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য কিন্তু ক্ষমতা আঁকড়ে পড়ে থাকেননি। জনাদেশ স্পষ্ট হতেই তিনি নিজে রাজভবনে গিয়ে ইস্তফাপত্র তুলে দিয়ে গণতান্ত্রিক সৌজন্যের নজির গড়েছিলেন। অথচ আজ, ২০২৬-এ দাঁড়িয়ে সেই সৌজন্যের লেশমাত্র দেখা গেল না। বরং দেখা গেল, যে কোনও মূল্যে কুর্সি ধরে রাখার এক দৃষ্টিকটু ক্ষমতা-লিপ্সা।

বাস্তবে ক্ষমতাচ্যুত, তবু ভার্চুয়াল দুনিয়ায় ‘চেয়ার’ আঁকড়ে থাকার মরিয়া চেষ্টা (Mamata Banerjee)
প্রশাসনিকভাবে ক্ষমতাচ্যুত হলেও ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজের ‘চেয়ার’ আঁকড়ে থাকার এক হাস্যকর ও অনন্য বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। আশ্চর্যের বিষয়, তাঁর X-হ্যান্ডেলের বায়োতে এখনও জ্বলজ্বল করছে ‘মুখ্যমন্ত্রী’ শব্দটি! নেটিজেনরা এই নিয়ে তীব্র কটাক্ষ ও সমালোচনায় মেতে উঠলেও, তৃণমূল শিবির অদ্ভুত এক যুক্তিতে দাবি করছে, ‘নৈতিক জয়’ নাকি তাঁদেরই হয়েছে! বাস্তব থেকে মুখ ফিরিয়ে ভার্চুয়াল জগতেই যেন নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে চাইছে ঘাসফুল শিবির। গণতন্ত্রে মানুষই শেষ কথা বলে, আর সংবিধান সেই কথার আইনি মর্যাদা দেয়। মানুষের রায়ে এবং সংবিধানের নিয়মে আজ তৃণমূল সরকারের আনুষ্ঠানিক বিদায়ঘণ্টা বেজে গিয়েছে। আগামিকাল যখন কলকাতার বুকে নতুন সরকারের শপথগ্রহণের দামামা বাজবে, তখন কি ডিজিটাল দুনিয়ার এই ‘মুখ্যমন্ত্রী’ ট্যাগটি নিঃশব্দে মুছে যাবে? নাকি ক্ষমতা হারানোর গোঁসায় ভার্চুয়াল জগতেই নিজের রাজত্ব টিকিয়ে রাখার এক ব্যর্থ, চেষ্টা চালিয়ে যাবেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়?
