Modi speech
Bengal Liberty, ১১ মে :
ইরান যুদ্ধের কালো মেঘ ঘনিয়েছে পশ্চিম এশিয়ায়। অবরুদ্ধ কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী। বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের হাহাকার আর আকাশছোঁয়া দামের আশঙ্কায় কাঁপছে অর্থনীতি(Modi speech)। এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে দেশকে রক্ষা করতে এবং ভারতকে ‘আত্মনির্ভর’ রাখতে রণকৌশল সাজালেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। হায়দরাবাদের জনসভা থেকে দেশবাসীর উদ্দেশে ৯ দফা ‘রক্ষাকবচ’ ঘোষণা করলেন তিনি। সংকটের মোকাবিলায় করোনাকালের মতো ফের ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ শুরুর ডাক দিলেন প্রধানমন্ত্রী।

১. ঘরে বসেই কাজ: ট্রাফিক ও তেলের খরচ কমাতে মোদির আর্জি
প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে জানিয়েছেন, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় যেখানে সম্ভব, সেখানে অফিস না গিয়ে বাড়ি থেকেই কাজ বা ‘ওয়ার্ক ফ্রম হোম’ শুরু করুন। এতে যাতায়াত কমবে, সাশ্রয় হবে মহামূল্যবান পেট্রোল ও ডিজেল। দেশের প্রতিটি ফোঁটা তেল বাঁচানোই এখন পরম ধর্ম।

২. অনলাইন মিটিংয়ে জোর: সময় ও জ্বালানি দুই বাঁচবে
অপ্রয়োজনীয় যাতায়াত বন্ধ করতে ভিডিও কনফারেন্সিং ও অনলাইন মিটিং-এর ওপর বিশেষ জোর দিয়েছেন মোদি। তিনি জানিয়েছেন প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে সময় এবং জ্বালানি, দুই-ই বাঁচাতে হবে।
৩. মেট্রো ও বাসের ব্যবহার: ব্যক্তিগত গাড়িতে ‘না’
বিলাসিতা নয়, প্রয়োজনকেই প্রাধান্য দেওয়ার পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর। নিজের ব্যক্তিগত গাড়ি ব্যবহার না করে মেট্রো বা বাসের মতো গণপরিবহন ব্যবহারের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। এতে রাস্তার জ্যাম কমবে এবং তেলের ঘাটতি মেটানো সহজ হবে।
৪. ‘কার পুল’ (Car Pool): এক গাড়িতে চলুক অনেকে
একসঙ্গে একাধিক মানুষ যদি একটি গাড়িতে যাতায়াত করেন, তবে রাস্তায় গাড়ির সংখ্যা কমবে এবং দেশজুড়ে ডিজেল-পেট্রোলের বিপুল সাশ্রয় হবে। প্রধানমন্ত্রী নাগরিকদের প্রতি এই সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আবেদন করেছেন।
৫. ইভি (EV) বিপ্লব: তেলের আমদানি নির্ভরতা কমাতে লক্ষ্য ‘আত্মনির্ভর ভারত’
বিদেশি তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমাতে ইলেকট্রিক স্কুটার ও ই-কার ব্যবহারের ডাক দিয়েছেন মোদি। পেট্রোল-ডিজেলের মায়া কাটিয়ে পরিবেশবান্ধব ব্যাটারিচালিত গাড়ি ব্যবহার করলে ভারত প্রকৃত অর্থেই আত্মনির্ভর হয়ে উঠবে।

৬. আপাতত বন্ধ থাক ডেস্টিনেশন ওয়েডিং ও বিদেশ ভ্রমণ
দেশের বৈদেশিক মুদ্রা বাঁচাতে সকলকে আবেদন জানালেন মোদি। আগামী এক বছর বিদেশে ঘুরতে যাওয়া বা বিলাসবহুল ‘ডেস্টিনেশন ওয়েডিং’-এর মতো পরিকল্পনা স্থগিত রাখার আবেদন করেছেন তিনি। দেশের টাকা দেশে থাকলে তা সংকটের সময় রক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করবে বলেই মনে করছেন প্রধানমন্ত্রী।
৭. গয়না কেনায় বিরতি: এক বছর সোনা কেনা বন্ধের ডাক
ভারত প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ সোনা বিদেশ থেকে আমদানি করে, যা রাজকোষে চাপ সৃষ্টি করে। প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীকে আবেগী স্বরে বলেছেন, “অন্তত এক বছর সোনার গয়না কিনবেন না।” অপ্রয়োজনীয় সোনা কেনা বন্ধ করলে ভারতের অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে।
৮. পণ্য পরিবহণে রেলের ওপর ভরসা
ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোগীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রীর বার্তা— ট্রাক বা লরির বদলে পণ্য পরিবহণে ভারতীয় রেলওয়েকে বেশি ব্যবহার করুন। এতে ডিজেলের ব্যবহার কয়েক গুণ কমে যাবে এবং পরিবহণ খরচও নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।
৯. অপচয় বন্ধ: প্রতিটি ফোঁটা তেল হোক ভারতের শক্তি
পরিশেষে প্রধানমন্ত্রী মনে করিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে তেলের অপচয় করা মানে দেশের পায়ে কুড়ুল মারা। খুব হিসেব করে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাস ব্যবহারের অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। দেশের প্রতিটি নাগরিকের সচেতনতাই এই বিশ্ব-সংকট থেকে ভারতকে রক্ষা করবে।
