Donald Trump
Bengal Liberty, ১১ মে ২০২৬ :
মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। যত সময় এগোচ্ছে, ততই যুদ্ধের আঁচ ক্রমশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মিসাইল ও গোলাবারুদের যুদ্ধের জেরে নাজেহাল হয়ে পড়েছেন সাধারণ মানুষ। সবার মুখে একটাই প্রশ্ন—কবে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, কবে বন্ধ হবে যুদ্ধের খেলা? Donald Trump
যুদ্ধবিরতির পরেও দুই রাষ্ট্রের মধ্যে সমানে ঠান্ডা লড়াই চলেছে। একদিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যারা পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ইরানের অস্তিত্ব সম্পূর্ণভাবে শেষ করে দিতে বদ্ধপরিকর; অন্যদিকে ইরানের তরফ থেকেও সাংঘাতিক আক্রমণের জেরে অনেকটাই পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে আমেরিকা।
এ সবের মধ্যেও যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার একটা আশা ছিল, কিন্তু সেই আশাও পুরোপুরি শেষ হয়ে গেল বলা চলে। ইরানের নতুন শান্তিপ্রস্তাব খারিজ করে দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। স্পষ্ট ভাষায় তিনি জানিয়ে দিলেন, তেহরানের প্রস্তাব কোনওভাবেই মানা সম্ভব নয়।

শান্তিপ্রস্তাব প্রত্যাখ্যান Donald Trump
ইসলামাবাদে শান্তি বৈঠক ভেস্তে যাওয়ার পরই হরমুজ প্রণালীকে কেন্দ্র করে নতুন উত্তেজনা শুরু হয়েছে। অভিযোগ উঠছে, আমেরিকার নৌসেনা বাহিনী হরমুজে বেনজির আন্দোলনের সৃষ্টি করেছে। তার পরই পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়, যখন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প নৌসেনার আন্দোলনকে প্রকাশ্যে সমর্থন করেন।
তার পরেও ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার শান্তি বৈঠক নিয়ে আলোচনার কথা ছিল। এমনকি এ কথাও শোনা যায় যে স্বয়ং ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। কিন্তু শেষ মুহূর্তে ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইসলামাবাদ সফর বাতিল হয়ে যায়।

কী কী শর্তে নারাজ :
ইরানের তরফ থেকে দাবি করা হয়েছিল—হরমুজে নৌসেনার অবরোধ তুলে নেওয়া, ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি ফেরত দেওয়া, জাহাজ পারাপারের জন্য অতিরিক্ত ট্যাক্সের ব্যবস্থা, লেবাননে ইসরায়েলের হামলা বন্ধ করা, ট্রাম্পের উপস্থিতিতেই শান্তি বৈঠকে সাক্ষর করা এবং পরমাণু কেন্দ্র নিয়ে আমেরিকার হস্তক্ষেপ বন্ধ করা।
এই ছয় দফা শর্ত আমেরিকার সামনে রাখা হয়। কিন্তু এই ছয় দফা শর্ত পুরোপুরি বাতিল করে দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। পাশাপাশি দেন গুরুত্বপূর্ণ বার্তা –
” ইরানের সমস্ত শর্ত আমরা বাতিল করলাম। কোনও শর্ত কার্যকর হবে না। বারংবার টেবিলে আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া সত্ত্বেও ওরা আলোচনায় রাজি ছিল না। তাই আর কোনওদিনও ইরানের সঙ্গে কোনওরকম আলোচনায় বসা হবে না।”
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে চলা যুদ্ধের তীব্রতা যে সব রকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে এত ভয়ঙ্কর রূপ নেবে, তা কেউ স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারেনি। পরিস্থিতি জটিল হতে হতে মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। শেষ পর্যন্ত কী হয়, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ কোন দিকে যায়—সেটাই এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
