Hantavirus
Bengal Liberty, ১১ মে:
বিশ্বজুড়ে যখন নতুন এক অতিমারীর আশঙ্কা দানা বাঁধছে, ঠিক তখনই আটলান্টিক মহাসাগর থেকে ভেসে এল এক দুশ্চিন্তার খবর। প্রমোদতরী ‘এমভি হন্ডিয়াস’-এ থাবা বসিয়েছে ঘাতক ‘হান্টাভাইরাস’ (Hantavirus)। আর সেই মারণ ভাইরাসের নিশানায় এবার দুই ভারতীয় নাগরিক। মাঝসমুদ্রে ঘাতক ভাইরাসের এই কামড়ে ইতিমধ্যেই ৩ জনের সলিলসমাধি ঘটেছে, যা দেখে বিশ্বজুড়ে জরুরি সতর্কতা জারি করেছে ‘হু’ (WHO)।

মাঝসমুদ্রে ভাইরাসের হানা,কী অবস্থায় রয়েছেন ভারতীয়রা? Hantavirus
জানা গেছে আটলান্টিক মহাসাগর পেরিয়ে জাহাজটি যখন কাবো ভার্দের দিকে এগোচ্ছিল, ঠিক তখনই বেশ কয়েকজন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের শরীরে ভাইরাসের উপস্থিতি ধরা পড়ে। জাহাজে থাকা দুই ভারতীয় ক্রু সদস্যের শরীরেও হান্টাভাইরাস মেলায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তবে স্পেনের ভারতীয় দূতাবাস স্বস্তির খবর দিয়ে জানিয়েছে, ওই দুই ভারতীয় বর্তমানে সম্পূর্ণ উপসর্গহীন এবং সুস্থ আছেন। সুরক্ষার খাতিরে তাঁদের নেদারল্যান্ডে পাঠিয়ে নিভৃতবাসে রাখা হয়েছে। স্পেন সরকার ও ভারতীয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং তাঁদের চিকিৎসার ওপর কড়া নজরদারি চলছে।

হান্টাভাইরাস কী?
হান্টাভাইরাস মূলত একটি জোনোটিক (Zoonotic) রোগ, হান্টাভাইরাস কোনো বায়ুবাহিত সাধারণ রোগ নয়, অর্থাৎ এটি প্রাণী থেকে মানুষের শরীরে ছড়ায়। এই ভাইরাসটি ‘বুনিয়াবিরিডি’ (Bunyaviridae) পরিবারের সদস্য। এটি প্রধানত মানুষের ফুসফুস এবং কিডনিকে আক্রমণ করে। সংক্রমণের তীব্রতা অনুযায়ী একে দুই ভাগে ভাগ করা যায়:
১. HPS (Hantavirus Pulmonary Syndrome): এটি শ্বাসতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
২. HFRS (Hemorrhagic Fever with Renal Syndrome): এটি রক্তক্ষরণজনিত জ্বর এবং কিডনি বিকল করে দেয়।
উল্লেখ্য ‘হু’ (WHO) জানিয়েছে, সংক্রামিত ইঁদুরের মূত্র, মল, লালা বা দেহরস থেকে এই ভাইরাস মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। বিশেষ করে কোনো নোংরা বা বন্ধ ঘর পরিষ্কার করার সময় বাতাসে ওড়া ভাইরাসের কণা নিঃশ্বাসের মাধ্যমে ফুসফুসে ঢুকলে বিপদ সবথেকে বেশি।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO)-র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এই প্রমোদতরীর পরিস্থিতি আক্রান্ত ৮ জনের মধ্যে ইতিমধ্যেই ৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন,গত ৬ এপ্রিল প্রথম এক ব্যক্তির শরীরে সংক্রমণ ধরা পড়ে এবং ১১ এপ্রিল তাঁর মৃত্যু হয়। পরবর্তীতে মৃত ব্যক্তির স্ত্রীও রেহাই পাননি। সেন্ট হেলেনায় নেমে দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার পর ২৫ এপ্রিল তাঁরও মৃত্যু হয়। অন্যদিকে ফরাসি প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু নিশ্চিত করেছেন যে, তাঁদের দেশেরও এক যাত্রী এই সংক্রমণের শিকার হয়েছেন।
১২ দেশকে ‘লাল সতর্কতা’ জারি WHO-র
তবে ওই জাহাজ থেকে নামা যাত্রীরা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ায় ১২টি দেশকে হাই-অ্যালার্টে রেখেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই তালিকায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রিটেন, জার্মানি, ডেনমার্ক, সুইডেন, সিঙ্গাপুর এবং নিউজ়িল্যান্ডের মতো দেশগুলি রয়েছে। সংক্রমণ যাতে কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে না যায়, তার জন্য আন্তর্জাতিক স্তরে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে।
ভারত কি তবে বিপদের মুখে?
এখনও পর্যন্ত ভারতের অভ্যন্তরে হান্টাভাইরাসে আক্রান্তের কোনো খবর নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, যেহেতু এটি ইঁদুরবাহিত রোগ এবং এর প্রাথমিক উপসর্গগুলি সাধারণ ফ্লু বা জ্বরের মতো, তাই একে অবহেলা করা প্রাণঘাতী হতে পারে। হঠাৎ তীব্র জ্বর, পেশিতে ব্যথা বা শ্বাসকষ্টের মতো সমস্যা দেখা দিলে তৎক্ষণাৎ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
