Howrah Shamim
Bengal Liberty, ১২ মে:
রাজ্যে ১৫ বছরের কুশাসনের অবসান হতেই একে একে বেরিয়ে আসছে তৃণমূলী নেতাদের ‘রাজকীয়’ কীর্তি (Howrah Shamim)। এবার হাওড়ার শিবপুরে তৃণমূল নেতা শামিম আহমেদের বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়ে যা দেখল পুলিশ, তাতে সিনেমাকেও হার মানাবে! বাড়ি না কি রাজপ্রাসাদ তা বোঝার উপায় নেই। আর সেই প্রাসাদের অন্দরেই লুকিয়ে ছিল এক সুগভীর ‘গোপন সুড়ঙ্গ’।

বিজেপি নেতার ওপর হামলা ও পলাতক ‘বড়ে’ Howrah Shamim
ভোট পরবর্তী হিংসায় সিদ্ধহস্ত এই তৃণমূলী নেতার বিরুদ্ধে অভিযোগ আরও গুরুতর। ২৬ এর বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর থেকেই শিবপুরের চওড়াবস্তি এলাকায় অশান্তি ছড়ানোর মাস্টারমাইন্ড ছিলেন এই শামিম। বিজেপির সংখ্যালঘু সেলের এক নেতার বাড়িতে হামলা, বোমাবাজি এবং কয়েক রাউন্ড গুলি চালানোর অভিযোগ রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। সেই ঘটনার পর থেকেই লাপাতা অরূপ-ঘনিষ্ঠ এই নেতা। গতকাল তাঁর খোঁজে পুলিশ হানা দিতেই বেরিয়ে এল চোখ ধাঁধানো সব ছবি।

তল্লাশিতে দেখা গিয়েছে, বাড়ির ভেতর দিয়ে নেমে গিয়েছে একটি সুড়ঙ্গ। সেখানে সাধারণ মানুষের কল্পনাতীত বহুমূল্য আসবাবপত্র, কারুকার্য করা ড্রেসিং টেবিল এবং রাজকীয় পালঙ্কের হদিস মিলেছে। ঘরের দরজার নেমপ্লেটে স্পষ্ট জ্বলজ্বল করছে ‘শামিম আহমেদ’ নাম। যা প্রমাণ করে, তৃণমূলের ছত্রছায়ায় থেকে প্রশাসনের নাকের ডগা দিয়ে দুর্নীতির পাহাড় গড়েছিলেন এই নেতা। তবে প্রশ্ন উঠছে পুলিশের নজর এড়াতেই কি তার বাড়িতে এই সুড়ঙ্গের ব্যবহার হতো?
কী বললেন দিলীপ ও রুদ্রনীল?
এই ঘটনা সামনে আসতেই কড়া প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন রাজ্যের নতুন সরকারের মন্ত্রী দিলীপ ঘোষ। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “সুড়ঙ্গ তো কেবল শুরু, আগামী দিনে গুহা থেকে শুরু করে টাকার পাহাড় সবই বেরোবে। দুর্নীতিবাজদের পালানোর সব পথ বন্ধ করা হবে।”

অন্যদিকে, শিবপুরের নবনির্বাচিত বিধায়ক রুদ্রনীল ঘোষ সরাসরি আক্রমণ করেছেন অরূপ রায়কে। তিনি বলেন, “৫০০ বছরের পুরনো শহর হাওড়াকে নষ্ট করে দিয়েছেন অরূপ রায়রা। প্রোমোটিং রাজত্ব, মাদক ব্যবসা আর জমি লুঠের মাস্টারমাইন্ড ছিলেন অরূপ বাবু স্বয়ং। শামিমের মতো হাজার হাজার অপরাধী তৈরি করে তিনি হাওড়াকে অপরাধের স্বর্গরাজ্য বানিয়েছিলেন।”
জনগণের ট্যাক্সের টাকায় সাধারণ মানুষের সেবা করার বদলে তৃণমূলী নেতারা নিজেদের বাড়িতে সুড়ঙ্গ খুঁড়ে দুর্নীতির গুদাম বানিয়েছেন। ১৫ বছরের পাপের ঘড়া এখন পূর্ণ। ‘কালারফুল’ নেতাদের এই রঙিন রাজত্ব এখন শ্রীঘরের ঘুপচি অন্ধকারেই শেষ হতে চলেছে
