Boroma temple
Bengal Liberty, ১৩ মে :
নৈহাটির বড়মা মন্দিরে এবার আর চলবে না কোনো ‘প্রভাবশালী’র চোখরাঙানি (Boroma temple)। রাজ্যে রাজনৈতিক পালাবদল হতেই দীর্ঘদিনের অভিযোগ আর ভক্তদের দীর্ঘশ্বাসে ইতি টানতে বড় পদক্ষেপ নিলেন নৈহাটির নবনির্বাচিত বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়। তৃণমূল জমানার সেই পচা-গলা ‘ভিআইপি কালচার’ উপড়ে ফেলে মন্দিরের পবিত্রতা আর সাধারণ মানুষের অধিকার ফিরিয়ে দিল বিজেপি বিধায়ক।

সেলিব্রেটিদের বিশেষ সুবিধা ‘নৈব নৈব চ’ Boroma temple
তৃণমূল আমলে নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছিল যে, সাধারণ মানুষ রোদে-জলে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকলেও কোনো নেতা বা তথাকথিত ‘সেলিব্রেটি’ এলেই তাঁদের জন্য মন্দিরের দরজা আগে খুলে যেত। কিন্তু আর নয় বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায় এই প্রেক্ষিতে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে বড়মায়ের কাছে ছোট-বড় বা প্রভাবশালী বলে কিছু নেই।
কোনো অভিনেতা, রাজনৈতিক নেতা বা বিশেষ ব্যক্তিত্বকে আর আলাদা খাতির করা হবে না। পুজো দিতে হলে সাধারণ মানুষের সঙ্গেই লাইনে দাঁড়াতে হবে। ভিআইপি সংস্কৃতির নামে যে বিভাজন তৈরি করা হয়েছিল, তা চিরতরে বন্ধের বার্তা দিয়েছেন বিধায়ক। মন্দিরের অব্যবস্থা কাটাতে খুব শীঘ্রই নতুন মন্দির কমিটি গঠন করা হবে, যেখানে সাধারণ ভক্তদের সুবিধাই হবে শেষ কথা বলে সূত্রের খবর।

তৃণমূল জমানার ‘বিতর্ক’ আর ভক্তদের জয় Boroma temple
গত কয়েক বছরে বড়মা মন্দিরকে ঘিরে বিতর্কের অন্ত ছিল না। বারবার আমরা দেখেছি, রাজ চক্রবর্তী দেব বা শুভশ্রীর মতো সেলিব্রেটিরা যারা সরাসরি তৃণমূলের ছত্রছায়ায় ছিলেন, তাঁরা মায়ের কাছে এলেই সাধারণ ভক্তদের উপেক্ষা করে বিশেষ সুবিধা দেওয়া হত এমনকি এই প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সন্তুষ্ট করতে সাধারণ ভক্তদের হয়রান করা হত। ফলে সোশ্যাল মিডিয়ায় সাধারণ মানুষ বারংবার ক্ষোভ উগরে দিলেও আগের সরকার তা কানে তোলেনি। কিন্তু বর্তমানে মন্দির কমিটিও বিধায়কের সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। খুব শীঘ্রই মিটিং ডেকে এই নতুন নিয়ম কার্যকর করা হবে। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, যারা কেবল দর্শন করবেন এবং যারা পুজো দেবেন, তাঁদের জন্য পৃথক ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
সবমিলিয়ে বিজেপি বিধায়ক সুমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের এই সিদ্ধান্ত আসলে বাংলার হারানো সংস্কৃতি আর ঐতিহ্য পুনরুদ্ধারেরই একটি অংশ। তাঁর মতে, ভক্তি কখনও ‘ভিআইপি’ হতে পারে না। নবান্নে পরিবর্তনের যে হাওয়া লেগেছে, তার প্রভাব এবার নৈহাটির পবিত্র পীঠস্থানেও দেখা যাবে।
