East Bengal - Mohun Bagan Derby
Bengal Liberty, ১৬ মে ২০২৬: ফুটবলের ইতিহাসের দিকে নজর রাখলে দেখা যায় দুই ক্লাব কিংবা দুই দেশের মধ্যে মারাত্মক, ভয়ঙ্কর রকম প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে। যেমন ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে ম্যানচেস্টার ডার্বি বা লিভারপুল বনাম চেলসি বা আর্সেনাল বনাম টটেনহ্যাম, যাকে বলা হয় “নর্থ লন্ডন ডার্বি”। তেমনি স্প্যানিশ লা লিগায় এল ক্লাসিকো—বার্সেলোনা বনাম রিয়াল মাদ্রিদ বা ঐতিহাসিক মাদ্রিদ ডার্বি (East Bengal – Mohun Bagan Derby)। জার্মানির বুন্দেসলিগায় বায়ার্ন মিউনিখ বনাম বোরুশিয়া ডর্টমুন্ড। এরই সঙ্গে ইতালির সিরি আ-তে জুভেন্টাস বনাম তুরিন এবং বিশ্ববিখ্যাত মিলান ডার্বির কথা তো সকল ফুটবল প্রেমীর নখদর্পণে। এছাড়াও ব্রাজিলের সাও পাওলো বনাম করিন্থিয়ানস আর আর্জেন্টিনার সুপার সুপারক্লাসিকো—বোকা জুনিয়র্স বনাম রিভার প্লেট।

প্রতিটি ম্যাচ শুধু ৯০ মিনিটের ফুটবলের লড়াই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে মান-সম্মান, ঐতিহ্য, স্বীকৃতি, এক বছরের জয়ের আনন্দ, এক বছরের হারের চূড়ান্ত জ্বালা। বন্ধুদের সামনে মুখ বুজে অপমান সহ্য করা।
এমনকি একই ক্লাবকে সমর্থন না করার জন্য বিয়ে পর্যন্ত ভেঙে যাওয়া (East Bengal – Mohun Bagan Derby)। এতটাই গুরুত্বপূর্ণ চরম জায়গায় পৌঁছে গেছে প্রত্যেকটি ডার্বি ম্যাচ।
কিন্তু এই সবের মধ্যে এমন একটি ফুটবল প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, যা বছরের পর বছর, দশকের পর দশক জনপ্রিয়তার তুঙ্গে পৌঁছেছে। এই একটা ম্যাচকে ঘিরে জন্মেছে আবেগ, জয়-পরাজয়ের গ্লানি, আগামী এক বছরের মাথা উঁচু করে চলার রাস্তা। এই ম্যাচের পরেই ঠিক হয়ে যায় কার মাথায় উঠবে সেরার শিরোপা। আগামীকাল বাজারে ইলিশ না চিংড়ি—কোন মাছের বিক্রি হবে সর্বাধিক, সেটাও যেন নির্ভর করে এই ম্যাচের উপর!
এশিয়ার সব থেকে বড় ম্যাচ—ফের গুরুত্বপূর্ণ ডার্বি ম্যাচে মুখোমুখি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান। লাল-হলুদ না সবুজ-মেরুন—কোন রঙে রাঙা হবে ডার্বি, তা জানা যাবে খুব শীঘ্রই।

ইতিহাসের পাতায় (East Bengal – Mohun Bagan Derby)
ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান মানেই আবেগের বিস্ফোরণ—সকাল সকাল পাড়ায় জমিয়ে আড্ডা, তারপর একসঙ্গে খেলা দেখতে যাওয়া। পরের সকালে ম্যাচকে কেন্দ্র করে চূড়ান্ত বিতর্ক, তারপর আবার পরের ডার্বির অপেক্ষা। কিন্তু ইস্টবেঙ্গল বনাম মোহনবাগান সত্যিই কি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী? আসুন সেই উত্তর খোঁজার চেষ্টা করি।
১৯১১ সালের ২৯শে জুলাই, কলকাতা গ্রাউন্ডে অনুষ্ঠিত আইএফএ শিল্ডের ফাইনালে ব্রিটিশ ইস্ট ইয়র্কশায়ার রেজিমেন্টকে ২-১ গোলে পরাজিত করে মোহনবাগান ইতিহাস সৃষ্টি করে (East Bengal – Mohun Bagan Derby)। এই প্রথম কোনো সর্বভারতীয় দল এই মর্যাদাপূর্ণ টুর্নামেন্টটি জয় করে, যেখানে খেলোয়াড়রা সম্পূর্ণ সজ্জিত ব্রিটিশ দলের বিরুদ্ধে খালি পায়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন।
তারপর বাংলার মাটিতে ফুটবলের তুমুল জনপ্রিয়তার পর সবাই মোহনবাগান দলে খেলতে চায়, কিন্তু বাঙালদের সবুজ-মেরুনে কোনো জায়গা নেই। ততদিনে শ্যামপুকুর বনাম মোহনবাগান খুব বড় গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ হয়ে উঠেছিল। বাঙালদের এই অপমানের পর শৈলেশ বসু—যাকে বাদ দেওয়া নিয়ে মতবিরোধের জেরে—অভিবাসী সম্প্রদায়ের জন্য একটি নতুন ক্লাব তৈরি করা হয়।

পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় ১৯২০ সালের ১লা আগস্ট ইস্ট বেঙ্গল ক্লাব প্রতিষ্ঠিত হয়। সুরেশ চন্দ্র চৌধুরী এবং অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের হাতে এর প্রতিষ্ঠা উপলক্ষে ক্লাবটি প্রতি বছর এই দিনে তার প্রতিষ্ঠা দিবস বা ‘জন্মদিন’ উদযাপন করে, যা এটিকে ভারতীয় ক্রীড়া ইতিহাসের একটি বিশিষ্ট অংশ করে তুলেছে (East Bengal – Mohun Bagan Derby)। পরবর্তী কালে সেই ক্লাব হয়ে দাঁড়ায় বাঙাল দের ঐতিহ্য ও গর্বের পীঠহস্থান
শৈলেশ বসুকে অপমানের কারণেই ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগানের মধ্যে তুমুল গণ্ডগোল শুরু হয়। খেলোয়াড় নির্বাচন হোক কিংবা বিদেশি আনা বা ময়দানের দখল—প্রত্যেকটি বিষয়কে কেন্দ্র করেই দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে, চলবে।

যে জিতবে ডার্বি সেই পাবে লিগ? (East Bengal – Mohun Bagan Derby)
জাতীয় লিগ থেকে শুরু করে ফেডারেশন কাপ বা সিকিম গোল্ড কাপ কিংবা আইএফএ শিল্ড বা দার্জিলিং কাপ, রোভার্স কাপ বা আজকের ইন্ডিয়ান সুপার লিগ—বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় একে অপরের বিরুদ্ধে গর্জে উঠেছে দুই দল। রেফারির বাজে সিদ্ধান্ত হোক কিংবা ১৯৮০ সালের ১৬ আগস্টের দিনকে মর্মান্তিক মৃত্যুর জন্য ১৬ জন ফুটবল প্রেমীর বলিদান—সব কিছুই এই ম্যাচকে ঘিরে তৈরি।
এবারের পয়েন্টস টেবিলের দিকে নজর রাখলে দেখা যাচ্ছে দুই দলের মধ্যে লড়াই একদম জমে উঠেছে। দুই দলই ১১টি ম্যাচ খেলে ফেলেছে, সেখানে দুই দলের প্রাপ্ত নম্বর ২২। লাল-হলুদ দ্বিতীয় স্থানে আর সবুজ-মেরুন তৃতীয় স্থানে রয়েছে (East Bengal – Mohun Bagan Derby)। এর মানে, ডার্বি যে জিতবে কার্যত এবারের আইএসএলের মুকুট সেই দলের মাথাতেই উঠবে। গোলের ব্যবধান ও বড় গুরত্ব হয়ে উঠে পারে। তাই এবারের ডার্বিকে ঘিরে উত্তেজনা, উন্মাদনা একদমই চরমে—ডার্বির জ্বরে কাবু গোটা বাংলা।
Asansol: পাথর ছোঁড়া ও ভাঙচুরে উত্তপ্ত আসানসোল উত্তর@SuvenduWB @paulagnimitra1 @BJP4Bengal @bengalliberty1 @MamataOfficial @abhishekaitc @AITCofficial #westbengalcm #westbengalnews #agnimitrapaul #suvenduadhikari #bjpwestbengal #mamatabanerjee #abhishekbanerjee #tmcwestbengal pic.twitter.com/utfPGXiP0X
— Bengal Liberty (@bengalliberty1) May 16, 2026
কেন এবারের ডার্বি গুরুত্বপূর্ণ (East Bengal – Mohun Bagan Derby)
এর আগেও আইএসএলে বহুবার মুখোমুখি হয়েছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী, কিন্তু সেবারে ডার্বির সেই উন্মাদনা চোখে পড়েনি। ইস্টবেঙ্গল আইএসএলে যুক্ত হওয়ার পর একদমই ভালো প্রদর্শন করতে পারেনি। উল্টোদিকে মোহনবাগান পরপর ট্রফি জিতেছে, তাই এবারের ডার্বি দুই দলের কাছেই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইস্ট-মোহন মুখোমুখির পরিসংখ্যান (East Bengal – Mohun Bagan Derby)
এখনও পর্যন্ত ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান সমস্ত প্রতিযোগিতা মিলিয়ে মোট ৪০৭ বার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে। সেখানে লাল-হলুদের পাল্লা ভারি—৪০৭ বারের মধ্যে ১৪৪টি জিতেছে ইস্টবেঙ্গল আর ১৩৪ বার জয়ের মুখ দেখেছে মোহনবাগান। ১২৯ বার ড্র হয়েছে।
ডার্বির সর্বাধিক গোলস্কোরার বাইচুং ভুটিয়া: ১৯টি গোল, আর চিমা ওকোরি মোট ১৬টি গোল করেছেন।
সর্বোচ্চ স্কোরের ব্যবধান: ইস্ট বেঙ্গল ৫–০ মোহনবাগান (আইএফএ শিল্ড ফাইনাল, ৩০ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫)।
সর্বোচ্চ স্কোরের ম্যাচ: মোহনবাগান ৫–৩ ইস্টবেঙ্গল (আই-লিগ, ২৫ অক্টোবর ২০০৯)।
টুটু বসুর মর্মান্তিক প্রয়াণের পর আগামীকাল মুখোমুখি দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। মাঠে উপস্থিত থাকতে পারেন ক্রীড়ামন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক।
কি হবে ডার্বির ফলাফল? কার মুখে ফুটবে জয়ের হাসি? কে হবে সেরার সেরা? এই সব প্রশ্নের উত্তর মিলবে আগামীকাল। ততক্ষণ অবধি চলতে থাকুক সেই বিতর্ক।
