Sandeshkhali controversy
নিজস্ব সংবাদদাতা, সন্দেশখালি:
শেখ শাহজাহান ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত সন্দেশখালি ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল কংগ্রেসের সহ-সভাপতি শ্রীদাম হাউলীকে গ্রেফতার করল সন্দেশখালি থানার পুলিশ। সোমবার গভীর রাতে সন্দেশখালির তুষখালী এলাকা থেকে তাঁকে আটক করা হয়। মঙ্গলবার সকালে তাঁর গ্রেফতারের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।

ঘটনার সূত্রপাত
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, শ্রীদাম হাউলীর বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ দীর্ঘদিন ধরেই ছিল। দাঙ্গা, মারধর, খুনের চেষ্টা, নারী নির্যাতন এবং সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার মতো একাধিক মামলায় তাঁর নাম জড়িয়েছে বলে দাবি পুলিশের। তদন্তকারী আধিকারিকদের বক্তব্য, বিভিন্ন সময়ে এলাকায় হিংসাত্মক ঘটনায় তাঁর সক্রিয় ভূমিকার অভিযোগ উঠেছিল। সেই সব মামলার তদন্তে নেমেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশের দাবি, ২০১৫ সালে ভিড়ি দখলকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনাতেও শ্রীদাম হাউলীর নাম উঠে আসে। পরে ২০২০ সালে করোনা মহামারীর সময় সরকারি বিধিনিষেধ অমান্য করে জমায়েত করা এবং পুলিশ কর্মীদের উপর হামলার অভিযোগেও তাঁর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হয়। সেই মামলায় ভারতীয় দণ্ডবিধির একাধিক ধারার পাশাপাশি ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টেও অভিযোগ আনা হয়েছিল।

এছাড়াও চলতি বছরের শুরুতে সন্দেশখালি থানায় দায়ের হওয়া একটি মামলাতেও তাঁর বিরুদ্ধে হিংসাত্মক কার্যকলাপে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, সন্দেশখালি থানার মামলা নম্বর ০৬/২৫, তারিখ ৮ জানুয়ারি ২০২৫-এ ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১২৬(২), ১১৫(২), ১১৭(২), ৩৫১(২) এবং ৩(৫) ধারায় মামলা রুজু হয়। পাশাপাশি ২০২০ সালের মামলা নম্বর ৮৪/২০২০-এ ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৪১, ১৮৬, ১৮৮, ২৬৯, ২৭০, ৩২৫, ৩৩২, ৩৫৩ ও ৩৪ ধারার সঙ্গে ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অ্যাক্টের ৫১(বি) ধারায় অভিযোগ দায়ের হয়েছিল।
ধৃত তৃণমূল নেতাকে মঙ্গলবার বসিরহাট মহকুমা আদালতে তোলা হতে পারে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে। যদিও এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও প্রতিক্রিয়া মেলেনি।
