East bengal winner
Bengal Liberty, ২১ মে ২০২৬ :
কিশোর ভারতী ক্রীড়াঙ্গনে রেফারির শেষ বাঁশি বাজতেই খেলোয়াড় আর সমর্থকদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস, উত্তেজনা, উন্মাদনা, চোখের জলে প্রথম বারের জন্য আইএসএলের চ্যাম্পিয়ন হলো ইস্টবেঙ্গল। দীর্ঘ ২২ বছরের ইয়ার্কি, গ্লানি, কুৎসা সমস্ত খারাপ স্মৃতিকে পিছনে ফেলে করে দেখাল লাল-হলুদ শিবির(Eastbengal ISL Win)। গোটা বাংলা জুড়ে এখন একটাই স্লোগান, জয় ইস্টবেঙ্গল, জয় ইস্টবেঙ্গল। ইন্টার কাশীকে রুদ্ধশ্বাস ২-১ গোলে পরাজিত করে নিজেদের নাম অমর করে দিল ইউসেফ ইজেজ্জারি, বিপিন সিং, রাশিদ রা। আইএসএলের ইতিহাসে এতটা রোমাঞ্চকর প্রতিযোগিতা কোনো মরসুমেই দেখা যায়নি শেষ দিনেও পাঁচটি দল লড়াই চালিয়েছে। চূড়ান্ত নাটকের মধ্যেই সবার মুখ বন্ধ করে ইন্ডিয়ান সুপার লীগের জয়ের মুকুট উঠল লাল-হলুদ শিবিরের মাথায়।
মোহনবাগান একাদশ স্থানে থাকা দিল্লির বিরুদ্ধেও জিতে ব্যর্থ হলো। ১-১ ড্র করেই লজ্জাজনক নজির সৃষ্টি করে দ্বিতীয় স্থানেই রয়ে গেল। গোল পার্থক্য, দুর্দান্ত প্রদর্শন, কোচের গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজি সব মিলিয়ে ২২ বছরের অভিশাপের ইতি ঘটল। ফের লীগের রং হলো লাল-হলুদ। কোটি কোটি লাল-হলুদ সমর্থকদের স্বপ্ন আজ সত্যি হলো।

কঠিন লড়াই, তবুও জয়ী ইস্টবেঙ্গল :
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণের ঝাঁজ বৃদ্ধি করে দুই তরফ থেকেই সমানভাবে আক্রমণ চলছিল। এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে ম্যাচের ১৪ মিনিটেই এগিয়ে যায় ইন্টার কাশী। আলফ্রেড প্লানাসের দুর্দান্ত শট পি. এস. গিল রুখতে ব্যর্থ হন।
কিন্তু ১-০ পিছিয়ে গেলেও গঠনমূলক কৌশলের মধ্য দিয়েই সফলতা অর্জন করেছে অস্কারের ছেলেরা। তারপরেই ম্যাচের ৪৯ মিনিটে গোল্ডেন বুট জয়ী স্ট্রাইকার ইউসুফ এজেজ্জারি গোলে সমতা ফেরায় ইস্টবেঙ্গল। তারপরেও লড়াই চালিয়ে গেছে ইন্টার কাশী। শেষ অবধি ৭২ মিনিটে রাশিদের পায়ে জাদুর মতো জয়সূচক গোলটি করে আইএসএল চ্যাম্পিয়ন হয়ে যায় ইস্টবেঙ্গল। বেশ কিছুক্ষণ লড়াই চালিয়ে যাওয়ার পর রেফারির শেষ বাঁশিতে ম্যাচ শেষ হয়। সেরার সেরা গর্বের ইস্টবেঙ্গল।
ম্যাচ শেষ হতেই উৎসবের মেজাজে লাল-হলুদ সমর্থকরা। মুখ লুকিয়ে চলার দিন শেষ, এবার আনন্দের সঙ্গে খুশির মুডে বলবে, আমরাই ভারতসেরা, আমরাই ইস্টবেঙ্গল।

আশ্চর্য কাকতালীয় ঘটনা :
২০০৪ সালেই শেষ বারের জন্য চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দুই দল। আবার ২২ বছর পর ফের চ্যাম্পিয়ন দুই দল। ফুটবলে এরকম কাকতালীয় ঘটনা খুবই কম দেখা যায়। ২০০৪ সালে আর্সেনাল শেষ বারের জন্য ইংলিশ প্রিমিয়ার লীগ জয় করেছিল। ঠিক একই বছরে জাতীয় লীগ ও আসিয়ান ট্রফি জিতেছিল কিংবদন্তি খেলোয়াড় ও কোচ সুভাষ ভৌমিকের ইস্টবেঙ্গল। তারপর দীর্ঘ ২২ বছর সফলতা আসেনি, কিন্তু আবার একসঙ্গেই ট্রফি জিতল দুই ঐতিহাসিক দল। যা ফুটবলের ইতিহাসে নতুন নজির সৃষ্টি করল।

ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল
লীগের কাছে এসেও লীগ হাতছাড়া হয়েছে, দ্বিতীয় স্থানে শেষ করা হোক, একাধিক কোচ বদল, স্পনসর নিয়ে ঝামেলা, দলের অন্দরেই ক্ষোভের তীব্র বহিঃপ্রকাশ। ২০২০-২১ মরসুমে আইএসএলে ইস্টবেঙ্গলের যুক্ত হওয়া, তারপরেও চূড়ান্ত ব্যর্থতা। কিন্তু গঠনমূলক পরিস্থিতি, সঠিক রক্ষণভাগ, কোচের অসাধারণ কৌশলের জোরেই আজ ভারতসেরা ইস্টবেঙ্গল। আবারও প্রমাণিত, লড়াই করেই এগিয়ে যেতে হয়। জীবন হোক কিংবা খেলার মাঠ, লড়াই ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।
