TMC Scam এবং নেতারা
তিতলি কর্মকার, Bengal Liberty: ২০২২ থেকে শুরু হয়েছে তৃণমূল নেতাদের গ্রেফতারি (TMC Scam)। ২৫-এ দাঁড়িয়েও তা অব্যাহত।
রাজ্যের নামজাদা মন্ত্রী, বিধায়করা দুর্নীতির দায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার জালে ধরা পড়লেন। ইতিমধ্যে কেউ জামিন পেয়েছেন। কেউ আছেন জেলে। কেউ আবার ছাড়া পেয়েও দ্বিতীয়বারের জন্য শ্রীঘরের টিকিট কেটে ফেলেছেন। এখানেও গপ্পো আছে। অভিযোগ উঠেছে, সংশোধনাগারের ভিতর অনেক নেতা নিজের প্রভাব খাটিয়ে মাংস খাচ্ছেন, ফোনে নেতৃত্বের সঙ্গে কথা বলে মুক্তির রাস্তা নির্মাণ করছেন।
কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হাতে গ্রেফতার হয়েছেন কারা? আসুন দেখে নেওয়া যাক।
গরু পাচার করতে গিয়ে ধরা পড়ল বাঘ (TMC Scam)
প্রথমেই আসা যাক বীরভূমের দোর্দণ্ডপ্রতাপ নেতা অনুব্রত মণ্ডলের প্রসঙ্গে। রাজ্যের তথাকথিত বাঘ এবং বীর কেষ্টর এক হাঁকে লালমাটির দেশে গরু-সিংহের বন্ধুত্ব হয়। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার দৌলতে ‘নকুলদানাখেকো’ বাঘকে আমরা খাঁচায় বন্দি হতে দেখেছি। অবশ্য, তদন্তকারী অফিসারদের সক্রিয়তায় আজ কেষ্ট বাড়িতে বসে পুলিশের মা, স্ত্রীকে গালাগালি করছেন। প্রসঙ্গত, ২০২২-এর ১১ আগস্ট। বীরভূমের বাঘ ‘গরু পাচার’ মামলায় অভিযুক্ত হন।
শ্রীপান্থর ‘কালিকলম’ গল্পে উল্লেখ ছিল, গরুকে অক্ষর খাওয়ানো নাকি পাপ। এ রাজ্যের মন্ত্রীরাও গরু-শিক্ষা কিছুই খেতে বাদ রাখছেন না। সব কিছুই রীতিমতো গিলে হজম করে ফেলেছেন। বাদ পড়ছে না ব্যালট পেপারও।
গরু পচারের পর এবার আসি শিক্ষা ক্ষেত্রে নিয়োগ দুর্নীতির প্রসঙ্গে। শিক্ষকেরা সমাজ গড়ার কাজে বিরাট ভূমিকা পালন করে থাকেন। শিক্ষা একটি রাষ্ট্রের মেরুদণ্ড। দেশ বা রাজ্যে সুশাসন নিশ্চিত করে এই শিক্ষাব্যবস্থা। তবে সেই রাষ্ট্রের চালকরা যদি শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে দুর্নীতি করে বসেন? চাকরিহারা মাস্টারমশাইদেরকে পুলিশ দিয়ে লাথি মারানো হয়? হ্যাঁ, এটাই ঘটছে গোটা পশ্চিমবঙ্গ জুড়ে।
অপা-র হাতে অলিবাবার গুহা (TMC Scam)
শিক্ষা দুর্নীতিতে সরাসরি অভিযুক্ত খোদ তৎকালীন শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়। মিলেমিশে টাকা খেয়েছেন তাঁর ঘনিষ্ট বান্ধবীও।
৩ বছর আগে চলে যেতে হবে পাঠকদের। একেবারে টাইমমেশিনে চেপে সোজা ফ্ল্যাশব্যাকে গেলেই পৌঁছে যাবেন ২০২২ সালের ২২ জুলাই দিনটিতে। দেখতে পাবেন পার্থ-অর্পিতার টাকার পাহাড়। যা গুনতে গিয়ে হাঁপিয়ে ওঠে নোট গোনার মেশিনগুলোও। সাংবাদকর্মীরা এক-এক করে টাকার পরিমান জানাচ্ছেন মানুষকে। আর দর্শকরা মাথায় হাত দিয়ে বলে যাচ্ছেন― ‘এত টাকা? এত বড়?’

এখানেই শেষ নয় শাসক শিবিরের আরও এক বিধায়কের নাম জড়িয়েছিল এই শিক্ষা দুর্নীতিতে। তৎকালীন প্রাথমিক শিক্ষা পর্ষদের প্রাক্তন সভাপতি তথা পলাশিপাড়ার তৃণমূল বিধায়ক মানিক ভট্টাচাৰ্য। যিনি এখন জেল থেকে ছাড়া পেয়ে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। এখন তাঁর পায়ে চোট আছে। কিন্তু, ফুরফুরে মন। যদিও আজ জীবনকৃষ্ণ সাহার গ্রেফতারি দেখে তিনি একইরকম আছেন কি-না, জানার ইচ্ছে থাকল। ২০২২ সালের ১১ অক্টোবর। শিক্ষা দুর্নীতির অভিযোগে মানিকবাবু ইডির হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্রীয় পরিকাঠামোর কথা ভেবে প্রত্যেক রাজ্যের সরকারের উচিত জনগণের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, খাদ্যের অভাব পূরণ করা। মানুষ তো এই জন্যই ভোট দেন। EVM-মেশিনের বোতাম টিপে গণদেবতা সরকার নির্বাচন করেন কেন জানেন? যাতে সরকার রাজ্য বা দেশ চালায়, আর তাঁরা সঠিকভাবে সংসার পরিচালনা করতে পারেন।
‘বালু’কা বেলায় খাদ্যতেও লুঠ (TMC Scam)
ভারত সরকার Food Corporation of India (FCI)-র মাধ্যমে খাদ্যশস্য সরবরাহ হয়। তারপর রাজ্য সরকারগুলোকে প্রাপ্য বরাদ্দ দেয় তারা। দু’বছর আগে এই রেশন বণ্টন দুর্নীতির মামলায় গ্রেফতার হন জ্যোতিপ্ৰিয় মল্লিক (বালু)। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, খাদ্য দফতরের দায়িত্বে থাকাকালীন, নির্বিচারে রেশন দুর্নীতি চালিয়ে গিয়েছেন তিনি।
শেষে আবারও শিক্ষা ব্যবস্থার দুর্নীতির দিকে আলোকপাত করা যাক। আবারও এসএসসি দুর্নীতির কেসে গ্রেফতার বড়ঞার তৃণমূল বিধায়ক জীবন কৃষ্ণ সাহা। এর আগেও তিনি সিবিআই-এর হাতে গ্রেফতার হয়েছিলেন। কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা যতবারই তাঁর বাড়িতে তল্লাশি চালাতে গিয়েছে, ততবারই নানা নাটকীয় মুহূর্তের সাক্ষী হয়েছেন অফিসার থেকে শুরু করে রাজ্যের মানুষ। সোমবার যে লুকোচুরি খেলা খেললেন জীবন, সেটাই কি ‘খেলা হবে’ স্লোগানের প্রকৃত বার্তা বহন করছে?
